আর্সেনাল সমর্থকেরা চাইলে গায়ে চিমটি কেটেই দেখতে পারেন—এটা কি সত্যি, নাকি বহুদিনের লাল-সাদা স্বপ্ন হঠাৎ রঙিন হয়ে ধরা দিয়েছে! কারণ, ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের মঞ্চে মিকেল আরতেতার দল যে পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছে, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকতে পারে। কিন্তু সংখ্যার ভাষা, মাঠের ছন্দ আর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল—সব মিলিয়ে এটাকে আর কাকতালীয় বলা যায় না।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২৩ ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা কোনো দলকে ‘ইদানীং ভালো করছে’ বলা আসলে ভুলই হবে। এ ধরনের ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠে দীর্ঘ প্রস্তুতি, স্পষ্ট কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমে। সেই ধারাবাহিকতার সঙ্গে এবার যেন সোনায় সোহাগা হয়ে যোগ হয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের পারফরম্যান্স। প্রতিযোগিতার লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে কাজাখস্তানের ক্লাব কাইরাতকে ৩–২ গোলে হারিয়ে আর্সেনাল শুধু আরেকটি জয়ই পায়নি, বরং লিগ পর্বে আট ম্যাচের আটটিতেই জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ‘পারফেক্ট ক্যাম্পেইন’ বলতে যা বোঝায়, আর্সেনাল এখন তারই প্রতিচ্ছবি। লিগ পর্বে দলটি সর্বোচ্চ ২৩ গোল করেছে এবং হজম করেছে মাত্র ৪টি—দুই দিক থেকেই প্রতিযোগিতার সেরা পরিসংখ্যান। এই সাফল্যের রাতটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে মিকেল আরতেতার জন্য ব্যক্তিগত এক মাইলফলকের কারণে। আর্সেনাল কোচ হিসেবে তাঁর ৩২৬তম ম্যাচেই আসে ২০০তম জয়—যা তাঁর কোচিং দর্শন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের সার্থকতার স্পষ্ট প্রমাণ।
৩৬ দল নিয়ে নতুন ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় মৌসুমেই প্রথম দল হিসেবে লিগ পর্বে সব ম্যাচ জেতার কৃতিত্বও এখন আর্সেনালের। একই সঙ্গে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা অন্তত আট ম্যাচ জয়ের নজির গড়েছে গানাররা। স্মরণ করা যায়, ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ ম্যাচ জিতেছিল গার্দিওলার সিটি—সেই মানদণ্ডে আর্সেনালের এই অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
কাইরাত ম্যাচের পর আরতেতার কণ্ঠে ছিল তৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাসের মিশেল। তিনি জানালেন, পরের ধাপ—শেষ ষোলো—এখন মূল লক্ষ্য। মার্চে শুরু হওয়া নকআউট পর্বে লিগ পর্বে শীর্ষ দুইয়ে থাকায় প্রতিটি ধাপেই ফিরতি লেগ ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাবে আর্সেনাল, যা বড় ম্যাচে মানসিক ও কৌশলগত দিক থেকে বিশাল প্রাপ্তি।
এই ম্যাচে আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় ছিল কাই হাভার্টজের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে দীর্ঘ ৩৫৭ দিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকা জার্মান তারকা গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। আরতেতা স্পষ্টই জানালেন, মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে হাভার্টজ আর্সেনালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
নিচের টেবিলে আর্সেনালের চ্যাম্পিয়নস লিগ লিগ পর্বের পারফরম্যান্স সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| ম্যাচ | ৮ |
| জয় | ৮ |
| গোল scored | ২৩ |
| গোল conceded | ৪ |
| গোল ব্যবধান | +১৯ |
| ক্লিন শিট | ৪ |
| আরতেতার মোট জয় | ২০০ (৩২৬ ম্যাচে) |
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন আর “স্বপ্ন নাকি সত্যি?”—বরং “এই আর্সেনাল কতদূর যেতে পারে?” সময়ই তার উত্তর দেবে, তবে সমর্থকদের বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ ইতিমধ্যেই দিয়ে রেখেছে আরতেতার দল।
