২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আবারও সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ। ইরান নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেওয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিশ্বকাপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলো বেলজিয়াম, মিসর এবং নিউজিল্যান্ড। ইরান তাদের দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে খেলবে।
তবে ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়ে আছে। মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে ইরান। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মেহদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন,
“আমাদের খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দু’টি টুইট করেছেন। যদি অস্ট্রেলিয়া তা না করে, তবে মার্কিন প্রশাসন সেটা করবে। মিনাবে আমাদের শিশুদের হত্যা করে ১৬০ জন শহীদ হয়েছেন, এখন আমাদের মেয়েদের অপহরণ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?”
তাজ আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বাভাবিক চিন্তাভাবনাসম্পন্ন কে তার জাতীয় দলকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠাবে?’
নারী ফুটবল দলের অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়
ইরান নারী ফুটবল দল সম্প্রতি এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর অস্ট্রেলিয়া মোট ৭ জনকে আশ্রয় দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন খেলোয়াড় এবং একজন সহায়ক স্টাফ প্রথমে আশ্রয় পেয়েছিলেন, পরে আরও দুজনকে যোগ করা হয়।
নারী এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে টেলিভিশনে আখ্যায়িত করা হয়। দেশে ফিরে শাস্তির আশঙ্কা থাকায় তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। পরবর্তী ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পরেও, উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তাদের নিরাপত্তার জন্য অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করেছে।
ইরান দলের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ সূচি
| তারিখ | প্রতিদ্বন্দ্বী | স্থান |
|---|---|---|
| জুন 12 | বেলজিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস |
| জুন 17 | নিউজিল্যান্ড | সিয়াটল |
| জুন 22 | মিসর | লস অ্যাঞ্জেলেস |
মেহদি তাজ দাবি করেন, পাঁচ নারী খেলোয়াড়কে অপহরণ করা হয়েছে এবং দলকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সময় বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
“দুঃখজনকভাবে, খেলার পর অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমাদের খবর অনুযায়ী হোটেল থেকে এক বা দুজন খেলোয়াড়কে বের করে নেওয়া হয়েছে।”
এ পরিস্থিতিতে ইরান ফুটবল দল ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্ন ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রাকে জটিল করে তুলেছে।
