ক্রিকেটের আউটের আবেদন । ক্রিকেট খেলার ২৭ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
Table of Contents
ক্রিকেটের আউটের আবেদন । ক্রিকেট খেলার ২৭ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
১। আবেদনের সময়
যতক্ষণ না অপর দল কর্তৃক আবেদন করা হচ্ছে, সেটি বোলারের রান আপ বা পরবর্তী বল ডেলিভারির জন্য তাঁর বোলিং একশন শুরু হবার আগে করতে হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আম্পায়ার ব্যাটসম্যানকে আউট দেবেন না।
আইন নং ২৩.১ (ঋ) এর অধীনে (বল ‘ডেড’ হয়) ওভার ডাকলে বল ডেড’ হয়। তথাপি এটি অবশ্য টাইম’ না ডাকা হলে, পরবর্তী ওভারের প্রথম বলটি দেবার পূর্বে আবেদন করলে তা বাতিল করা যায় না। আইন নং ১৭.১ (টাইম ডাকা) দেখুন ।
২। হাউজ দ্যাট
একটি “হাউজ দ্যাট” আবেদন সকল রকমের আউট হবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
৩। আবেদনের উত্তর
শুধুমাত্র আইন নং ৩৫ (হিট উইকেট) বা আইন নং ৩৯ ( ষ্টাম্পড) বা আইন নং ৩৮ (রান আউট) এর অধীনে স্ট্রাইকার উইকেটের দিকে যে সব ঘটনা হয় তা বাদে অন্যান্য সমস্ত আবেদনের ক্ষেত্রে অপর আম্পায়ারের আগে বোলার উইকেটের আবেদনের উত্তর দেবেন।
যখন কোন একজন আম্পায়ার একজন ব্যাটসম্যানকে “নট আউট” দিয়েছেন তখন অপর আম্পায়ার তাঁর অধিকারভুক্ত আবেদনের বা পরবর্তী আবেদনের উত্তর দেবেন অবশ্য তা উপরোক্ত আইন ১নং উপধারা (আবেদনের সময়) অনুযায়ী সময় মত হয়ে থাকে।
৪। আম্পায়ারের পরামর্শ
একজন আম্পায়ার অপর আম্পায়ারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। কোন বাস্তব ঘটনার সম্বন্ধে যে ঘটনাটি দেখার ক্ষেত্রে শেষোক্ত আম্পায়ার দেখার জন্য অধিকতর ভাল জায়গায় ছিলেন এবং তারপর তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত দেবেন। যদি এই পরামর্শের পরও কোন সন্দেহ থেকে যায় তাহলে সিদ্ধান্তটি ব্যাটসম্যানের অনুকূলেই যাবে ।
৫। ব্যাটসম্যানের ভুল করে উইকেট ত্যাগ
আম্পায়ারদ্বয় যদি সন্তুষ্ট হন যে আউট না দেয়া সত্ত্বেও একজন ব্যাটসম্যান ভুলবশতঃ আউট হয়েছে ধরে নিয়ে তার উইকেট ত্যাগ করেছেন, তাহলে তখনই তাঁরা হস্তক্ষেপ করবেন ।
৬। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত
আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন, যদি সেই তৎক্ষণাৎ করা হয় ।
৭। আবেদন প্রত্যাহার
কোন ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে বহির্গামী ব্যাটসম্যান খেলার মাঠ ছেড়ে চলে না গেলে ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক আম্পায়ারের কাছে আবেদন প্রত্যাহার করার জন্য অনুমতি চাইতে পারেন। যদি তা অনুমোদিত হয় তবে আম্পায়ার তাঁর সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন।
জ্ঞাতব্য বিষয়
আম্পায়ার কোন আউটের আবেদনে সাড়া দিতে পারবেন না যতক্ষণ না ফিল্ডিং দল কোন আবেদন নির্ধারিত সময় থাকার ভিতর তা করেন। সমস্ত দেখে ও বুঝে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার যখন ২৩ নং আইন অনুযায়ী “ওভার” ডাকেন তখন সেই বলটির। খেলার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই আইনের অধীনে এও বলা আছে যে যদিও আম্পায়ার “ওভার” ডেকেছেন ও বলটিও “ডেড বল” গণ্য হয়েছে তবুও কোন বোলারের পরবর্তী ওভারের প্রথম বলটির বোলিং কার্য শুরু করার আগ পর্যন্ত ঠিক আগের ওভারের শেষের বলের কোন ঘটনার জন্য আউটের আবেদন চলতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট আম্পায়ার সেটা উত্তর দিতে বাধ্য।
