ক্রিকেটের পরিবর্ত ও রানার ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডসম্যানের মাঠ পরিত্যাগ বা ক্রিকেট খেলার ২ নম্বর আইন

ক্রিকেটের পরিবর্ত ও রানার ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডসম্যানের মাঠ পরিত্যাগ – বিষয়টি নিয়ে আজকের আলোচনা। এই বিষয়টি ক্রিকেট খেলার ২ নম্বর আইনে আলোচিত। এই পর্বটি আমাদের খেলাধুলার নিয়মিত বা আইন নিয়ে নিয়মিত আয়োজনের অংশ।

ব্যাটসম্যানের অবসর গ্রহণ
ব্যাটসম্যানের ইনিংসের সূচনা

 

 

ক্রিকেটের পরিবর্ত ও রানার ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডসম্যানের মাঠ পরিত্যাগ বা ক্রিকেট খেলার ২ নম্বর আইন

 

১। পরিবর্ত

খেলা চলাকালীন ফিল্ডিং দলের কোন খেলোয়াড় অসুস্থ বা আহত হয়ে খেলতে অসমর্থ হলে তার বদলে অবশ্য একজন পরিবর্ত খেলোয়াড় অধিকার বলেই ফিল্ডিং করতে পারবেন। কিন্তু উপরোক্ত কারণ ব্যতীত অন্য কোন কারণে যদি কোন খেলোয়াড় ফিল্ডিং করতে বাধাপ্রাপ্ত হন তবে ‘পরিবর্ত’ খেলোয়াড় ব্যবহারে বিপক্ষে দলের অধিনায়কের সম্মতি অবশ্যই প্রয়োজন ।

 

২। পরিবর্তের বিষয়ে অসম্মতি

মাঠের মধ্যে কোন খেলোয়াড়ের পরিবর্তর বিরুদ্ধে অথবা তিনি কোথায় ফিল্ডিং করবেন সে বিষয়ে বিপক্ষ অধিনায়কের আপত্তি জানানোর কোন ক্ষমতা নেই । যদিও বিপক্ষ অধিনায়ক পরিবর্ত উইকেটরক্ষকের বিষয়ে আপত্তি তুলতে পারেন।

 

 

‘ক’- আহত স্ট্রাইকার বলটি খেলেছেন। ‘গ’- তাঁর পরিবর্ত রানার। গ১ দৌড়ে রান নিচ্ছেন। ‘খ’- ননস্ট্রাইকার রান নিয়ে রানার ‘গ’-কে গ১- এ অতিক্রম করেছেন। এইমত অবস্থায় একজন ফিল্ডার বলটি খুঁড়ে আহত স্ট্রাইকারের উইকেট ভেঙ্গে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ননস্ট্রাইকার ‘খ’ ‘ক’- এর ক্রীজে দ্রুত না পৌঁছানের জন্য রানআউট হবেন।

 

দ্রঃ এক্ষেত্রে উইকেট ভাঙ্গার সময় স্ট্রাইকার ‘ক’ পপিং ক্রীজের বাইরে অবস্থান করলে স্ট্রাইকার আউট হবেন।

 

৩। পরিবর্ত খেলোয়াড়ের ব্যাট বা বল না করা

পরিবর্ত খেলোয়াড় ব্যাট বা বল করতে পারবেন না।

 

৪। খেলোয়াড় যার বদলে পরিবর্ত ব্যবহার হয়েছে

কোন খেলোয়াড় ব্যাট, বল বা ফিল্ড করতে পারেন, যদি কোন পরিবর্ত তাঁর জায়গায় অংশগ্রহণ করে থাকেন।

 

৫। রানার

কোন ব্যাটসম্যান ম্যাচ চলার সময় যদি অসুস্থতা বা আঘাতের জন্য অসমর্থ হয়ে পড়েন তাহলে তাঁর বদলে একজন রানার নেয়া চলবে। রানার হিসাবে যে খেলোয়াড়টি খেলছেন তাঁকে অবশ্যই ব্যাটিং দলের একজন খেলোয়াড় হতে হবে এবং সম্ভব হলে তাঁকে আগেই সেই ইনিংসে ব্যাট করে নিতে হবে।

 

