কৌশল বদলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ

নারী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন দলের প্রধান প্রশিক্ষক পিটার বাটলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দল নির্বাচনে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম ম্যাচে গোলরক্ষকের অবস্থানে পরিবর্তন এনে যে চমক দেখিয়েছিলেন প্রশিক্ষক, দ্বিতীয় ম্যাচেও তেমনি রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে তুলনামূলক আক্রমণমুখী বিন্যাসে দল সাজানো হয়েছে।

দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পিটার বাটলার তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নারী এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে তিনি দীর্ঘদিনের নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন মিলি আক্তারকে। সেই সিদ্ধান্ত প্রথমে অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও মাঠে মিলি আক্তারের আত্মবিশ্বাসী ও স্থির পারফরম্যান্স প্রশিক্ষকের আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেও গোলবার রক্ষার দায়িত্ব তার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ দল এবার রক্ষণভাগের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। প্রথম ম্যাচে পাঁচজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিয়ে দল মাঠে নামলেও এবার সেই কৌশল থেকে সরে এসেছে দল। প্রশিক্ষকের মতে, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করলে আক্রমণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় শিউলি আজিম এবং মাঝমাঠের খেলোয়াড় উমেহলা মারমা একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের পরিবর্তে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ মাঝমাঠের খেলোয়াড় আইরিন খাতুন এবং আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার তহুরা খাতুন। আইরিন খাতুন মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, সঠিক পাস দেওয়া এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে তহুরা খাতুনের গতি, দক্ষতা ও গোল করার ক্ষমতা বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ দল এবার চারজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়, চারজন মাঝমাঠের খেলোয়াড় এবং দুইজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামছে। এই বিন্যাসে মাঝমাঠের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা এবং ঋতুপর্ণা চাকমার মতো সৃজনশীল খেলোয়াড়রা মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণের পথ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সমন্বিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে হবে। রক্ষণভাগে দৃঢ়তা বজায় রাখার পাশাপাশি মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে গোল করার দায়িত্ব মূলত তহুরা খাতুন এবং শামসুন্নাহার জুনিয়রের ওপরই বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের একাদশ

অবস্থানখেলোয়াড়
গোলরক্ষকমিলি আক্তার
রক্ষণভাগশামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন
মাঝমাঠমারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, আইরিন খাতুন
আক্রমণভাগশামসুন্নাহার জুনিয়র, তহুরা খাতুন

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। নারী এশিয়া কাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশিক্ষক পিটার বাটলার দলের আক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। খেলোয়াড়রা যদি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment