ক্রিকেটের অসংগত খেলা । ক্রিকেট খেলার ৪২ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

ক্রিকেটের অসংগত খেলা । ক্রিকেট খেলার ৪২ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

 

Table of Contents

ক্রিকেটের অসংগত খেলা । ক্রিকেট খেলার ৪২ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। অধিনায়কদ্বয়ের দায়িত্ব

অধিনায়কদ্বয় সব সময়ে খেলাটি যাতে সুষ্ঠু খেলোয়াড়ী মনোভাবের মধ্যেই থাকে ও আইন অনুযায়ী চলে তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব নেবেন।

২। আম্পায়ারদের দায়িত্ব

আম্পায়াররাই হলেন সংগত ও অসংগত খেলার অদ্বিতীয় বিচারক।

৩। আম্পায়ারের দ্বারা হস্তক্ষেপ

আম্পায়াররা অসংগত খেলার ক্ষেত্রে বিনা আবেদনেই ডেড বল ডেকে এবং সংকেত দিয়ে হস্তক্ষেপ করবেন, কিন্তু আইন অনুযায়ী প্রয়োজন ছাড়া খেলার অগ্রগতিতে হস্তক্ষেপ করবেন না।

৪। সেলাই (সীম) খুলে ফেলা

একজন খেলোয়াড় কোন কারণেই বলের সেলাই খুলে ফেলবেন না। যদি তা করা হয় তবে আম্পায়াররা সেই বিধি লঙ্ঘনের আগে বলটির যে অবস্থা ছিল ঠিক সেই রকম একটি বল দিয়ে আগের বলটি বদল করবেন।

 

৫। বলের অবস্থা পরিবর্তন করা

যে কোন ফিল্ডিং দলের সদস্য বলকে ঘষে চকচকে করতে পারেন, অবশ্য যদি না সেই চকচকে করার জন্য কোন সময় নষ্ট করা হয় এবং কৃত্রিম দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। কেউই যেন বলটি মাটিতে না ঘষেন বা কৃত্রিম দ্রব্য ব্যবহার করেন বা বলের অবস্থা বদলানোর জন্য অন্য কোন পন্থা না গ্রহণ করেন। কোন কারণে যদি এই আইনের লঙ্ঘন ঘটে আম্পায়াররা পরামর্শের পর বলটির পূর্ববর্তী অবস্থা যে রকম ছিল ঠিক রকম একটি বলের দ্বারা লঙ্ঘনের আগে ব্যবহার করা বলটি বদল করবেন। তবে এই আইন কোন ফিল্ডিং দলের সদস্যকে ভিজে বলকে শুকনো করতে বা বলের কাদা পরিষ্কার করতে বাধা দিতে পারে না।

৬। স্ট্রাইকারকে বিরক্ত করা

যদি আম্পায়ার মনে করেন যে, এই আইনের অধীনে কোন স্ট্রাইকার যখন একটি বল খেলতে প্রস্তুত হচ্ছেন তখন ফিল্ডিং দলের কোন খেলোয়াড় কোন রকম শব্দ বা কাজের দ্বারা তাঁকে বিরক্ত করছেন, তখন তিনি ন্যায়সংগত বলে এই আইনে হস্তক্ষেপ করবেন ও ডেড বল ডাকবেন বা সংকেত দেবেন।

৭। ব্যাটসম্যানের রান নেবার সময় বাধা

যদি কোন ফিল্ডসম্যান একজন ব্যাটসম্যান-এর রান নেবার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাদান করেন, তবে তা বিধিবহির্ভূত বলে বিবেচিত হবে। এই সকল ক্ষেত্রে আম্পায়ার ডেড বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন এবং সম্পূর্ণ করা রানগুলি ও যে রানটি নেয়া হচ্ছে অনুমোদন করবেন বা পরিবর্তে কোন বাউন্ডারি হলে তা স্কোরভুক্ত করবেন ।

৮ । দ্রুত শৰ্ট পীচ বোলিং

দ্রুত গতিতে শর্ট পীচ বোলিং করা অসংগত, যদি বোলার প্রান্তের আম্পায়ার মনে করেন যে তা স্ট্রাইকারকে ভয় দেখানো জন্য দেয়া হচ্ছে। দৈর্ঘ, উচ্চতা বা লক্ষ্যের মাধ্যমে দ্রুতগতি সম্পন্ন শর্ট পীচ বল করে শারীরিক আঘাতের ভয় দেখানোর অভিপ্রায় বা প্রচেষ্টাকে আম্পায়ার ইচ্ছাকৃত বলে বিবেচনা করবেন। অবশ্য স্ট্রাইকারের এই সাপেক্ষে তাঁর দক্ষতাকেও বিবেচনার মধ্যে আনতে হবে।

এ রকম অসংগত বোলিং-এর ক্ষেত্রে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার নিম্নোক্ত পন্থা অবলম্বন করবেন :

(ক) প্রথম অবস্থায় আম্পায়ার নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন, বোলারকে সতর্ক করবেন এবং অপর আম্পায়ার, ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যানকে যা ঘটেছে তা জানাবেন।

(খ) যদি এই সতর্কীকরণ নিষ্ফল হয়, তাহলে তিনি উপরোক্ত পদ্ধতি পুনরায় অবলম্বন করবেন এবং বোলারকে এটাই চূড়ান্ত সাবধানতা বলে নির্দেশ দেবেন

(গ) বোলার পরে প্রান্ত বদল করলেও উপরোক্ত সতর্কীকরণ ও চূড়ান্ত সাবধানতা ক্রমাগত প্রয়োগ করা হবে।

(ঘ) উপরোক্ত সতর্কতার পন্থাও যদি নিষ্ফল হয় তবে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার তখনঃ

