আরব আমিরাতের কাছেও হেরে গেল ভারত

পাকিস্তানকে হারিয়ে দারুণভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও এরপর যেন জয়ের পথই ভুলে গেছে ভারত। গ্রুপ পর্বে কুয়েতের কাছে হারের পর এবার বোল রাউন্ডেও হোঁচট খেল তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দীনেশ কার্তিকের নেতৃত্বাধীন দলটি হেরেছে ৪ উইকেটে, ফলে হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টে তাদের বোল ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখন প্রায় শেষের পথে।

শনিবার বোল রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত তোলে ৩ উইকেটে ১০৭ রান। জবাবে মাত্র ৫.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গ্রুপ পর্বে কুয়েতের কাছে পরাজয়ের পর ভারত কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার আমিরাতের বিপক্ষেও হেরে তারা আরও এক ধাপ পিছিয়ে গেল। সামনে বোল রাউন্ডে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে ভারত, যেখানে জিতলেও বোল ফাইনালে উঠতে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ফলাফলের দিকে।

আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটাই ছিল ভয়াবহ। মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। কিন্তু এরপর মাঠে নামেন অভিমন্যু মিথুন ও অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক—দু’জনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করেই তিন অঙ্কে পৌঁছায় ভারতের স্কোর।

অভিমন্যু মিথুন ৪ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ১৬ বলে করেন ৫০ রান। নিয়ম অনুযায়ী ফিফটির পর তাকে অবসরে যেতে হয়। অন্যদিকে দিনেশ কার্তিক ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৪ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন।

আমিরাতের বোলারদের মধ্যে নিলানশ কেশানি ছিলেন সবচেয়ে সফল—২ ওভারে মাত্র ১১ রানে তুলে নেন ২ উইকেট

টার্গেট তাড়ায় আমিরাতের ওপেনাররাই ম্যাচটি প্রায় জিতে দেন। অধিনায়ক খালিদ শাহ ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় মাত্র ১৪ বলে করেন ৫০ রান, এরপর ফিফটির পর তাকেও অবসরে যেতে হয়। তার সঙ্গী সগির খান খেলেন ১১ বলে ৩১ রানের ইনিংস, যাতে ছিল ১টি চার ও ৪টি ছক্কা।

শেষ দিকে চার নম্বরে নেমে মোহাম্মদ আফরান ৫ বলে ২০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

হংকং সিক্সেসের কাঠামো অনুযায়ী, চারটি গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোকে নিয়ে গঠিত হয় বোল রাউন্ড। এই পর্বে দলগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় পুরো টুর্নামেন্টের নবম সেরা দল

নিচে পুল ‘সি’-এর বর্তমান পয়েন্ট তালিকা দেওয়া হলো:

দলম্যাচজয়পরাজয়পয়েন্টঅবস্থান
পাকিস্তানকোয়ার্টার-ফাইনাল
কুয়েতকোয়ার্টার-ফাইনাল
ভারতবোল রাউন্ড

ভারত যদি বোল রাউন্ডের বাকি দুটি ম্যাচে জয় পায়, তবুও ফাইনালে যেতে হলে তাদের নেট রান রেটের হিসাব রাখতে হবে। আপাতত দীনেশ কার্তিকদের জন্য এটি হতাশার এক টুর্নামেন্ট, যেখানে বড় বড় নাম থাকলেও জয় তাদের ধরা দিচ্ছে না।

Leave a Comment