এক বছর পর নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা ওয়েদারেল্ড

এক বছর আগের কথা। ঠিক এই সময়টাতেই টেস্ট দলে নির্ভরযোগ্য ওপেনার খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত তারা একটি আপসের সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাভাবিক তিন নম্বর ব্যাটার নাথান ম্যাকসুইনি–কে নামানো হয় ওপেনার হিসেবে, ভারতের আগুনে গতি তারকা জসপ্রিত বুমরাহর বিপক্ষে। কিন্তু সেই পরীক্ষা টিকেছিল মাত্র তিনটি টেস্ট পর্যন্ত। এরপরই দল আশ্রয় নেয় আরেক নতুন পরীক্ষায়—এক্স-ফ্যাক্টর ব্যাটার স্যাম কনস্টাস–এর ওপর।

প্রায় ১২ মাস পরও সেই অবস্থাই রয়ে গেছে। আবারও টেস্ট ওপেনারের খোঁজে অস্ট্রেলিয়া। বিদ্রূপের বিষয়, এবার বাদ পড়েছেন সেই কনস্টাসই—যিনি নাটকীয় সূচনার পর নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। আর এবার নির্বাচকেরা ফিরেছেন ঐতিহ্যবাহী পথে—অ্যাশেজ গ্রীষ্ম শুরু করতে যাচ্ছেন এক বিশেষজ্ঞ ওপেনার জেক ওয়েদারেল্ড–কে নিয়ে।

ওয়েদারেল্ড শুধু যে নতুন বল সামলাতে অভ্যস্ত তাই নয়, বরং গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে ধারাবাহিক ওপেনার হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

যদিও এখনও টেস্টে অভিষেক হয়নি, তবুও ওয়েদারেল্ডের নাম এখন অ্যাশেজ স্কোয়াড ঘোষণার পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞই এখনো নিশ্চিত নন যে, ওয়েদারেল্ড নিশ্চিতভাবেই আগামী ২১ নভেম্বর পার্থে তার স্বপ্নের ব্যাগি গ্রিন টেস্ট ক্যাপটি পাবেন।

সবকিছুই নির্ভর করছে ক্যামেরন গ্রিনের বোলিং প্রস্তুতির ওপর। প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি জানিয়েছেন, গ্রিন আগামী সপ্তাহে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ থেকে ২০ ওভার বল করবেন বলে আশা করছেন। যদি তিনি পূর্ণভাবে বোলিং করতে পারেন, তবে ওয়েদারেল্ডের স্বপ্নপূরণ প্রায় নিশ্চিত।

এর ফলে ফর্মের তুঙ্গে থাকা মার্নাস লাবুশেন তার স্বাভাবিক তিন নম্বর অবস্থানেই ফিরবেন—যেটি তিনি আগের সিরিজে গ্রিনের কাছে হারিয়েছিলেন। তবে যদি গ্রিনের বোলিংয়ে সন্দেহ থেকেই যায়, তবে স্কোয়াডে থাকা বো ওয়েবস্টার আবারও জায়গা ধরে রাখতে পারেন ছয় নম্বরে।

বিভিন্ন ব্যাটিং পজিশন নিয়ে জটিলতা থাকা সত্ত্বেও এবারের অস্ট্রেলিয়া দল গতবারের তুলনায় অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এর বড় কারণ তাদের দুই তারকা ব্যাটার—স্টিভ স্মিথ ও লাবুশেনের বর্তমান দারুণ ফর্ম।

গত বছর যখন তারা ভারতের বিপক্ষে বর্ডার–গাভাস্কার ট্রফির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ছিল নড়বড়ে। ওপেনিংয়ে উসমান খাজা কিছুটা স্থিতি দিয়েছিলেন, মাঝের সারিতে অবদান রাখেন মিচেল মার্শ, আর ট্রাভিস হেড ছিলেন সর্বদা আগ্রাসী ভূমিকার প্রভাবক। কিন্তু পার্থ টেস্টে বুমরাহর আগুনে স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। খাজার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়, মার্শও বাদ পড়েন দলে থেকে। মাঝ সিরিজে এসে স্টিভ স্মিথ তার পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার পরই দল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতে নেয়।

এখন স্মিথ ফিরেছেন নিউইয়র্ক থেকে, আগের মৌসুমের শেষ ভাগের সেই দুর্দান্ত ছন্দ নিয়েই। কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে তার সাম্প্রতিক শিল্ড ম্যাচে শতরান সেই প্রমাণ বহন করে। অন্যদিকে লাবুশেন আছেন জীবনের সেরা ফর্মে—সব মিলিয়ে শেষ আট ইনিংসে করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই অ্যাশেজের আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে এনে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও স্বস্তি।

খাজাও শিল্ড মৌসুমটা ভালোভাবেই শুরু করেছেন, যদিও সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা—বিশেষ করে মার্ক উড ও জোফরা আর্চারের গতির বিপক্ষে। ওয়েদারেল্ডও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, ফলে এই গ্রীষ্মে নিজেদের টেস্ট অভিযাত্রার সূচনাকে ঘিরে আশাবাদে ভরপুর পুরো অস্ট্রেলীয় শিবির।

এমনকি দলের নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতির খবরটিও এখন যেন গৌণ মনে হচ্ছে—কারণ দিনটির মূল আলোচ্য বিষয় একটিই: বিশেষজ্ঞ ওপেনার হিসেবে ওয়েদারেল্ডের অন্তর্ভুক্তি, যা অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটিং অধ্যায়ে এক নতুন সূচনার বার্তা দিচ্ছে।

Leave a Comment