(অ) প্রথম পুনরাবৃত্তিতে নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন এবং যখন বলটি ডেড হবে তখন ঐ বোলারকে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে নিতে এবং অপর একজন বোলারকে দিয়ে সেই ওভারটিকে শেষ করতে অধিনায়ককে নির্দেশ দেবেন, অবশ্য এই শর্তে যেন সেই বোলারটি পর পর দু’ওভার বা তার অংশ বল না করেন। আইন নং ২২৭ দেখুন (বোলারদের অসমর্থতা বা একটি ওভার চলাকালীন শান্তি পাওয়া)।

 

(আ) যে বোলারকে এ রকম করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে তাঁকে আর সেই ইনিংসে বল করতে দেবেন না ।

(ই) উক্ত ঘটনাটি যখনই খেলোয়াড়রা কোন বিরতির সময় মাঠ ত্যাগ করবেন তখনই ব্যাটিং দলের অধিনায়ককে অবহিত করবেন। গভর্ণিং বডিকে অবহিত করবেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বোলারের বিপক্ষে আরও কোন ব্যবস্থা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করবেন।

(ঈ) ঐ ঘটনাটি ফিল্ডিং দলের কর্মকর্তা এবং ম্যাচের দায়িত্বপূর্ণ যে কোন গভর্নিংবডি সদস্যকে অবহিত করবেন, যিনি সংশ্লিষ্ট বোলারের বিপক্ষে আরও কোন ব্যবস্থা উপযুক্ত বলে বিবিচিত হলে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করবেন।

৯। দ্রুতগতি সম্পন্ন উঁচু ফুল পীচ বোলিং

দ্রুতগতি সম্পন্ন উঁচু ফুল পীচ বল করা অসংগত। এরকম অসংগত বল করা হলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার উপরিল্লিখিত (৮) অনুযায়ী সতর্কীকরণ, চূড়ান্ত সাবধান করা, বোলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ করার পদ্ধতি অবলম্বন করবেন ।

১০। সময় নষ্ট করা

যে কোন রকমভাবে সময় নষ্ট করা অসংগত

(অ) ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক সময় নষ্ট করলে তাঁর দলের কোন খেলোয়াড়কে সময় নষ্ট করতে অনুমোদন করলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করবেনঃ

(আ) প্রথম ক্ষেত্রে তিনি ফিল্ডিং দলের অধিনায়ককে সতর্ক করবেন এবং অপর আম্পায়ারকে সেই ঘটনাটি জানাবেন।

(ই) এই সতর্কীকরণ যদি ফলপ্রদ না হয় তিনি উপরোক্ত পদ্ধতি পুনরায় অবলম্বন করবেন এবং অধিনায়ককে শেষবারের মত সাবধান করে দেবেন।

(ঈ) কোন বিরতিতে খেলোয়াড়গণ মাঠ ত্যাগ করা মাত্রই আম্পায়ার ব্যাটিং দলের অধিনায়ককে সেই ঘটনাটি জানাবেন ।

(ক) উপরোক্ত পদ্ধতি ফলপ্রসু না হলে আম্পায়ার ঘটনাটি ফিল্ডিং দলের কর্তৃপক্ষকে ও ঐ ম্যাচের দায়িত্বপূর্ণ যে কোন গভর্ণিং বডির সদস্যকে জানাবেন, যারা সংশ্লিষ্ট অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।

(খ) একজন বোলার কোন ওভার বল করতে গিয়ে অহেতুকভাবে দীর্ঘ সময় নিলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার নো বল ডাকার পদ্ধতি ছাড়া সতর্কীকরণ, চূড়ান্ত সাবধান করা, বোলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ করার পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।

(গ) আইন নং ৩১ (টাইমড আউট) এর ক্ষেত্র ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যান অযথা সময় নষ্ট করলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করবেনঃ

(১) প্রথমবারে তিনি ব্যাটসম্যানকে সতর্ক করবেন এবং অবিলম্বে অপর আম্পায়ারকে ও কোন বিরতির সময় খেলোয়াড়রা মাঠ ত্যাগ করা মাত্রই ব্যাটিং দলের অধিনায়ককে যা ঘটেছে জানাবেন।

(২) যদি এই ব্যবস্থা ফলপ্রসু না হয় তা হলে তিনি পুনরায় সতর্কীকরণ করবেন ব্যাটসম্যানকে এটি চরম সাবধানা বলে নির্দেশ দেবেন এবং অপর আম্পায়ারকে ঘটনাটি জানাবেন ।

(৩) কোনো বিরতির সময় খেলোয়াড়েরা মাঠ ত্যাগ করা মাত্রই আম্পায়ার উভয় অধিনায়কের কাছে বিষয়টি অভিযোগ করবেন।

(৪) উপরোক্ত পদ্ধতি ফলপ্রসু না হলে আম্পায়ার ঘটনাটি ব্যাটিং দলের কর্তৃপক্ষকে এবং ঐ ম্যাচের দায়িত্বপূর্ণ যে কোন গভর্নিং বডির সদস্যকে জানাবেন, যাঁরা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

১১। খেলোয়াড়দের দ্বারা পীচের ক্ষতিসাধন

আম্পায়াররা হস্তক্ষেপ করে প্লেয়ারদের বাধা দেবেন, যখনই দেখবেন যে লোয়াড়রা যে কোন পক্ষের বোলারদের সাহায্যের জন্য পীচ নষ্ট করছেন।

(অ) যদি কোন ফিল্ডিং দলের খেলোয়াড় পাঁচ নষ্ট করেন তখন আম্পায়ার-উপরোজ ১০(ক) ধারা অনুযায়ী সতর্কীকরণ, চূড়ান্ত সাবধান করা এবং অভিযোগ করার পদ্ধতি গ্রহণ করবেন।

(আ) যদি কোন ক্ষেত্রে বোলার ডেলিভারি করার পর পীচের উপর দিয়ে দৌড়ে এই আইন ভঙ্গ করেন, তবে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার তখন নো বল ডাকা ছাড়া চূড়ান্ত সাবধান করা, বোলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ করার পদ্ধতি গ্রহণ করবেন।

(ই) যদি কোন ব্যাটসম্যান পীচ নষ্ট করেন তবে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার উপরোক্ত ১০ (গ) উপধারা অনুযায়ী সতর্কীকরণ, চূড়ান্ত সাবধান করা এবং অভিযোগ করার পদ্ধতি গ্রহণ করবেন।

১২। ব্যাটসম্যান কর্তৃক অসংগতভাবে রান চুরি

বোলার যখন বল করার জন্য দৌড়ে আসছেন তখন ব্যাটসম্যান কর্তৃক রান চুরির যে কোন প্রচেষ্টা অসংগত হয়। যদি না বোলার যে কোন ব্যাটসম্যানকে রান আউট করার চেষ্টা করেন। ২৪.৪ নং আইন দেখুন ( বোলার কর্তৃক ডেলিভারি করার আগেই স্ট্রাইকারের উইকেটে বল ছোড়া) এবং ২৪৫ নং আইন (বোলার কর্তৃক ডেলিভারি করার আগেই ননস্ট্রাইকারকে রান আউট করার প্রচেষ্টা)। তখন ব্যাটসম্যান রান নেবার এ রকম কোন প্রচেষ্টায় পরস্পরকে অতিক্রম করলেই আম্পায়ার ডেড বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন। তারপর ব্যাটসম্যানেরা তাদের নিজেদের আগেকার উইকেটে ফিরে যাবেন।

১৩। খেলোয়াড়দের আচরণ

যদি কোন খেলোয়াড় আম্পায়ারের নির্দেশ পালন করতে অসমর্থ হন, কথা বা কাজের মাধ্যমে তাঁর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন বা ভিন্ন মত প্রকাশ করেন বা সাধারণভাবে এমন আচরণ করেন যার ফলে খেলাটি কুখ্যাত বলে গণ্য হতে পারে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আম্পায়ার প্রথমে অপর আম্পায়ারকে সেই ঘটনাটি জানাবেন এবং সেই খেলোয়াড়ের অধিনায়ককে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করবেন। তবে যদি তা নিষ্ফল হয় তখন সেই আম্পায়ার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘটনাটি সেই খেলোয়াড়ের দলের কর্মকর্তার কাছে জানাবেন এবং উক্ত ম্যাচের দায়িত্বপূর্ণ যে কোন গভর্নিং বডির সদস্যকে অবহিত করবেন, যিনি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আরও কোন ব্যবস্থা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলে সেই ব্যবস্থাই কার্যকর করবেন।

টীকা

(অ) বলের অবস্থা

আম্পায়ার বলের অবস্থা বারবার এবং অনিয়মিতভাবে পরীক্ষা করবেন।

(আ) ভিজে বল শুকানো

ভিজে বল তোয়ালে বা কাঠের গুঁড়ো দিয়ে শুকিয়ে নেয়া যাবে।

(ই) বিপজ্জনক এলাকা

পীচের উপরকার বিপজ্জনক এলাকাটি, বোলারের দ্বারা কৃত ক্ষতির হাত থেকে অবশ্যই বাঁচাতে হবে; এবং সেই এলাকাটি যেন পপিং ক্ৰীজ থেকে ৪ ফুট/ ১.২২ মি. দূরত্বে ও তার সঙ্গে সমান্তরালভাবে টানা একটি কাল্পনিক রেখা ও মিডল স্টাম্পের উভয়দিকে ১ ফুট? ৩০ ৪৮ সে.মি. দূরত্বে দুটি বিন্দু থেকে পীচের উপর দিয়ে সমান্তরালভাবে টানা দুটি কাল্পনিক রেখার মধ্যবর্তী স্থান হয়, (আয়তসীমা) তা আম্পায়ারদের দ্বারা গণ্য করা হবে।

 

(ঈ) দ্রুতগতি সম্পন্ন শর্ট পীচ বল

নির্দেশ অনুসারে দ্রুতগতি সম্পন্ন শর্ট পীচ বল হলো এমন একটি বল যা খাট লেংথে পড়ে ক্রীজে স্বাভাবিক ব্যাটিং স্টান্স নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্ট্রাইকারের কাঁধের উচ্চতার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে যায় বা অতিক্রম করতে পারতো ।

(উ) দ্রুতগতিসম্পন্ন ফুল পীচ বোলিং

দ্রুতগতি সম্পন্ন উঁচু ফুল পীচ বল করা অসংগত বলে গণ্য হবে যদি তা আম্পায়ারের মতে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ট্রাইকারকে উদ্দেশ্য করে করা হয় এবং যদি তা ক্রীজে স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং স্টান্স নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্ট্রাইকারের কাঁধের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে যায় বা করতে পারতো।

(ঊ) ব্যাটসম্যান কর্তৃক সময় অপচয়

কোন ব্যতিক্রমের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য সময়ে বোলার তার রান আপ শুরু করার জন্য প্রস্তুত, তখন ব্যাটসম্যান সর্বদাই স্ট্রাইক নিতে প্রস্তুত থাকবেন ।

জ্ঞাতব্য বিষয়

এই আইনের অধীনে খেলোয়াড়দের আচরণ ও অসংগত খেলার বিষয়ে অধিনায়কদের দায়িত্বের কথা বিশেষভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে খেলাটি সামগ্রিকভাবে যাতে আইন অনুযায়ী হয় তাও দেখার কথা বলা আছে।

অধিনায়কদের দায়িত্ব যতই থাকুক না কেন আম্পায়াররা সব সময়েই যে কোন ঘটনার সিদ্ধান্ত দানের ক্ষেত্রে একমাত্র বিচারক। সংগত বা অসংগত খেলা নির্ণয় করার জন্য তাঁদের সুক্ষ্ম বিচার বুদ্ধির প্রয়োজন। সংগতভাবে খেলা পরিচালনা করার ক্ষমতা তাঁদের এই আইনে যথেষ্ট দেয়া আছে, তবে দেখতে হবে তা যেন চরম নিরপেক্ষতার মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।

আরও দেখা দরকার যে আম্পায়ার যেন অতিরিক্ত উত্তেজনা বশতঃ কোন সংগত ঘটনার ক্ষেত্রে বিনা প্রয়োজনেও আইনের বাইরে হস্তক্ষেপ করে ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা না করেন। এতে খেলার সময় সংক্ষেপ ঘটে ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট হয়। প্রকৃতপক্ষে বিনা আবেদনে একমাত্র নীতি বিরুদ্ধ খেলার জন্য আম্পায়াররা হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

তাই অসংগত খেলা কিভাবে খেলা চলাকালীন মাঠে ঘটে সে বিষয়ে আম্পায়ারদের সজাগ থাকা ও সতীর্থের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এই আইনগুলির উপর সম্পূর্ণ দখল থাকাও তার তৎক্ষণিক সুষ্ঠু প্রয়োগই উঁচু মানের আম্পায়ারিং এর পরিচারক।

ব্যাটসম্যান ও বোলারদের বা ফিল্ডারদের ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠে খেলা চলাকালীন সময় নষ্ট শুধু অসংগত নীতিবিরুদ্ধ নয়, গুরুতর অপরাধও বটে। এই ঘটনা প্রথমে আপোষ আলোচনায় সফল না হলে কঠোর হাতে দমন করা দরকার ও এর জন্য ব্যাটসম্যান, বোলার বা ফিল্ডার কারো সাথে আম্পায়ারদের কোন রকম আপোষে আসার প্রয়োজন নেই।

যদি কোন দল সময় নষ্ট করে তাহলে তার বিপক্ষে তখনই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা আম্পায়ারদের নিতে হবে। যখন আম্পায়ার একটি অসংগত খেলার বিষয় মোকাবেলা করবেন, তখনই তাকে বিনা আবেদনে ‘ডেড বল’ ডাকতে ও সংকেত দিতে হবে। সময় নষ্টের ব্যাপারে এই আইনের ১০ নং উপধারায় যা কিছু বর্ণিত আছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা সুষ্ঠুভাবে আম্পায়ারদের প্রয়োগ করা উচিত

খেলা চলাকালীন আর একটি সমস্যায় আম্পায়ারদের প্রায়ই পড়তে হয়। তা হলো একটি নতুন বল খেলতে খেলতে পুরনো হলেই বোলার বা ফিল্ডাররা অনেক সময় সেটিকে অসংগতভাবে আরোও ঘষে বা নখের সাহায্যে সীমের (সেলাই) সুতা ওঠাতে চেষ্টা করেন ।

এর ফলে যে সব স্পিনার আঙুলের দ্বারা বল স্পিন করেন তাদের অত্যন্ত সুবিধে হয়ে থাকে। বলের এই সুতো তোলা কাজটি ক্রিকেট খেলার আপত্তিজনক ও অসংগত কাজ। তার জন্য এই আইনের ৪নং উপধারা ও টীকা (অ)- এতে যা যা নির্দেশ দেয়া আছে তাই আম্পায়ারদের প্রয়োগ করা উচিত।

বল ঠিক করে আঙুল দিয়ে ধরার জন্য বোলাররা ও ফিল্ডাররা তার “সীম” (সুতা) বা চামড়ার বাইরে বা উপরের স্তরটি ওঠানোর এই ধরনের বেআইনী কাজ করলে আম্পায়ার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে ওই বলটির অবস্থার আর একটি পুরনো বল তার বদলে ব্যবহার করার নির্দেশ দেবেন।

এই অবস্থা যাতে না ঘটে সেজন্য আম্পায়ার সদা সতর্ক থাকবেন। আম্পায়ারদের এই সজাগ দৃষ্টি বোলার ও ফিল্ডারকে বিধি নিষেধ ভাঙ্গার প্রবণতা থেকে বিরত রাখবে। সাধারণত বোলাররা আম্পায়ারদের পেছনে তাঁর “রান আপ” নেবার নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছবার সময় উপরিল্লেখিত এই অসংগত কাজটি সকলের অগোচরে করে থাকেন; যাতে আম্পায়ারদের দৃষ্টি আকর্ষণ না করে। এক্ষেত্রে স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ার দরকার হলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে সাহায্য করতে পারেন।

এসব ক্ষেত্রে বল বদলের সিদ্ধান্ত নিতে হলে আম্পায়ারের কর্তব্য হচ্ছে স্ট্রাইকারকে ঠিক সময় মত তা জানিয়ে দেয়া।

অসংগত খেলার জন্য কোন বোলার, ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডারকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কতকগুলি পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা আইনে বলা আছে:

যেমনঃ

১। সতর্ক করা।

২। চূড়ান্ত সাবধান করা।

৩। শাস্তি কার্যকরী করা।

৪ । যথাস্থানে ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ করা।

 

নীতি বিরুদ্ধ খেলা

ফিল্ডিং দলের যে কোন সদস্য এই আইনের দ্বারা খেলা চলাকালীন বলের মসৃণতা বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এর জন্য কোন কৃত্রিম বা তৈল জাতীয় বস্তু ব্যবহার বা বলটি মাটিতে ঘষাঘষি করা নিষিদ্ধ। বল খেলার সময় ভিজে গেলে যে কোন (ফিল্ডিং দলের তোয়ালে বা কাঠের গুঁড়ো দিয়ে তা শুকিয়ে নিতে পারেন বা কাদা লেগে গেলে মুছে ফেলতে পারেন।

আম্পায়ারদের মনে রাখা উচিত যে বোলার বা ফিল্ডারদের ঘাম বলে লাগানোর ব্যাপারটি কৃত্রিম বস্তুর ব্যবহার বলে গণ্য হবে না। তবে মাথার তেল, ক্রীম,চর্বি, মাথার যে কোন লোসন কৃত্রিম বস্তু বলে ধরা হবে। উপরোক্ত কৃত্রিম বস্তু বলে ব্যবহারের যে কোন ঘটনা মাঠে ঘটলে আম্পায়ারদ্বয় তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে।

দলের অধিনায়কের আইন লঙ্ঘনের জন্য সেই বলটি অপর একটি সমমানের বলের দ্বারা বদল করে ফিল্ডিং ফিল্ডারদের জানা উচিত যখন একজন ব্যাটসম্যান ক্রীজে দাঁড়িয়ে বল খেলতে উদ্যত হচ্ছেন তখন তিনি তাঁদের দলের কোন খেলোয়াড় কোন শব্দ বা অঙ্গভঙ্গির দ্বারা। তাকে উত্যক্ত করেন, তবে তা অসংগত খেলা বলে গণ্য হবে।

তবে সময় সময় এও দেখা গেছে যে এক্ষেত্রে আম্পায়ারদের কিছু করণীয় থাকে না, বা তাঁরা হস্তক্ষেপ করেন না। ব্যাটসম্যান নিজেই দরকার হলে অনেক ক্ষেত্রে উইকেট ছেড়ে সরে দাঁড়ান, এবং বোলারের ডেলিভারিটি খেলতে অস্বীকার করেন। এর ফলে অসংগত আচরণকারী ফিল্ডারটি শান্ত হয়ে যায়।

এই ব্যাপারটি ব্যাটসম্যানদের ঠিক সামনে ফিল্ডারদের ছায়া পীচের উপর নড়াচড়া করে এবং ফলে তিনি বল ঠিকমত খেলতে পারেন না। এসময় ব্যাটসম্যানদের উচিত বিষয়টি প্রথমে ফিল্ডিং দলের অধিনায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তবে এটাও ঠিক যে যতক্ষণ না সেই ফিল্ডার ঠিক পীচের উপরেই দাড়াচ্ছেন ততক্ষণ তাঁর অধিনায়ক ফিল্ডারকে অনেক সময় সেখান থেকে সরাতে চান না।

কেবল তাকে নড়াচড়া না করে স্থির হয়ে দাঁড়াবার নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু পীচে ফিল্ডারের ছায়া পড়া মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। তবে ওই ছায়া ব্যাটসম্যানের দৃষ্টিগোচর না হলেই ভাল। কিন্তু আইন ৪১.৩ অনুযায়ী ফিল্ডসম্যানরা দাঁড়াতে বা তাঁদের দেহ পীচের ভিতর প্রসারিত করতে পারেন না।

উইকেটের ভিতর রান নেবার জন্য দৌড়াতে ব্যাটসম্যানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাদান করা অসংগত খেলার অন্তর্গত। এক্ষেত্রে যখনই বাধাদান করা হবে তখনই আম্পায়ার ডেড বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন। এই অবস্থায় বাউন্ডারি ক্ষেত্র ছাড়া যে রানটি দৌঁড়ে নেয়া হচ্ছিল, সেটি সহ অন্য সব সংগৃহীত রানগুলি গ্রাহ্য হবে।

ব্যাটসম্যানেরা পরস্পর অতিক্রম করুক আর না করুক সেই রানটি ধরা হবে এবং যিনি যেদিকে সৌড়াচ্ছিলেন তিনি সেদিকের উইকেটে গিয়ে অবস্থান করবেন। এই আইনে ৭ নং উপধারাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্রিকেট জগতে বহু ঘটনার সমাধান হয়েছে ।

ক্রমান্বয়ে দ্রুত শর্ট পীচ বল ব্যাটসম্যানের উদ্দেশে ডেলিভারি করা অসংগত খেলা বলে গণ্য হবে, যদি বোলার প্রান্তের আম্পায়ার মনে করেন যে সেই বোলিং প্রকৃতপক্ষে ব্যাটসম্যানকে ভয় দেখাবার বা আঘাত করার জন্য করা হচ্ছে। বোলার ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটসম্যানকে দ্রুত শর্ট পীচ বল দিয়ে ভয় প্রদর্শন বা আহত করার চেষ্টা করছেন কিনা এর মূল্যায়ন বলের গতিপথ, উচ্চতা ও পীচ পড়ার জায়গাটি ভাল ভাবে লক্ষ্য করে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার বিচার করবেন।

তবে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার স্ট্রাইকারের দক্ষতা ও ঐ সব বলগুলি মোকাবিলা করে খেলার ক্ষমতাও এর সঙ্গে লক্ষ্য করবেন তবে তা বিচার করা আম্পায়ারদের পক্ষে শক্তকর ও বিতর্কমূলক হয়ে থাকে ।

