শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা, স্কোরবোর্ডে সমতা ২–২। এমন মুহূর্তে নাটকীয়তার জন্ম দিলেন হোয়াও নেভেস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে অসাধারণ হেডে গোল করে জয় এনে দিলেন প্যারিস সাঁ জার্মাঁকে (পিএসজি)। ইনজুরি টাইমের এই গোলেই লিগ ওয়ানে রোববার রাতে অলিম্পিক লিওকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।
ম্যাচটি ছিল লিওর মাঠে, যেখানে পিএসজির তিনটি গোল করেন ওয়ারেন জাইরে এমেরি, খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া ও হোয়াও নেভেস। অন্যদিকে, স্বাগতিক লিওর পক্ষে জোড়া গোল করেন আফোন্সো মোরেইরা ও মাইটল্যান্ড-নাইল্স।
| দল | খেলা | জয় | ড্র | হার | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|---|---|
| পিএসজি | ১২ | ৮ | ৩ | ১ | ২৭ | ১ম |
| অলিম্পিক লিও | ১২ | ৫ | ৫ | ২ | ২০ | ৭ম |
ম্যাচের শুরু থেকেই পিএসজি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২৬ মিনিট পর্যন্ত। ভিতিনহার দারুণ লং পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে পোস্ট ঘেঁষে জাল খুঁজে নেন তরুণ মিডফিল্ডার জাইরে এমেরি।
তবে লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি দলটি। মাত্র ৪ মিনিট পরই সমতা ফেরায় লিও। সতীর্থের থ্রু বল ধরে সুন্দর প্লেসিং শটে গোল করেন আফোন্সো মোরেইরা। কিন্তু ৩৩ মিনিটে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন জর্জিয়ান উইঙ্গার খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ভুলে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশিং করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে পিএসজির ডিফেন্স কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ৫০ মিনিটের সময় এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে উঁচু করে নেওয়া চিপ শটে সমতায় ফেরান মাইটল্যান্ড-নাইল্স। এরপর দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু বারবারই ব্যর্থ হয় পোস্টের সামনে।
অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বড় ধাক্কা খায় লিও—দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকোকে।
এর মাত্র দুই মিনিট পর আসে ম্যাচের মোড় ঘোরা মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে নেওয়া কর্নারে হোয়াও নেভেসের নিখুঁত হেডে বল জড়িয়ে যায় লিওর জালে। সেই গোলেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে পিএসজি, আর মাঠজুড়ে বেজে ওঠে তাদের সমর্থকদের উল্লাস।
এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে পিএসজি লিগ ওয়ানের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। অপরদিকে, সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে অলিম্পিক লিও।
পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে ম্যাচ শেষে বলেন,
“এমন মুহূর্তে জয় পাওয়া দলের মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করে। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছিলাম যে গোল আসবেই, আর নেভেস সেই বিশ্বাসকে বাস্তবে পরিণত করেছে।”
নেভেসও নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন,
“এই গোলটি শুধু আমার নয়, পুরো দলের পরিশ্রমের ফল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়েছি, আর সেটিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”
এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর অবস্থায় ছুটছে পিএসজি, তাদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২৩ নভেম্বর, লঁসের বিপক্ষে।