‘খ’আহত ট্রাইকার বল খেলে পপিং ক্রীজ থেকে বেরিয়ে রান নিচ্ছেন। ‘গ’- তাঁর পরিবর্ত রানার গ১-এতে দৌড়ে গেছেন। ‘ক’- আহত ননস্ট্রাইকার ‘ক’, আম্পায়ারের নিকট অবস্থান করবেন। ‘ঘ’ তাঁর পরিবর্ত রানার ঘ১-এ দৌড়ে গেছেন। এই অবস্থায় আহত স্ট্রাইকার ও তাঁর পরিবর্ত রানারের গ এর দৌড়ানো দেখে একজন ফিল্ডার বলটি উইকেটরক্ষকের দিকে ছুঁড়ে-উইকেট ভেঙ্গে দেন। এক্ষেত্রে আহত স্ট্রাইকার স্বা আউট হবেন এবং পরবর্তী ব্যাটসম্যান উইকেটরক্ষকের দিকে তাঁর ইনিংস শুরু করতে আসবেন। আম্পায়ার তাঁর সিদ্ধান্ত দেবার জন্য স্ট্রাইকারের অফ সাইড পয়েন্টে পপির ক্রীজের লাইনে দাঁড়ালে সুবিধা হবে।

 

৬। রানারের উপকরণ

আহত ব্যাটসম্যানের “রানার”কে ব্যাটিং গ্লাভস ও প্যাড পরতে হবে যদি আহত ব্যাটসম্যান অনুরুপভাবে সজ্জিত হয়ে থাকেন।

 

৭। আহত ব্যাটসম্যান বা রানারের দ্বারা আইন লঙ্ঘন

একজন আহত ব্যাটসম্যান আউট হবেন যদি তার রানার ৩৩নং (হ্যান্ডেল দ্য বল), ৩৭ নং (অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড) অথবা ৩৮ নং (রানআউট) আইন ভঙ্গ করেন । স্ট্রাইকার হিসেবে তিনি আইনগুলির অধীনেই থাকবেন। অধিকন্তু, অপর ব্যাটসম্যান বা আহত ব্যাটসম্যানের রানার যে ক্রীজেই অবস্থান করুক না কেন এবং যে কোন অভিপ্রায়ই থাকুক না কেন, তিনি যদি আউট অফ্ হিজ গ্রাউন্ড হন এবং যদি উইকেটরক্ষকের প্রান্তের উইকেট ফেলে দেয়া হয়, তাহলে ৩৮ নং আইন অনুসারে (রানআউট) বা ৩৯ নং আইন অনুসারে (স্টাম্প আউট) আউট হবেন এবং এই ক্ষেত্র কোন রানই লিপিবদ্ধ হবে না।

যখন আহত ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকার নন, তখন তিনি খেলার বাইরে থাকবেন এবং মাঠের মধ্যে এমন জায়গায় দাঁড়াবেন যাতে খেলায় কোন রকম বাধার সৃষ্টি না হয় তবে যদি সে নিজে কোন রকমে খেলায় জড়িত হয়ে পড়ে, তাহলে তাঁকে আইন অনুযায়ী আইনভঙ্গকারীর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

 

৮। ফিন্ডসম্যানের মাঠ পরিত্যাগ

কোন ফিল্ডসম্যান কোন একটি খেলার সেশনে বোলারের দিকের আম্পায়ারের অনুমতি ছাড়া মাঠ পরিত্যাগ করতে বা মাঠে ফিরে আসতে পারবেন না। কোন ফিল্ডসম্যানের পরিবর্ত যদি তার দলের সঙ্গে যে কোন বিরতির পর মাঠে ফিরে আসার দরকার হয় তাকেও আম্পায়ারের অনুমতি নিতে হবে। যদি কোন ফিল্ডিং দলের সদস্য কোন বিরতির পর মাঠ ত্যাগ করেন বা ফিরে না আসেন এবং ১৫ মিনিটের অধিক সময় অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তিনি ফিরে আসার পর তাঁকে বল করতে দেয়া হবে না, অন্ততপক্ষে ঠিক যতক্ষণ খেলার সময় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তবে এই নিয়ম কোন নতুন দিনের প্রারম্ভে প্রযোজ্য হবে না।

 

৯। ব্যাটসম্যানের মাঠ ত্যাগ বা অবসর গ্রহণ

একজন ব্যাটসম্যান অসুস্থতা বা আঘাত জনিত বা অন্য কোন অনিবার্য কারণে যে কোন সময়ে মাঠ পরিত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করতে পারেন, যদি তিনি বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে আগে জানিয়ে থাকেন। তিনি যে কোন একটি উইকেট পতনের পর তাঁর ইনিংস আবার শুরু করতে পারেন। যা এই আইনের উদ্দেশ্য অনুসারে আর একজন ব্যাটসম্যানের অবসর গ্রহণকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

