ক্রিকেটের ওভার । ক্রিকেট খেলার ২২ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
Table of Contents
ক্রিকেটের ওভার । ক্রিকেট খেলার ২২ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
১। বলের সংখ্যা
ম্যাচের পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী, পালাক্রমে প্রত্যেক উইকেট থেকে ৬ বা ৮ বলের ওভারে বল করা হবে।
২। ওভার ডাকা
যখন চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক বল করা হয়েছে এবং যখন বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের কাছে তা স্পষ্ট হবে যে বল ‘ডেড’ হয়েছে বা ফিল্ডিং দল ও ব্যাটসম্যানদ্বয় যারা উইকেটে খেলছেন উভয়েই বলের খেলার মেয়াদ আর নেই বলে খেলতে বিরত হয়েছেন তখনই সেই আম্পায়ার উইকেট ত্যাগ করবার পূর্বে ‘ওভার’ ডাকবেন।
৩। ‘নো বল’ বা ‘ওয়াইড বল’
কোন ‘নো বল বা ওয়াইড বল ওভারের ভিতর গণ্য হবে না।
৪। আম্পায়ারের ভুল গণনা
যদি কোন আম্পায়ার বল গণনা করতে ভুল করেন তখন আম্পায়ার সেই ওভারটিতে যা গণনা করেছেন তাই ধার্য্য হবে।
৫। বোলারের প্রান্ত বদল
একটি বোলারকে যতবার খুশি প্রান্ত বদলাতে দেয়া যাবে, তবে একই ইনিংসে তিনি উপর্যুপরি দুই ওভার বল করতে পারবেন না।
৬। বোলারের কোন ওভার সমাপ্তি
প্রত্যেক বোলার একটি চলতি ওভার সম্পূর্ণ করবেন যদি না তিনি অসমর্থ হয়ে পড়ে বা ৪২.৮ নং আইন অনুযায়ী (দ্রুত গতিতে শর্ট পাঁচ বল করা ) ৪২৯ (দ্রুত গতিতে ফুল পাঁচ বল করা) ৪২১০ (সময় নষ্ট করা) ৪২১১ (প্লেয়ারদের পীচ নষ্ট করা) । অপসারিত হন। যদি কোন কারণে বিরতির বা খেলা বাধাপ্রান্তের আগে কোন তার অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ওভার খেলা পুনরায় শুরুতে শেষ করতে হবে।
৭। ওভার চলাকালীন বোলারের অক্ষমতা বা অপসারণ
যদি কোন বোলার ওভারের প্রথম বলটি করতে ছুটে যাবার সময় অসমর্থ হয়ে পড়েন অথবা ওভার চলার সময়ে অসমর্থ বা অপসারিত হন তখনই আম্পায়ার ডেড বল’ ডাকবেন বা সংকেত দেবেন এবং তাঁর পরিবর্তে অন্য একজন বোলার সেই প্রান্ত থেকে বল করতে বা ওভারটি সম্পূর্ণ করতে পারবেন অবশ্য যদি না কেবল তিনি একই ইনিংসে উপর্যুপরি দুই বা তার অংশ বিশেষ বল করে থাকেন।
৮। ননস্ট্রাইকারের অবস্থান
সাধারণতঃ বোলার প্রান্তের ব্যাটসম্যান উইকেটের যে দিক থেকে বল করা হয় তার অপর দিকে দাঁড়ান, তবে কোন অনুরোধে এর অন্যথাও হতে পারে যদি আম্পায়ার কর্তৃক অনুমোদিত হয় ।
জ্ঞাতব্য বিষয়
