শেষ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। এমন অবস্থায় ম্যাচটা প্রায় নিজেদের করে নিয়েছিল তারা—প্রথম চার বলেই তুলে নেয় ২৩ রান। কিন্তু শেষ দুই বলে দুর্দান্ত বোলিং করে পাকিস্তানের আব্দুল সামাদ ফেরালেন ভাগ্যের চাকা। এক রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল পাকিস্তান।
রবিবার হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টের সেমি–ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপার একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে পাকিস্তান দল। হংকংয়ের মংকংয়ের মিশন রোড মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২ উইকেটে ১২১ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া থামে ৫ উইকেটে ১২০ রানে।
পাকিস্তানের ইনিংস
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন দুই ওপেনার—আব্দুল সামাদ ও খাজা নাফে।
সামাদ মাত্র ১৩ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৩৪ রান।
অন্যদিকে খাজা নাফে খেলেন বিস্ফোরক এক ইনিংস—১৪ বলে ৫০ রান, যেখানে ছিল ১টি চার ও ৭টি ছক্কা।
অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদিও দলকে দ্রুত রান তোলায় সাহায্য করেন, ৫ বলে ৩ ছক্কায় ১৯ রান করেন তিনি।
| ব্যাটসম্যান | বল | রান | চার | ছক্কা |
|---|---|---|---|---|
| খাজা নাফে | 14 | 50 | 1 | 7 |
| আব্দুল সামাদ | 13 | 34 | 2 | 4 |
| আব্বাস আফ্রিদি (অধি.) | 5 | 19 | 0 | 3 |
অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩২ রান ওঠার আগেই তারা হারায় ৩ উইকেট।
তবে অধিনায়ক অ্যালেক্স রস ও ক্রিস গ্রিনের জুটি ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
রস ৮ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৩৬ রান।
ক্রিস গ্রিন খেলেন ১২ বলে ৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যাতে ছিল ৩ চার ও ৫ ছক্কা।
শেষ দিকে অ্যান্ড্রু টাই চেষ্টা করলেও (৫ বলে ১০ রান) জয় পায়নি অস্ট্রেলিয়া। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২ রান—সেখানেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন সামাদ।
| ব্যাটসম্যান | বল | রান | চার | ছক্কা |
|---|---|---|---|---|
| ক্রিস গ্রিন | 12 | 46 | 3 | 5 |
| অ্যালেক্স রস (অধি.) | 8 | 36 | 3 | 4 |
| অ্যান্ড্রু টাই | 5 | 10 | 0 | 0 |
ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ
প্রথম সেমি–ফাইনালে জয় পেয়ে ফাইনালে উঠে গেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেমি–ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও কুয়েত। এই ম্যাচের জয়ীর বিপক্ষেই শিরোপা লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তান।
দারুণ ফর্মে থাকা খাজা নাফে ও আব্দুল সামাদের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান এখন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। একইসঙ্গে দলের বোলাররাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার যোগ্যতা দেখিয়েছেন, যা ফাইনালের আগে বাড়িয়ে দিচ্ছে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও কয়েক গুণ।