দেখা যায় সাধারণত ভাল বোলাররা ভাল ব্যাটসম্যান হন না, কিন্তু তাঁরাও মাঝে মাঝে শর্ট পীচ বাম্পার নিখুঁতভাবে হুক করেন। সেজন্য আম্পায়ারদের পক্ষে এর মুল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সঠিক মূল্যায়নের পর কোনো অদক্ষ ব্যাটসম্যানকে এই ধরনের বল করা হলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার সেই বোলারকে প্রতি ক্ষেত্রে নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন। তারপর সতর্ক করে চূড়ান্ত সাবধান করবেন, এবং পরে যা যা করণীয় তা পর্যায়ক্রমে যথাস্থানে অভিযোগ করবেন।

(উপধারা ৮ (ক) (খ) (গ) ইত্যাদি দেখুন) এই ধরনের অসংগত শর্ট পীচ বল এক ওভারে কটা দেয়া যাবে, তা আইনে বলা নেই। একটিও হতে পারে আবার কয়েকটিও হতে পারে, এবং আম্পায়ার যদি মনে করেন তবে সবগুলিকেই অসংগত বলে বিচার করবেন। আর সেই বোলার যদি প্রান্ত বদলও করেন তাহলে উপরোক্ত সতর্কতা ও চূড়ান্ত সাবধান করার আওতায় থাকবেন ।

 

ক্রমান্নয়ে দ্রুত ফুল পীচ ও উঁচু বোলিং করা অসংগত বলে ধরা হবে। যখন বোলার প্রান্তের আম্পায়ার মনে করবেন যে বোলার বলটি ইচ্ছাকৃতভাবেই স্ট্রাইকারের উদ্দেশে ডেলিভারি করছেন, তবে স্ট্রাইকার ক্রীজে স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করবার জন্য ব্যাট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় সেই বলটি তার কাঁধের উপর দিয়ে যাচ্ছে বা যেতে পারতো।

এ সবের বিচার আম্পায়ারকে করতে গেলে তাঁকে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে বলটি ডেলিভারি হবার সাথে সাথে বিশেষ নজর দিতে হবে, যখনই আম্পায়ার সমস্ত বিষয়টি দেখে শুনে বলটি অসংগত ডেলিভারি বলে গণ্য করবেন, তখনই তিনি নো বল ডাকবেন এবং সংকেত দেবেন ও তারপর যা যা আইনে বলা আছে, যেমন সতর্ক করা, চূড়ান্ত সাবধান করা, আইন অনুযায়ী কার্যকরী করা ও তারপর যথাস্থানে অভিযোগ করবেন।

তবে এও মনে রাখতে হবে, যদি সেই দোষী বোলারটি তাঁর প্রান্ত বদল করেন এবং সেই দিক থেকেও ঐরূপ অসংগত বল ডেলিভারি করতে থাকেন তবে সেই প্রান্তের আম্পায়ারও আবার নো বল ডাকবেনও উপরোক্ত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। বোলাররা মাঝে মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুত এক (ফুল পীচ) পীচে বল ব্যাটসম্যানদের প্রতি নিক্ষেপ করে থাকেন। এটাও একটি অসংগত বোলিং। সেক্ষেত্রেও আম্পায়ারের আর কিছু করণীয় নেই। তিনি বোলারকে সতর্ক, চূড়ান্ত সাবধান, বিপক্ষে ব্যবস্থা নেবেন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানাবেন ।

খেলা চলাকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করা অসংগত খেলার আর একটি অর এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা আম্পায়ারদের পক্ষে বেশ কষ্টকর। এই অসংগত খেলায় দুই দলই ম্যাচ চলাকালীন যুক্ত থাকে। কারণ তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে পরাজয় এড়ানো। অবশ্য এটি দমন করার জন্য এম.সি. সি. রচিত ক্রিকেটের আইন প্রতি পদক্ষেপে আম্পায়ারদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক যখন তখন ইচ্ছাকৃতভাবে তার ফিল্ডারদের সরিয়ে এনে মাঠে সাজাতে পারেন।

তাতেও যথেষ্ট সময় হয়ে থাকে। ফিল্ডারদের মন্থরগতিতে মাঠে চলা ফেরা করা বোলারদের রান আপে নিজের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে দেরি করা প্রভৃতি সবই অসংগত খেলা বলে ধরা হয়। অপরদিকে ব্যাটসম্যানরাও ক্রীজে পৌঁছাবার সময় মাঠে আস্তে হাঁটা, গার্ড নেয়া, হাতের গ্লাভস ঠিক করা বা খোলা প্রভৃতির মাধমে বহু সময় ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করেন। এসব ক্ষেত্রেও উপরোক্ত আইন অনুযায়ী আম্পায়ারদের ব্যবস্থা অবলম্বন করা উচিত।

অনেক সময় খেলা চলাকালীন বোলারকে বল ফেরৎ দেবার সময় ফিল্ডাররা বলটি নিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছোঁড়াছুঁড়ি করে সময় নষ্ট করেন। তার উপর আবার বল নিয়ে ফিল্ডার মসৃণ করবার জন্য সময় নষ্ট হয়। কোন কোন সময় একজন ব্যাটসম্যান আউট হবার পর ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক যতক্ষণ না নতুন ব্যাটসম্যান ক্রীজে এসে পৌঁছাচ্ছেন, ততক্ষণ তিনি স্ট্রাইকার ডান হাতের না বা হাতের তা জানা সত্ত্বেও ফিল্ডারদের পুনরায় সাজাতে দেরি করে সময় নষ্ট করেন।