প্রত্যেক আম্পায়ারদের টুর্ণামেন্টের আইন অনুযায়ী ৬ বা ৮ বলের প্রত্যেক ওভার সঠিকভাবে গণনা করার অভ্যাস করা উচিত। ওভারের বল সংখ্যা ভুল গণনা করা আম্পায়ারের পক্ষে মোটেই কাম্য নয়। একটি কম বলে সংখ্য গণনা করাতে কোন ম্যাচের ফলাফল অনেকভাবে বদলে যেতে পারে। অবশ্য আইনে বলা আছে যে একটি অতিরিক্ত বা কম বল গণনা করলে সেটি গ্রহণ যোগ্য, তবে অনেকের মতে তা নিম্নমানের আম্পায়ারিং। বল গণনার জন্য অনেক উপায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যেমন পাথর বা কাঁচের গুলি, ছোট পয়সা এবং একপ্রকার আঙুলের ছয়টি লিভার যুক্ত যন্ত্র। গণনার অভ্যাসের ফলে গণনা কাজটি আম্পায়ারের কাছে সাবলীল হয়ে যায়।
আবার কোন ওভারে যদি একটি বা একাধিক ‘নো বল’ ‘ওয়াইড বল’ ডাকা হয় ও (সেই সঙ্গে এক বা একাধিক ব্যাটসম্যান আউট হয়) তখন বিশেষ করে আম্পায়ারদের বল গণনার বিষয়ে খুবই সজাগ হওয়া উচিত। আঙ্গুলের যন্ত্র ব্যবহারের সময় আম্পায়ার তা বাঁ হাতে রেখে একটি একটি করে ছয়টি লিডার উপর দিকে তুলে গণনা করে থাকেন। গণনা কাজে এই উপায়টি অনেকটা নিরাপদ ও অভ্যাস করলে গণনায় কম ভুল হয়।
আবার শ্লো বোলাররা যদি তাড়াতাড়ি বল করেন ও ব্যাটসম্যানদ্বয় হঠাৎ রান নেন, তাতেও আম্পায়ারদের বল গণনায় ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে। এইরকম রান নেয়ার সময় যদি আরও একবার বা দুবার ওভার ‘থ্রো’ হয় তাহলেও সেক্ষেত্রে আম্পায়ারদের ভুল হওয়াটা আশ্চর্য নয়।
সাধারণতঃ গণনায় ভুল হলে, আম্পায়াররা স্কোরারদের কাছ থেকে জেনে নেন কটা বল আর দেয়া হবে। কারণ তিনি বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে বল গণনায় সাহায্য করে থাকেন। স্কোরারকে এইরূপ জিজ্ঞাসা করা যায় কিন্তু বারবার তা করা ভাল নয় ও দৃষ্টিকটু। আবার স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারও ওভার চলাকালীন বল গণনা করে বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে সাহায্য করতে পারেন। বলের খেলার মেয়াদ যতক্ষণ না চলে যাচ্ছে ততক্ষণ বলটি ‘ডেড’ হবে না। সে জন্য খুব তাড়াতাড়ি করে ‘ওভার’ ডাকাও আম্পায়ারের পক্ষে বিপজ্জনক। কারণ এর ফলে মাঠে অনেক রকম অবাঞ্ছনীয় ঘটনা ঘটতে পারে । সেজন্য বল ডেড হবার পর বিবেচনা করে তবে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার ‘ওভার’ স্পষ্ট করে ডাকবেন।
নতুন আগমনরত ব্যাটসম্যান খেলতে আসার সময় ক্রীজে দাঁড়ালে অনেকে কটা বল সেই ওভারে বাকি আছে তা জানতে চান, এক্ষেত্রে আম্পায়ারের তাঁকে সাহায্য করা কর্তব্য। বোলার প্রান্তের আম্পায়ার আর একটি ব্যাপারে সজাগ থাকবেন, যাতে কোন একটি বোলার পর পর দু ওভার বা অংশ বিশেষ একই ইনিংসে বল না করেন। এই আইনের অধীনে আম্পায়াররা যেন ৬ ও ৭ নং উপধারা ভাল করে পড়েন ও বোঝেন যাতে ভুল না করেন।
