ভারতীয় ক্রিকেট এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘরের মাঠে অজেয়তার রেকর্ড গড়েছিল। ২০১৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ভারতের ঘরের মাঠের ব্যাটসম্যান ও বোলাররা এমনভাবে খেলেছে যে হারানো প্রায় অসম্ভব মনে হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের শেষের দিকে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩–০ হারের পর এবং ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের ধারাবাহিক হার এই ধারাবাহিক অজেয়তার মিথ ভেঙে দিয়েছে। শুধু হার নয়, হারার ধরনই সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ব্যাটিং, পিচ কৌশল, নির্বাচনী নীতি ও নেতৃত্বে সমস্যা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে মাত্র ৪৬ রানে অলআউট হওয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৪৯ রানের জবাবে ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়া ভারতের ঘরের মাঠের সংকটকে প্রমাণ করে। কলকাতায় ১২৪ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৯৩ রানে থেমে যাওয়াও উদ্বেগের বিষয়। এই হারের পেছনে প্রথম প্রধান কারণ হলো পিচ কৌশলের ব্যর্থতা। অতীতের সফল টার্নার পিচের বদলে নতুন কৌশলে সবুজ উইকেট তৈরি করা হয়েছে, যা প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ নির্বাচক গৌতম গম্ভীরের দল গঠন নীতি। আইপিএল–ভিত্তিক নির্বাচন এবং ব্যাটিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন দলের স্থিতিশীলতা হ্রাস করেছে। তৃতীয় কারণ দলের রূপান্তর। কোহলি, রোহিত ও অশ্বিনের অভিজ্ঞতার শূন্যতায় তরুণরা দলে জায়গা পেলেও অভিজ্ঞতার ঘাটতি প্রকট। চতুর্থ সমস্যা হলো প্রতিপক্ষের কৌশল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা ভারতের স্পিন আক্রমণকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছে।
মোটকথা, ভারতীয় ক্রিকেট বর্তমানে এক জটিল সংকটের মুখোমুখি। এর সমাধান সময়, ধৈর্য এবং সঠিক নির্বাচনী নীতি ছাড়া সম্ভব নয়। গম্ভীরও জানিয়েছেন—“তরুণদের সময় দিতে হবে, তারা শিখবে এবং পথ খুঁজে নেবে।”
