এমবাপ্পের সেরা খেলা কার জন্য—রিয়াল নাকি ফ্রান্স, বললেন নিজেই

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে কি নিজের সর্বোচ্চটা দিচ্ছেন না—সম্প্রতি স্প্যানিশ গণমাধ্যমে এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি নাকি ক্লাব ফুটবলে পুরো শক্তি উজাড় করছেন না—এই অভিযোগ ঘিরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে এমবাপ্পে নিজেই এই বিতর্ককে হালকাভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন, আর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—ক্লাব ও দেশের মধ্যে তিনি কোনো বিভাজন দেখেন না।

ফরাসি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টেলিফুট’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, রিয়ালের হয়ে তাঁর নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অমূলক। তিনি রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, স্পেনে কেউ কেউ নাকি ভাবছেন তিনি খেলবেনই না, সরাসরি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন। এই ধারণাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলেই মনে করেন। তাঁর ভাষায়, “আমি সব সময়ই জিততে চাই—তা রিয়ালের হয়েই হোক বা ফ্রান্সের।”

বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের সামনে লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুটি বড় মঞ্চেই কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে ইউরোপের আসরে বায়ার্ন মিউনিখের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দলটির জন্য বড় পরীক্ষা। এমবাপ্পে স্বীকার করেছেন, বায়ার্ন এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। তবে তাঁর আত্মবিশ্বাসও কম নয়—তিনি বিশ্বাস করেন, তাদের হারানোর সামর্থ্য যদি কোনো দলের থাকে, তবে সেটি রিয়াল মাদ্রিদেরই।

এদিকে, এমবাপ্পের শারীরিক অবস্থা ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কোনো সংশয় নেই দলের কোচ আলভারো আরবেলোয়ার। চোট কাটিয়ে ফেরার পরও এমবাপ্পে যে সম্পূর্ণ ফিট এবং ক্লাব ও জাতীয়—দুই দায়িত্বই পালনে প্রস্তুত, তা কোচ স্পষ্ট করেছেন। তিনি মনে করেন, বড় খেলোয়াড়দের জন্যই জাতীয় দলের ডাক আসে, আর এমবাপ্পে সেই পর্যায়ের একজন তারকা।

জাতীয় দলের প্রসঙ্গে এসে এমবাপ্পে আরও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হৃদয়বিদারক হারের পর ফ্রান্স দল নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তুলছে। এমবাপ্পে বলেন, দলটিতে এখন আগের চেয়ে বেশি প্রতিভা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সেটি মাঠে প্রমাণ করাই আসল চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, “শুধু প্রতিভা দিয়ে কিছু হয় না, ফলাফলই সবকিছু নির্ধারণ করে।”

নিচে ক্লাব ও জাতীয় দলে এমবাপ্পের সাম্প্রতিক ভূমিকার একটি সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিষয়রিয়াল মাদ্রিদ (ক্লাব)ফ্রান্স (জাতীয় দল)
ভূমিকাপ্রধান আক্রমণভাগের নেতাঅধিনায়ক ও কৌশলগত নেতা
লক্ষ্যলা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়বিশ্বকাপ জয়
চাপের মাত্রাক্লাব সাফল্যের প্রত্যাশাজাতীয় গৌরব রক্ষা
অভিজ্ঞতার ব্যবহারদলের আক্রমণে গতি ও গোলতরুণদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশ

বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে এমবাপ্পে সতর্ক করে দিয়েছেন আত্মতুষ্টির বিপদ সম্পর্কে। তিনি মনে করেন, যদি ফ্রান্স দল শুরুতেই নিজেদের চ্যাম্পিয়ন ভেবে নেয়, তবে সেনেগালের মতো দলও তাদের চমকে দিতে পারে। তাঁর মতে, শিরোপা জিততে হলে প্রতিটি ম্যাচে শতভাগ মনোযোগ ও পরিশ্রম জরুরি।

সময়ের সঙ্গে এমবাপ্পের ভূমিকাও বদলেছে। একসময় তিনি ছিলেন দলের ‘বিস্ময় বালক’, এখন তিনি নেতৃত্বের কেন্দ্রে। নিজের এই পরিবর্তন নিয়ে হালকা মজার ছলে তিনি বলেন, “আগে সবাই আমাকে আগলে রাখত, এখন আমাকেই অন্যদের দেখভাল করতে হয়—মাঝেমধ্যে নিজেকে বুড়ো মনে হয়!”

সব মিলিয়ে, এমবাপ্পের কথায় পরিষ্কার—রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স, দুই দলের প্রতিই তাঁর সমান দায়বদ্ধতা। বিতর্ক থাকলেও মাঠে তাঁর পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত সব প্রশ্নের জবাব দেবে।

Leave a Comment