মালয়েশিয়ার ক্রিকেট হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নয়, তবে সেই ক্রিকেটকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন এক তরুণ স্পিন অলরাউন্ডার—বীরানদীপ সিং। ক্রিকেট বিশ্বে সুদূর প্রাচ্যের এই অজানা নায়ক এবার ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে তৈরি করলেন এমন এক রেকর্ড, যা ইংল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট দেশগুলোও এখনো অর্জন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ করলেন ৩০০০ রান এবং ১০০ উইকেট—একই সঙ্গে ব্যাট ও বলের এমন অবিশ্বাস্য দাপট আর কেউ দেখাতে পারেননি।
এই মাইলফলক তিনি ছুঁয়েছেন কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মিনি এসইএ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাহরাইনের বিপক্ষে ম্যাচে। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই তাঁর উইকেট সংখ্যা ছিল ৯৯, আর মাত্র একটি উইকেট পেলেই শতকের ক্লাবে পৌঁছে যেতেন। কিন্তু বীরানদীপ সেখানে থেমে থাকেননি—স্পিন জাদুতে তুলে নেন এক ম্যাচে ৩ উইকেট। আর ব্যাট হাতে খেলেন কার্যকর ২৩ রানের ইনিংস, যার ফলে মালয়েশিয়া জয় তুলে নেয় ৪ উইকেট হাতে রেখে।
এ বছরের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সামোয়ার বিপক্ষে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রবেশ করেন ৩০০০ রানের এলিট ক্লাবে। যদিও ক্রিকেট পরাশক্তির বাইরে থাকা কোনো দেশের ক্রিকেটারের এমন অর্জন অনেককেই বিস্মিত করেছে। কিন্তু এই বিস্ময়ই তাঁর সাফল্যের মূল মূল্য। কারণ তিনি প্রমাণ করলেন—ক্রিকেটে নায়ক হওয়ার জন্য শিরোপা নয়, প্রয়োজন দক্ষতা, অধ্যবসায় এবং ধারাবাহিকতা।
তবে তাঁর রেকর্ড এখন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। জিম্বাবুইয়ান সুপারস্টার সিকান্দার রাজা খুব কাছে চলে এসেছেন তাঁর দিকে। রাজা এখন পর্যন্ত টি–টোয়েন্টিতে করেছেন ২৮৪৬ রান এবং নিয়েছেন ১০২ উইকেট। মাত্র ১৫৪ রান করলেই রাজা বীরানদীপের পাশে দাঁড়াবেন একই মঞ্চে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
অন্যদিকে, টি–টোয়েন্টিতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কিংবদন্তি সাকিব আল হাসান ও আফগান তারকা মোহাম্মদ নবীর নামও রয়েছে। দুজনই ২০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ক্লাবে সেরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে সাকিব এখন এই ফরম্যাটে বিদায় নিয়েছেন। নবী বয়স ৪০ পেরিয়েও খেলছেন, সংগ্রহ করেছেন ২৪১৭ রান এবং ১০৪ উইকেট।
একটি দেশ, যে দেশ ক্রিকেট বৈশ্বিক মানে এখনও উঠতে পারেনি, সেই দেশ থেকেই উঠে আসা এই প্রতিভা দেখিয়ে দিয়েছেন— আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারকা হতে বড় দেশের প্রয়োজন নেই। এই অর্জন শুধু মালয়েশিয়ার নয়, এটি ধারাবাহিকতা, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের জয়।
