মঙ্গলবার রাতে ইউরোপের ফুটবল মানচিত্রে ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর দুশ্চিন্তা ছিল স্পষ্ট। বোদো গ্লিম্টের কাছে দুই লেগে হেরে বিদায় নেয়া ইন্তার মিলান, গত মৌসুমের ফাইনালিস্ট ক্লাব, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছিল—এইবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় কি কোনো ইতালিয়ান ক্লাব থাকবে না? সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে, যখন প্রতিযোগিতার নাম ছিল ইউরোপীয়ান কাপ। তবে শেষ পর্যন্ত আতালান্তাই রক্ষা করল ইতালিয়ান ফুটবলের মর্যাদা, এবং বর্তমানে দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের প্রিয় ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল।
ইতালির তিনটি ক্লাব প্লে-অফে অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ইন্তার মিলান বাদ পড়ল বোদো গ্লিম্টের কাছে। প্রথম লেগে তারা ৩-১ গোলে হারে, আর দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে ১-২ গোলে হারে, ফলে মোট এগ্রিগেটে বিদায় নিতে হলো তিনবারের চ্যাম্পিয়নকে। ইন্তারের বিদায়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হতাশার ছায়া পড়ে, এবং ইতালিয়ান সাংবাদিক ভিঞ্চেঞ্জো ক্রেদেনদিনো মন্তব্য করেছেন, ‘ইতালি এবং ইন্তার—এটি দেশের ফুটবলের জন্য সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোর এক।’
জুভেন্টাস, প্রতিযোগিতার দুইবারের চ্যাম্পিয়ন, প্রথম লেগে ২-৫ ব্যবধানে হেরে যায় তুরস্কের গালাতাসারাই-এর কাছে। ইনজুরি সমস্যার সঙ্গে লড়তে থাকা তারকা ফুটবলাররা যেমন দুসান ভ্লাহোভিচ ও আন্দ্রেয়া কাম্বিয়াসো, তারা ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে জিতে এগ্রিগেট সমতার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত সময়ে হেরে বিদায় নিতে হয়।
পরিশেষে, ইতালির একমাত্র ক্লাব হিসেবে শেষ ষোলোর রাউন্ডে জায়গা করে নিল আতালান্তা, যারা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড-এর বিপক্ষে সিগনাল ইদুনা পার্কে ৪-১ গোলে জিতে মোট ৪-৩ এগ্রিগেটে জয় নিশ্চিত করে। আতালান্তার এই যাত্রা দর্শকদেরকে প্রমাণ করল, সামর্থ্য ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও হারানো সম্ভব।
প্লে-অফে ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর ফলাফল
| ক্লাব | প্রথম লেগ | দ্বিতীয় লেগ | মোট এগ্রিগেট | পরবর্তী রাউন্ড |
|---|---|---|---|---|
| ইন্তার মিলান | ১-৩ | ১-২ | ২-৫ | বাদ পড়ল |
| জুভেন্টাস | ০-২ | ৩-০ | ৩-২ | বাদ পড়ল (OT) |
| আতালান্তা | ০-২ | ৪-১ | ৪-৩ | শেষ ষোলো |
ফুটবল বিশারদ ডানিয়েলে বেরি মন্তব্য করেছেন, ‘যদি তিন দলের কেউ নকআউটে যেতে পারত না, তা সম্পূর্ণ বিপর্যয় হতো।’
সফল আতালান্তার প্রতি ইতালিয়ানদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে তাদের আত্মবিশ্বাস দেখানো খেলা—প্রিমিয়ার লিগ বা বুন্দেসলিগার শীর্ষ ক্লাবদের বিপক্ষে—সিরিজে কাজে লাগবে। সাবেক ডিফেন্ডার কার্টিস ডেভিস বলেছেন, ‘এখন আতালান্তা ইতালিয়ান ফুটবলের প্রিয়।’
বিশেষজ্ঞ জেমস হর্নক্যাসল যোগ করেছেন, ‘৮ বছর আগে এই দলটি এমন অবস্থায় ছিল না। ইউরোপীয় ট্রফি জয়, তিনটি কোপা ইতালিয়া ফাইনাল—এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
ফুটবল সাংবাদিক নিকি বান্দিনি বলেন, ‘আতালান্তার জয় ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বড় ক্লাব নয়, তাই এই সাফল্য তাদের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে।’
আতালান্তার আত্মবিশ্বাস, সংগ্রাম ও দৃঢ়তা ইতালিয়ান ফুটবলের নতুন আশা জাগিয়েছে, এবং এখন ইউরোপের প্রতিটি বড় ক্লাব তাদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