তবে যদি তিনি অন্য কোন কারণে মাঠ ত্যাগ করেন বা অবসর গ্রহণ করেন তখন তিনি কেবল বিপক্ষ অধিনায়কের সম্মতি নিয়ে আবার ইনিংস আরম্ভ করতে পারেন।

যখন একজন ব্যাটসম্যান মাঠ ত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করেন এবং অসুস্থতা বশতঃ বা আঘাত জনিত অথবা অন্য কোন অনিবার্য কারণে মাঠে ফিরে আসতে না পারেন, তখন তাঁর ইনিংস স্কোর বইয়ে ‘রিটায়ার্ড নটআউট’ হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে। অন্যথায় তা ‘রিটায়ার্ড আউট’ বলে নথিভুক্ত হবে।

 

১০। ব্যাটসম্যানের ইনিংস শুরু

একজন ব্যাটসম্যানের ইনিংস শুরু হয়েছে বলে গণ্য হবে যখন তিনি বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করে খেলার মাঠে পা দিয়েছেন তখন থেকেই।

 

টীকা

পরিবর্ত এবং রানার

এই আইনগুলির উদ্দেশ্য অনুসারে অসুস্থতা বা আঘাতের সীমা হল সেগুলি, যেগুলি দুই অধিনায়ক তাদের দল মনোনয়ন করার পর যে কোন সময়ে ঘটেছে।

 

জ্ঞাতব্য বিষয়

বিকল্প খেলোয়াড় বা পরিবর্ত রানারের ব্যবহার সম্পর্কে অনেক খেলোয়াড় বা স্কোরার সম্যকভাবে অবহিত নন। আম্পায়ারদের উচিত দেখা যে, আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা। যখনই অধিনায়কেরা আইনটি সম্যকভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন তখনই আম্পায়াররা হস্তক্ষেপ করে থাকেন। এই আইনটি কয়েকদিক থেকে কঠোর বটে এবং অধিনায়কের মতামতের মন্তব্য বা ধারণা মেনে চলা ছাড়া খেলোয়াড়দের কোন উপায় থাকে না।

খেলোয়াড় যদি খেলা চলাকালীন অসুস্থতা বা আঘাতের জন্য খেলতে অক্ষম হন, তাহলে পরিবর্ত বা বিকল্প খেলোয়াড় আইনত চাইতেই পারেন। হঠাৎ বাড়ি থেকে জরুরি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাগমন, অনুপস্থিতি এবং দেরিতে আগমন হেতু যেসব পরিস্থিতির উদ্ভব হয় সেখানে বিপক্ষ অধিনায়কের সম্মতি ভিন্ন পরিবর্ত খেলোয়াড় খেলতে পারেন না। অর্থাৎ খেলার মধ্যে বা দল মনোনয়নের পর বা অসুস্থতা ব্যতিরেকে অন্য কোন কারণে পরিবর্ত খেলোয়াড় নিতে হলেই বিপক্ষ অধিনায়কের সম্মতি আবশ্যক।

বর্তমান আইনে অধিনায়কের এই মর্মে নির্দেশ দেয়ার কোন অধিকার নেই যে কোন ব্যক্তি বিশেষকে পরিবর্ত ফিল্ডার হিসাবে নেয়া চলবে না বা তিনি কোন বিশেষ স্থানে ফিল্ডিং করতে পারবেন না; তার মানে যে কোন খেলোয়াড় পরিবর্ত ফিল্ডার হিসাবে নামতে পারবেন।

তবে উইকেটরক্ষকের ক্ষেত্রে দলে নেই এমন একজনকে বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসাবে নেয়ার ব্যাপারে বিপক্ষ অধিনায়ক আপত্তি জানাতে পারেন। সেভাবেই বিপক্ষ অধিনায়কের ব্যাটসম্যানের পরিবর্ত ‘রানার’ নেয়ার ব্যাপারেও আপত্তির অবকাশ ওঠে না । যেখানে ব্যাটসম্যান ম্যাচ চলাকালীন আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ হয়ে পড়েন ও খেলতে অক্ষম হন। সম্ভব হলে এই ‘রানারের’ ব্যাপারে ইতিপূর্বে সেই ইনিংসে বাট করেছেন এমন খেলোয়াড়কেই ‘রানার’ হিসাবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।