কিন্তু “টাইম” ডাকার পর আর আউটের আবেদন গ্রাহ্য হবে না। যখন কোন একদিনের সীমিত ওভারের খেলায় বা তিনদিন মেয়াদি খেলার শেষের দিকে পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হয় তখন অনেক সময় ফিল্ডিং দলের পক্ষে থেকে স্বপক্ষে দ্রুত ফলাফল পাবার জন্য ঘন ঘন আবেদনের দ্বারা বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে কেবল বিরক্ত ও চাপ সৃষ্টি করা হয় ।
এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আম্পায়ার যদি ধীর, স্থির ও সতর্ক না থাকেন তবে তাঁর ভুল করা আশ্চর্যের বিষয় নয়। সে ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ়তার সাথে মিথ্যা আবেদনগুলিতে কোনরকম প্রভাবান্বিত না হয়ে সরাসরি আগ্রাহ্য করবেন। এই আইনের অধীনে ৪নং উপধারা পড়ুন, বুঝুন ও অনুধাবন করুন। এতে “পরামর্শ” ও “এক্তিয়ার হস্তান্তর” বিষয়ে বিশদভাবে বলা আছে। অনেকের মতে পরামর্শ করে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া দুর্বলতার পরিচয় মাত্র। এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত যদি সেই পরামর্শের পরে একজন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে যায় তখন তিনি আম্পায়ার দুর্বল চিত্ত সম্পন্ন বলে আখ্যা দেন ও অসন্তুষ্ট হন।
ক্রিকেট খেলোয়াড়দের এই সব ঘটনা ঘটলে ঠান্ডা মাথায় মেনে নেয়া উচিত। অবশ্য দুই আম্পায়ার যদি বেশি পরামর্শ করেন তাঁদের ওপর খেলোয়াড়দের আস্থা কমে। যাওয়া স্বাভাবিক। এই পরামর্শ হিসাবে কেবল যদি কোন আম্পায়ার কোন ঘটনাকে বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার ফলে প্রত্যক্ষ দেখে থাকেন তবেই যতদূর সম্ভব কম। সময়ের মধ্যে অপর আম্পায়ারের সাহায্যার্থে জিজ্ঞাসার উত্তর “হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলে শেষ করবেন, যাতে যিনি সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি যেন ভুল না করেন ।
তবে এটাও দেখা গেছে যে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার কোন একটি ঘটনা হয়তো ভালভাবেই দেখেছেন, কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত দিতে ইতস্ততঃ করায় বা যাতে সরাসরি নিজেকে নিতে না হয় সে উদ্দেশে তিনি তাঁর সতীর্থের সাথে পরামর্শ করতে উৎসাহ দেখান যাতে তাঁর সিদ্ধান্তটি ভুল হলে তাঁর সম্পূর্ণ দায়িত্ব না থাকে। কিন্তু কোন আম্পায়ারের এই রকম অবস্থা কখনই সৃষ্টি করা উচিত নয়; এতে দুজনেরই আম্পায়ারিং বিষয়ে সুনাম হারাবার সম্ভাবনা থাকে।
যদি একজনের এই ব্যাপারে ভুল হয় তাহলে দুজনেরই নাম সেই ভুল জড়িয়ে পড়ে। তবে যদি দুজনেই এ রকম কোন ব্যাপারে পরামর্শ করে বোঝেন যে সিদ্ধান্তে আউট হতেও পারে বা নাও পারে সে ক্ষেত্রে আম্পায়ারের ব্যাটসম্যানের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়া উচিত। একটি ফিল্ডসম্যান যখন কোন আম্পায়ারের কাছে আবেদন করেন এবং তিনি যদি তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে বলে কোন সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ হন তাহলে তাঁর সরাসরি “নট আউট” বলা ছাড়া আর কিছু করণীয় নেই। তখন ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক বা তাঁর কোন ফিল্ডার অপর আম্পায়ারের কাছে আর একটি আবেদন করতে পারেন ।