মাঠে এইসব অসংগত খেলার জন্য আম্পায়াররা অধিনায়ক, বোলার বা যে কোন ফিল্ডার বা ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে পর্যায়ক্রমে উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলি কার্যে পরিণত করবেন। তবে যদি একজন নতুন ব্যাটসম্যান মাঠে আসতে বেশি দেরি করেন, তিনি অসংগত আইনের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। কারণ তাঁকে আইন লঙ্ঘন করার দায়ে আইনের ৩১ নং ধারায় (টাইমড আউট) শাস্তি প্রয়োগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

আম্পায়ারদের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের নিয়ে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, খেলা চলাকালীন খেলোয়াড়দের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে পীচের ক্ষতি করা। প্রথমত তাদের মধ্যে এই ক্ষতি রেষারেষির মনোভাব জাগিয়ে তোলে। ফিল্ডিং পক্ষের বোলার ও ফিল্ডাররা সব সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পীচের ক্ষতি করতে চেষ্টা করেন, যাতে ব্যাটসম্যানদের খেলার অসুবিধা হয়।

আবার ব্যাটিং পক্ষের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরাও ইচ্ছাকৃতভাবে দুই প্রান্তের পাঁচ নষ্ট করতে চেষ্টা করেন, যাতে ফিল্ডিং পক্ষের ব্যাটসম্যানরা পরে ব্যাট করার সময় অসুবিধায় পড়েন। এইরূপ ঘটনা বহুকাল ধরে চলে আসছিল। পরিশেষে এম.সি.সি. অনেক চিন্তা ও আলোচনা করে এই আইনের টাকা (ই) তে “বিপজ্জনক এলাকা” নামে পীচের একটি বিশেষ অংশ চিহ্নিত করেছে।

এই টাকা প্রচলনে আম্পায়ারদের পক্ষে অনেক সুবিধা হয়েছে এবং তারা এই অসংগত খেলাটি অনায়াসেই কঠোর হাতে দমন করতে পারেন। সাধারণত এইগুলি বোলারদের দ্বারা ঘটে থাকে । তাঁরা বল করার পর তাঁর “ফলো থ্রু” শেষ হবার সময় এই পাঁচ নষ্ট করার কাজটি করে থাকেন।

ফিল্ডাররাও চলাফেরা ও পীচ অতিক্রম করার সময় এই অসংগত খেলার পরিচয় দিয়ে থাকেন। আম্পায়ারদের আরও মনে রাখা উচিত যে বিপজ্জনক এলাকা ছাড়াও ক্রিকেটাররা এই অসংগত খেলায় পীচের অন্য অংশও নষ্ট করেন, সেটি তাদের আইন অনুযায়ী দমন করা উচিত।

টসের পর ম্যাচ চলাকালীন পীচ রক্ষা করা আম্পায়ারদের একটি প্রধান কর্তব্য। তাঁরা সব সময়ে পীচের অপব্যবহার কঠোর হাতে বন্ধ করার প্রয়াস চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে আম্পায়াররা সব সময় সাধারণ প্রথা অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা হলো পর্যায়ক্রমে সতর্ক করা, চূড়ান্ত সাবধান করা এবং সেই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা।

মাঝে মাঝে দেখা যায় ব্যাটসম্যান পীচ ভাল করার জন্য খেলার পর ব্যাট দিয়ে। ঠোকেন। সেটি উত্তম প্রচেষ্টা। কিন্তু আরো দেখা যায় যে ৯ নং বা ১০ নং ব্যাটসম্যানরা পীচ আগে ক্ষত হয়ে থাকলে সেটা ব্যাট দিয়ে আরও বাড়িয়ে নষ্ট করে দেন, যাতে পরবর্তী ব্যাটিং দল ৭ মিনিট রোলিং পাবার পরও পীচ অক্ষতভাবে না পায় ও অসুবিধায় পড়ে।

এই কাজটি অত্যন্ত গর্হিত এবং আম্পায়ারদের উচিত তা কঠোর হস্তে দমন করা। একটি দলের ইনিংসের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট করার সময় এ বিষয়ে আম্পায়ারদের ভীষণ নজর রাখার প্রয়োজন আছে ।

আরও একটি অসংগত খেলার উদাহরণ হলো, বল ডেলিভারির সময় বোলাররা যখন দৌড়ে আসেন, তখন স্ট্রাইকার ও ননস্ট্রাইকার উভয়ের দ্বারা বলের খেলার মেয়াদ শুরু হয়েছে বলে রান চুরির কোন প্রচেষ্টা চালানো।

এক্ষেত্রে যদি বোলার কোন একজন ব্যাটসম্যানকে রান আউট করবার জন্য তাঁর উইকেটের দিকে বল না ছোড়েন, তবে স্ট্রাইকার ও ননস্ট্রাইকার রানটি নেবার চেষ্টায় পরস্পরকে অতিক্রম করা মাত্রই বোলার প্রান্তের আম্পায়ার ডেড বল ডাকবেনও সংকেত দেবেন এবং ব্যাটসম্যানরা যে যার নিজের উইকেটে ফিরে যাবেন।

কিন্তু এই অসংগত রান চুরির জন্য যদি বোলার স্ট্রাইকার উইকেটে বলটি ছোঁড়েন, আম্পায়ার তখন নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন। তবে বোলার যদি ননস্ট্রাইকারের দিকে ছোঁড়েন, তবে আম্পায়ার নো বল ডাকবেন না। কিন্তু যে রানগুলি এই সুযোগে নেয়া হবে, সেগুলি অতিরিকের ঘরে নো বল হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং বাউন্ডারিও হতে পারে। বলটি ওভারে গণ্য হবে না। এবং আর একটি অতিরিক্ত বল বোলার দেবেন।