‘রানারের’ আবির্ভাবে আম্পায়ারদের পক্ষে অনেক সমস্যার উদ্ভব হয়। যদি একই সময়ে ‘রানার’ আহত বা অসুস্থ স্ট্রাইকার এবং বিপরীত দিকে ননস্ট্রাইকার’ একই সঙ্গে সৌড়তে শুরু করেন তাহলে আশয়ারের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সকলের উপর সামগ্রিকভাবে রাখা সুরূহ হয়ে পড়ে। এটি একটি গুরু দায়িত্বের সম্মুক্ষীন হওয়া। সুতরাং স্ট্রাইকারের দিকের আম্পায়ারের তৎক্ষণাৎ এমন একটি জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে, যেখান থেকে তিনি তিনজনকেই সমভাবে দেখতে পারেন এবং তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে সমস্ত ব্যাপারগুলি অভিনিবেশ করতে পারেন ।

অধিকাংশ আম্পায়ার দাঁড়ান অফসাইডের কোন স্থানে কারণ রানার সচরাচর পাড়ান স্কোয়ার লেগে। এই জায়গা থেকে ট্রাইকারের দিকের আম্পায়ার অক্ষম, অসুস্থ বা আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাটসম্যানের গতিবিধিও সঠিকভাবে দেখতে পারবেন। বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ঘটনা বিরল নয় যেখানে এই পরিস্থিতিতে ভুল স্থান নির্বাচনের জন্য সুখ রানআউটের সিদ্ধান্তে আম্পায়ার ভুল করেছেন।

অনেক আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ ব্যাটসম্যানই বলটি খেলার পর অসাবধানতাবশতঃ বা আইন ভুলে গিয়ে ক্রীজ থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসেন এবং দৌড়তেও থাকেন, যদিও দৌড় নেবার জন্য বিকল্প রানার উপস্থিত রয়েছে। এই ক্ষেত্রে রানার” স্ট্রাইকার এবং ননস্ট্রাইকার তিনজনেই দৌড়চ্ছেন। যদি কোন ফিল্ডসম্যান বলটি ধরে স্ট্রাইকারের উইকেটে মারেন যদিও ননস্ট্রাইকার স্ট্রাইকারের পরিত্যক্ত উইকেটে অর্থাৎ উইকেটরক্ষকের দিকে পৌঁছে গেছেন, তথাপি আউটের আবেদনে মূল স্ট্রাইকার রানআউট হবেন, যদিও ননস্ট্রাইকার, রানার, স্ট্রাইকার তিনজনেই বিপরীত দিকের ক্রীজে সঠিকভাবে পৌঁছে গিয়ে থাকেন।

আইন অনুযায়ী রানার নেবার পর আহত বা অক্ষম স্ট্রাইকার কোন সময়েই তাঁর ক্রীজ ছেড়ে যেতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে কোন রান নেয়া হয়ে থাকলে সেটাও গণ্য হবে না। নবাগত ব্যাটসম্যান তাঁর খেলা শুরু করবেন উইকেটরক্ষকের দিক থেকে।

ননস্ট্রাইকারকে পুনরায় ফিরে যেতে হবে তাঁর উইকেটের দিকে। আম্পায়ারের আরও জানা প্রয়োজন যে পরিবর্ত রানার যদি পপিং ক্রীজের বাইরে অবস্থান করেন ও স্ট্রাইকার পপিং ক্রীজের ভেতরেই অবস্থান করছেন, তাহলেও যদি উইকেটরক্ষকের প্রান্তের উইকেট আইনত ভাঙ্গা হয় স্ট্রাইকারই রানআউট হবেন।

যখন আহত বা অসুস্থ ব্যাটসম্যান প্রকৃত খেলার সঙ্গে সংযুক্ত না থাকেন বা নিষ্ক্রিয় হন অর্থাৎ ননস্ট্রাইকার যখন স্ট্রাইকার হন এবং পরিবর্ত রানার ননস্ট্রাইকার হিসাবে বোলার প্রান্তে দাঁড়িয়েছেন তখনও তিনি (আহত ব্যাটসম্যান) ইচ্ছাকৃতভাবে ফিল্ডিং-এ বাধা প্রদান করলে বা বলে হাত দেয়ার জন্য প্রথম ক্ষেত্র ‘অবস্ট্রাকটিং দ্যা ফিল্ডা দ্বিতীয় ক্ষেত্র ‘হ্যান্ডল্ড দ্য বল’ আইনে আউট হতে পারেন ।

আইনে কোথাও স্ট্রাইকার হেলমেট ব্যবহার করলে পরিবর্ত রানারকেও তা ব্যবহা করতে হবে বলে নির্দেশ নেই। তবে এটাও ক্রিকেটে সর্বজন স্বীকৃত যে আহর ব্যাটসম্যান যদি পায়ে প্যাড ও হাতে গ্লাভস পরে থাকেন তখন পরিবর্ত রানার সেগুলি পরবেন।