৬ নং উপধারা অনুযায়ী এই আইনে আম্পায়ার তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন কিন্তু সেটি তাৎক্ষণিক বা সম্ভাব্য তৎপরতার সঙ্গে হওয়া চাই। আবার ৫ নং ধারা অনুসারে অনেক সময় দেখা যাচ্ছে যে কোন ব্যাটসম্যান তিনি আউট হয়েছেন বলে ভুলক্রমে তাঁর উইকেট ত্যাগ করে চলে যেতে উদ্যত হন। সে ক্ষেত্রে এমন কি দেখা যায় যে আম্পায়ার বলা সত্ত্বেও তিনি আম্পায়ারের কথা শোনেন না। আম্পায়ারের তখন আর কিছু করার নেই এবং বলের যদি খেলার মেয়াদ থাকে তখনই ‘ডেড বল” ডাকা উচিত ।
যদি ব্যাটসম্যান আম্পায়ারের কথা না শোনেন তখন সেই ব্যাটসম্যান “রিটায়ার্ড আউট” বলে গণ্য হবেন। তবে এখনকার আইনে ফিল্ডিং দলের অধিনায়ককে আম্পায়ারের অনুমতি সাপেক্ষে আউটের আবেদন প্রত্যাহার করে নেবার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তিনি আম্পায়ারের কাছে আবেদনটি যাতে ফিরিয়ে নিতে পারেন সে ভাবে অনুরোধ করবেন। আম্পায়ারদ্বয় তখন পরামর্শ করে আউটের সিদ্ধান্ত বদল করে ব্যাটসম্যানকে খেলা চালিয়ে যাবার জন্য ডেকে নিতে পারেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাটসম্যানটি ইতিমধ্যে যেন মাঠের বাইরে না গিয়ে থাকেন সেই আইনগত ব্যাপারটি আম্পায়ার ভাল করে দেখবেন।
এই আইনের দ্বারা একটি “হাউজ দ্যাট” আবেদন সব রকমের আউটের বিষয় বোঝায়। তবে একটা এল.বি. ভবলা আবেদন হলে সেটা বোলার প্রান্তের আম্পায়ারই ‘নট আউট’ বলবেন বা ‘আউটের” নির্দেশ দেবেন। ফিল্ডারদের আউটের জন্য আবেদন যখন তখন মাঠে হয়ে থাকে এবং বলের খেলার মেয়াদ থাকাকালীন আম্পায়ারদের অত্যন্ত সজাগ থাকা উচিত কোনটা তারমধ্যে সঠিক ও সমর্থনযোগ্য। যদি কখনও একটি এল. বি ডবল্যু আউটের আবেদন বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের দ্বারা নাকচ হয়ে থাকে সেটি আবার ফিল্ডারের বা উইকেটরক্ষকের দ্বারা কৃত ক্যাচের জন্য পুনরায় আবেদন হতে পারে।
এক্ষেত্রে অনেক সময় স্কোরারের পক্ষে বুঝতে বেশ অসুবিধা হয় এবং আউট যদি হয়েই থাকেন সেটা ক্যাচ আউট হয়েছেন না এল. বি. ডবল) আউট হয়েছেন তা স্কোরারকে ভালভাবে জানানো উচিত। দুই প্রান্তের আম্পায়ার আউটের নির্দেশ দেয়ার এক্তিয়ারের বিষয় ফিল্ডারের সব সময়ে জানা উচিত এবং সেই হিসাবে তাদের আবেদন করা উচিত। ফিল্ডারদের আইনের অজ্ঞতার জন্য অনেক সময় আবেদনটি সংশ্লিষ্ট নয় এরকম আম্পায়ারের নিকটও করা হয়ে থাকে।
যার কাছে আবেদন করা উচিত তাকে না করে অন্যজনকে করা হয়। এক্ষেত্রে তিনি যেন ফিল্ডিং দলের অধিনায়ককে উপযুক্ত পরামর্শ দেন ও বলে দেন যে সেই আবেদনটি। অন্য আম্পায়ারের এক্তিয়ারের মধ্যে ও তাকে আবেদন করা হোক। কোন একজন আম্পায়ারের নিকট আউটের আবেদন নাকচ হলে ফিল্ডিং দল যদি মনে করে আবার অন্য আম্পায়ারের কাছে আবেদন করা উচিত তা করতে পারে ও দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে তাতে ফল লাভ হয়েছে।
একটি এল. বি ডবল্যু আবেদন যদি বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের কাছে অগ্রাহ্য হয় সেটি আবার স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারের নিকট ‘হিট উইকেট, স্টাম্প আউট বা রান আউটের জন্য আবেদন করতে হবে। নিম্নলিখিত আউটের জন্য কোন আম্পায়ারকে আবেদন করতে হবে তা দেয়া হল। যেমনঃ
(১) বোল্ড আউট, কট আউট এল. বি ডবল্যু অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড, রিটায়ার্ড আউট, হিট দ্য বল টু টোয়াইস, রান আউট (নিজের দিকে), টাইমড আউট বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে এবং
(২) হিট উইকেট রান আউট (অপর দিকে), স্টাম্পড আউট স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারকে।
