আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) দ্বারস্থ হয়েছে মিশর। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের সুবাস পেয়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয় ফারাওদের। তবে এই হারকে কেবলই মাঠের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে না উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচ পরিচালনায় গুরুতর পক্ষপাতিত্ব এবং ম্যাচ কারচুপির (স্পট ফিক্সিং) অভিযোগ এনে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন (EFA)।
Table of Contents
জয়ের দোরগোড়া থেকে অবিশ্বাস্য বিপর্যয়
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল মিশর। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষ মুহূর্তের ঝোড়ো আক্রমণে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ আট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনার এই রূপকথার জয়ের চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে ম্যাচের রেফারিং বিতর্ক। মিশরের দাবি, রেফারির কয়েকটি একপেশে ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তই তাদের নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করেছে।
ফিফায় হানি আবু রিদার লিখিত চিঠি
ম্যাচ শেষ হতেই মিশর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ে এবং তার সহকারী রেফারিদের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মিশরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন তাদের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে এবং অত্যন্ত স্পষ্ট একটি পেনাল্টির আবেদন কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলো ভুলবশত নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিশরের বিদায় নিশ্চিত করার জন্যই নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মিশরীয় ফেডারেশন এই বিষয়ে ফিফার কাছ থেকে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
‘ব্যবসার জন্য মেসি ও আর্জেন্টিনাকে রাখা হচ্ছে’
এর আগে মাঠেই ক্ষোভ উগরে দেন মিশরের তারকা মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো, যার করা একটি গোল রেফারি বাতিল করেছিলেন। জিকো সরাসরি রেফারির আচরণকে পক্ষপাতমূলক বলে অভিহিত করেন।
ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন:
“রেফারি সরাসরি ম্যাচ কারচুপি করেছেন। ফিফা স্রেফ ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং বাজার ধরে রাখার জন্য লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে এই বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে চায়। আর সেই এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করেছেন রেফারি।”
মিশরীয় ফেডারেশন তাদের অভিযোগে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে এবং ‘ফারাও’দের বিপক্ষে যাওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ফিফার পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিতর্কিত ফরাসি রেফারি লেটেক্সিয়েকে চলতি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে রেফারিং নিয়ে ঘনীভূত সংকট
চলতি বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। মিশরের এই কঠোর পদক্ষেপের আগে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফাও (UEFA) চলতি টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত ও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফুটবল বিশ্লেষক ও সমালোচকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সামগ্রিক মান দিন দিন সংকটের মুখে পড়ছে, যা ফুটবলের মতো একটি বৈশ্বিক খেলার স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তিকে গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