 

এই আইনের ৮নং উপধারা ঠিকমত অনুধাবন করা উচিত। যদি কোন ফিল্ডসমান ১৫ মিনিট বা তার কম সময়ের জন্য খেলার মাঠের বাইরে খেলা থেকে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তিনি প্রত্যাগমনের পর তৎক্ষণাৎ বল করতে পারেন। আইনটির ব্যাখ্যা হল এই যে পনেরো মিনিটের অধিক সময় অনুপস্থিত থাকলে যতক্ষণ তিনি অনুপস্থিত ছিলেন পুনরাগমনের পর ঠিক ততক্ষণ তিনি বল করতে পারবেন না। অর্থাৎ যদি কোন ফিল্ডার ৩০ মিনিটের জন্য মাঠে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে প্রত্যাবর্তনের পরও ৩০ মিনিট কাল তিনি বল করতে পারবেন না।

অবশ্য এই আইন সাময়িকভাবে মাঠ পরিত্যাগকারী বা খেলার সূচনা হয়ে গেলে কোন একটি বিরতির অব্যবহিত পরেই মাঠে অনুপস্থিত ফিল্ডারের বেলায় প্রযোজ্য হবে । যে কোন দিন খেলা শুরুর পরে মাঠে দেরি করে উপস্থিত হওয়া বা নতুন দিনের খেলার শুরুর সময় খেলোয়াড়ের ব্যাপারে এই আইন প্রযোজ্য হবে না এবং তিনি আসামাত্রই বল করতে পারবেন। যদি কোন বিরতির পর একজন খেলোয়াড় মাঠে না আসেন তাহলে অধিনায়ক দশজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে পারেন ।

যদি অনুপস্থিত খেলোয়াড়ের বিকল্প বা পরিবর্ত হিসাবে বদলি খেলোয়াড় নিতে হয়। তখন আম্পায়ারের অনুমতির প্রয়োজন আছে। আম্পায়ারকেও সম্মতি দেবার আগে নির্ধারণ করতে হবে যে অনুপস্থিতির কারণ অসুস্থতা বা আঘাতজনিত অক্ষমতা কিনা। নতুবা বিপক্ষ অধিনায়কের সম্মতি অবশ্যই প্রয়োজন।

তবে মাঠ পরিত্যাগের পূর্বে বা পুরনাগমনের সময় বিষয়টি বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে জানাতে হবে, স্কোরারও তাঁর খাতায় এই ঘটনাটি ঠিকমত লিপিবদ্ধ করবেন।

 

আইনের একটি শর্ত হলো যে, আঘাত বা শারীরিক অসুস্থতাবশত ব্যাটসম্যান সাময়িকভাবে অবসর নিতে পারেন, কিন্তু তিনি পুনরায় ব্যাট করতে আসতে পারেন। অপর একটি উইকেট পড়ার পর, অর্থাৎ অপর একটি ব্যাটসম্যান আউট হলে।

অসুস্থতা বা আঘাত ব্যতিরেকে অন্য কারণে ব্যাটসম্যান অবসর নিলে বা মাঠ পরিত্যাগ করে চলে গেলে, বিপক্ষ দলের অধিনায়কের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।

হঠাৎ তিনি ইচ্ছাকৃত চলে গেলে ‘রিটায়ার্ড আউট’ বলে গণ্য হবেন আঘাত জনিত বা অসুস্থতা হেতু অবসর কালে “রিটায়ার্ড নটআউট” হিসাবে ব্যাটসম্যান গণ্য হয়ে থাকেন। এও জানা উচিত যে স্কোরে ‘রিটায়ার্ড নটআউট’ লিপিবন্ধ হলে সেটা আইনে একটি উইকেটের পতন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

বাউন্ডারি লাইনের ভেতরে অনুপ্রবেশ করা মাত্রই ব্যাটসম্যানকে ইনিংস সূচনা করেছেন বলে ধরা হবে। কিন্তু ব্যাটসম্যানকে খেলতে নানা অবস্থায় বা ইনিংসের সূচনা করা অবস্থায় গণ্য করা হবে না যদি ইনিংসের শুরুতে বা নির্ধারিত বিরতির পর বোলার। প্রান্তের আম্পায়ারে ‘প্লে’ ঘোষণা না করেন এবং ম্যাচ শুরু হয় তখনই।

Leave a Comment