আইপিএল নিলাম বরাবরই অপ্রত্যাশিত চমকের মঞ্চ। তবে ২০২৫ মৌসুমের নিলামে মোস্তাফিজুর রহমান যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাঁহাতি এই পেসারকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আইপিএলে মোস্তাফিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এটি শুধু সর্বোচ্চ দামই নয়, বরং তাঁর ক্রিকেটজীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এর আগে মোস্তাফিজ কখনোই আইপিএল নিলামে এত বড় অঙ্কে বিক্রি হননি। ২০১৮ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস তাঁকে দলে নিয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে—যা দীর্ঘদিন ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য। এরপর রাজস্থান, দিল্লি ও চেন্নাইয়ের হয়ে খেলার সময় তাঁর দাম ঘুরপাক খেয়েছে এক থেকে দুই কোটি রুপির মধ্যেই। এমনকি কোনো কোনো মৌসুমে নিলামে তাঁকে নিয়ে তেমন আগ্রহ না থাকায় দলহীন থাকার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। সেই বাস্তবতার তুলনায় ২০২৫ সালের নিলামে ৯ কোটির বেশি দামে বিক্রি হওয়া সত্যিই নাটকীয় উত্থান।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মোস্তাফিজের অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট দক্ষতা। বিশেষ করে ডেথ ওভারে বোলিং—যেখানে বৈচিত্র্য, ধীরগতির বল ও নিখুঁত লেংথ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই জায়গায় মোস্তাফিজ এখনও বিশ্বমানের বোলার হিসেবে বিবেচিত। আইপিএলে আট মৌসুমে ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নেওয়া তাঁর সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চাপের সময়ে রান নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, যা টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে অমূল্য।
মোস্তাফিজের আইপিএল যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মাধ্যমে। অভিষেক মৌসুমেই তিনি ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নেন এবং ইকোনমি ছিল মাত্র ৬.৯০। সেই পারফরম্যান্সে হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। একই সঙ্গে জিতে নেন আইপিএলের ‘উদীয়মান খেলোয়াড়’ পুরস্কার—যা এখনো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সে ওঠানামা ছিল। কোথাও নিয়মিত সুযোগ পেয়েছেন, কোথাও সীমিত ম্যাচেই থেমে থাকতে হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নেওয়া প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবহারে তিনি এখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে সক্ষম। সেই পারফরম্যান্সই সম্ভবত ২০২৫ নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
সব দিক বিবেচনায়, কলকাতা নাইট রাইডার্সের দেওয়া এই রেকর্ড মূল্য আসলে মোস্তাফিজের অভিজ্ঞতা, বিশেষায়িত দক্ষতা এবং টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য ডেথ বোলারের চাহিদার প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, এই প্রত্যাশার ভার তিনি মাঠে কতটা সফলভাবে বহন করতে পারেন।
আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমান: মৌসুমভিত্তিক তথ্যচিত্র
| বছর | দল | নিলাম মূল্য (কোটি রুপি) | ম্যাচ | উইকেট | ইকোনমি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ২০১৬ | সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | ১.৪ | ১৬ | ১৭ | ৬.৯০ | আইপিএল উদীয়মান খেলোয়াড় |
| ২০১৮ | মুম্বাই ইন্ডিয়ানস | ২.২ | ৭ | ৭ | ৮.৩৬ | ২০২৫–এর আগে সর্বোচ্চ দাম |
| ২০২১ | রাজস্থান রয়্যালস | ১.০ | ১৪ | ১৪ | ৮.৪১ | ধারাবাহিক প্রত্যাবর্তন |
| ২০২২ | দিল্লি ক্যাপিটালস | ২.০ | ৮ | ৮ | ৭.৬২ | স্থিতিশীল পারফরম্যান্স |
| ২০২৩ | দিল্লি ক্যাপিটালস | ২.০ | ২ | ১ | ১১.২৯ | সীমিত সুযোগ |
| ২০২৪ | চেন্নাই সুপার কিংস | ২.০ | ৯ | ১৪ | ৯.২৬ | সাম্প্রতিক সেরা মৌসুম |
| ২০২৫ | কলকাতা নাইট রাইডার্স | ৯.২ | — | — | — | রেকর্ড নিলাম মূল্য |