নতুন মৌসুমে দারুণ সূচনার পর ক্যারিয়ারের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন নিজেকে আরও ভালো লাগছে বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ে জাতীয় দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। চলমান ২০২৫–২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৭ ম্যাচে ২৭ গোল করেছেন—যা প্রমাণ করে, তার গোলের ধার এখনও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে আছে।
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন হলান্ড। ২০২২ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তার ১৬০ ম্যাচে গোল ১৪২টি। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর নিজের ভাষায়, এই মুহূর্তে তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন।
লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“নতুন মৌসুমের শুরুটা চমৎকার হয়েছে। আমি এখন নিজেকে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে আমার সেরা সংস্করণটাই খেলছি। ক্যারিয়ারে কখনও এতটা ভালো লাগেনি।”
আসন্ন রোববারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি মুখোমুখি হবে লিভারপুলের। এটি হবে দলের প্রধান কোচ পেপ গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারের ১,০০০তম ম্যাচ—যা ম্যাচটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
গার্দিওলার প্রশিক্ষণে নিজের খেলায় উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন হলান্ড।
“ম্যান সিটিতে আসার পর থেকে তিনি (গার্দিওলা) আমাকে প্রতিটি ধাপে সাহায্য করছেন। মাঠে কোন জায়গায় দাঁড়ালে বা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানালে গোলের সুযোগ পাওয়া যাবে—সবই তিনি বোঝান। তিনি পেপ গার্দিওলা, নিঃসন্দেহে একজন জিনিয়াস। তার সঙ্গে কাজ করা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা।”
প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটি ১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং লিভারপুল সমান ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে। অন্যদিকে, ২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। তাই রোববারের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ—শীর্ষে থাকা আর্সেনালের কাছাকাছি পৌঁছাতে জয়ের বিকল্প নেই কারও সামনে।
| দল | ম্যাচ | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| আর্সেনাল | ১০ | ২৫ | ১ম |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ১০ | ১৯ | ২য় |
| লিভারপুল | ১০ | ১৮ | ৩য় |
হলান্ড মনে করেন, সিটি ও লিভারপুলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে।
“গত কয়েক বছরে ম্যান সিটি ও লিভারপুলের লড়াই এক অনন্য উচ্চতায় গেছে। দুই দলই একে অপরকে আরও উন্নত খেলার অনুপ্রেরণা দেয়। ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। আমাদের সেরাটা দিতে হবে, তাহলেই জেতা সম্ভব।”
তার এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য প্রমাণ করে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও দৃঢ়, প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী আছেন আর্লিং হলান্ড—যার গোলেই হয়তো নির্ধারিত হবে রবিবারের এই মহারণের ভাগ্য।
