আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনালে ১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত মরক্কো–সেনেগাল ম্যাচে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) দুই দলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি বুধবার জানায়, মোট ১০ লাখ ডলার (প্রায় ১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা) জরিমানা আর কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র আফ্রিকান টুর্নামেন্টে কার্যকর হবে; জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এর কোনো প্রভাব নেই।
ফাইনালে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যখন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও স্বাগতিক মরকোর পক্ষে শেষ মিনিটে দেওয়া পেনাল্টির প্রতিবাদে তার খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে তুলে নেন। এ ওয়াকআউটের কারণে ম্যাচ প্রায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকে। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলেও মরক্কো সেই পেনাল্টি মিস করে এবং অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয়ে আফ্রিকান শিরোপা জিতে নেয়।
সিএএফ কর্তৃক আরোপিত জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত হলো:
| দল/ব্যক্তি | শাস্তি | আর্থিক জরিমানা (ডলার) | কার্যকাল |
|---|---|---|---|
| সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে জরিমানা | 615,000 | – |
| মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে জরিমানা | 315,000 | – |
| পাপে থিয়াও (সেনেগাল কোচ) | পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ, ওভারটেমে মাঠ ত্যাগ | 100,000 | আফ্রিকান টুর্নামেন্ট |
| ইলিমান এনদিয়ায়ে (সেনেগাল) | দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ | – | আফ্রিকান টুর্নামেন্ট |
| ইসমাইলা সার (সেনেগাল) | দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ | – | আফ্রিকান টুর্নামেন্ট |
| আশরাফ হাকিমি (মরকো) | দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ | – | আফ্রিকান টুর্নামেন্ট |
| ইসমায়েল সাইবারি (মরকো) | তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ | 100,000 | আফ্রিকান টুর্নামেন্ট |
| মরক্কোর বল বয় | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য ফেডারেশন জরিমানা | 200,000 | – |
ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির সমর্থকরা মাঠে ঢুকে পড়ার চেষ্টা, সাইডলাইনে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি, এবং প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এমনকি একটি অদ্ভুত ঘটনার মধ্যে মরকোর বল বয়রা গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির মনোযোগ বিঘ্নিত করতে তার তোয়ালে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
মরকোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই এই ম্যাচকে আফ্রিকান ফুটবলের জন্য ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে, সেনেগালের ওয়াকআউটের কারণে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করার সেনেগালের আপিলও সিএএফ বাতিল করেছে।
কেবল ক্রীড়াজগত নয়, এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও ছাপ ফেলেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো মরকোর মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগ তুললেও, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতা পরিস্থিতি শান্ত করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী উসমানে সলকো মরকো সফরে গিয়ে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ফাটল হিসেবে না দেখে ‘আবেগের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
এই ফাইনাল আফ্রিকান ফুটবলের ভাবমূর্তিতে এক দাগ রেখে গেছে, এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সিএএফের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