খেলোয়াড়দের আচরণ সম্বন্ধেও এই আইনে অনেক কিছু বলা হয়েছে। সাধারণত খেলোয়াড়েরা মাঠে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত খেলার সময়ে এখনও মেনে নিয়ে থাকেন।

আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্তের বিষয় অভিযোগ থাকলে অধিনায়করা লিখিত ভাবে গোপনে কর্তৃপক্ষকে জানান। তবে এটা দুঃখের বিষয় যে প্রতিভাবান ও উচ্চাভিলাসী ক্রিকেটাররা প্রায়ই দেখা যায় তাঁদের মেজাজের ভারসাম্য খেলার মাঠে। হারিয়ে ফেলেন। অবশ্য মাঝে মাঝে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত বিচলিত করে থাকে এবং তা স্বাভাবিক ।

আম্পায়াররাও সাধারণ মানুষ। তাঁদেরও কখনও কখনও ভুল সিদ্ধান্ত দেয়া অস্বাভাবিক নয়। এমন কি ক্রিকেটাররাও খেলায় ভুল করে থাকেন। কিন্তু সংগতভাবে ও সুস্থ পরিবেশে ক্রিকেট খেলার স্বার্থেই সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে খেলোয়াড়দের খেলতে হবে ও আইনগুলি মানতেই হবে: তার জন্য সকলের সহযোগিতার প্রয়োজন।

খেলায় যাতে মন্দ ভাষা প্রয়োগ বা মন্দ আচরণ ও আম্পায়ারদের সমালোচনা না ঘটে, সে জন্য আম্পায়াররা প্রথম থেকেই মোকাবেলা করবেন। দর্শকদের উশৃঙ্খল আচরণ দমন করতেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং এইগুলি বন্ধ করতে গেলে ক্রিকেট সংস্থার কর্মকর্তা সব সময়েই আম্পায়ারদের সাহায্য করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 

আম্পায়াররাও যেমন দৃঢ়চিত্ত ও নিরপেক্ষ হবেন সেইরূপ সংস্থার কর্মকর্তারাও সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য নিরপেক্ষ হবেন। সাধারণ স্কুল ক্রিকেট থেকে টেস্ট ম্যাচ অবধি সর্বস্তরে উপরোক্ত ব্যবস্থা নিয়ে ক্রিকেট সংস্থার কর্মকর্তাদের সঠিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

মাঠে ছোট একটি অভদ্র আচরণ আম্পায়াররা যদি তৎক্ষণাৎ ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারেন, তবে পরবর্তী কোন একটি বড় ঘটনাকে বা সমস্যা তাঁদের পক্ষে ভালভাবে ও তাড়াতাড়ি আয়ত্বে আনতে সুবিধা হবে ও তখন জড়িত অধিনায়ককে অভিযোগ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আবার এও দেখা যায় যে অধিনায়ক আম্পায়ারের অভিযোগ সব সময়ে ঠিকমত পালন করেন না। তখন তাঁর আর কিছু করার থাকে না। এই সময় তিনি ও তার সতীর্থ সরাসরি সেই দলের কর্মকর্তা বা ম্যাচের গভর্নিং বডিকে জানাবেন যাতে দোষী খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সর্বদা আম্পায়াররা মনে রাখবেন যে তাঁরা যথেচ্ছাচারী বা সর্বেসর্বা নন এবং তাঁদের পক্ষে দৃঢ়ভাবে পরিচালনা করতে গেলে মর্যাদা দ্বারা কঠোর অথচ বিনীতভাবে প্রতি পদক্ষেপে বিশেষ আচরণ প্রয়োজন।

আম্পায়ারদের পক্ষ থেকে করাও যেন ক্রিকেটারদের মর্যাদা রেখে নম্রভাবে বলা হয় এবং এই সতর্কীকরণ যেন বাছাই করা কথা প্রয়োগের দ্বারা নিষ্পত্তি করা হয়, যাতে পরে সেই আম্পায়ার উপহাসের পাত্র না হয়ে পড়েন। ক্রিকেটারদের মাথার নিরাপত্তামূলক আচরণ সম্বন্ধে আইনে কোন কিছুই বলা নেই ।

স্ট্রাইকার, ননস্ট্রাইকার, উইকেটরক্ষক ও সাধারণত নিকটবর্তী ফিল্ডাররা হেলমেট ব্যবহার করতে পারেন, তবে আর কেউই নয়। ফিল্ডাররা ব্যান্ডেজ ও দস্তানা (গ্লাভস) ব্যবহার করতে পারবেন না। অত্যধিক প্রয়োজনে অবশ্য ফিল্ডাররা ব্যান্ডেজ ব্যবহার করে থাকেন তবে তা কেবল ব্যাটিং দলের অধিনায়ক বা যে দু’জন ব্যাটসম্যান ক্রীজে ব্যাট করছেন তাদের অনুমতি নিয়েই, তাছাড়া নয়।

বোলাররা কোন কাপড় বা সঞ্চ তোয়ালে কব্জিতে বেঁধে বল করতে পারবেন না, আর ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার তো কোনমতেই নয় । এক্ষেত্রে উইকেটে ব্যাটসম্যানদ্বয়ের অনুমতি প্রয়োজন। আম্পায়াররা যতদূর সম্ভব, আইনে না বলা থাকলেও ফিল্ডার বা বোলারের হাতে চকচকে ঘড়ি, আংটি-ও লোহার বালা ব্যবহার বন্ধ করবেন।

সর্বশেষে আম্পায়ারদের সদ্ব্যবহার নম্রতা ও তৎক্ষণাৎ সাধারণ বুদ্ধির দ্বারা ক্রিকেটারদের অসংগত খেলার ও অসৎ আচরণের মোকাবেলা করার জন্য সবসময়ে প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।

Leave a Comment