ক্রিকেটের ফিল্ডসম্যান । ক্রিকেট খেলার ৪১ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

ক্রিকেটের ফিল্ডসম্যান । ক্রিকেট খেলার ৪১ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

ক্রিকেটের ফিল্ডসম্যান । ক্রিকেট খেলার ৪১ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। ফিল্ডিং দি বল

ফিল্ডসম্যান তাঁর শরীরের যে কোন অংশ দিয়ে বল থামাতে পারেন কিন্তু যদি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোন উপায়ে থামান তবে সেই রানের সাথে অথবা যে রানগুলি নেয়া হয়ে গেছে তার সাথে ৫ রান যোগ হবে। আর যদি কোন রানই না নেয়া হয়ে থাকে তবে ৫ পেনাল্টি রান হিসাবে মঞ্জুর করা হবে। যে রানটির জন্য দৌড়ান শুরু হয়েছে সেই রানটি গণ্য হবে যদি ব্যাটসম্যানদ্বয় ঐ ইচ্ছাকৃত ঘটনা ঘটার মুহূর্তে পরস্পর পরস্পরকে অতিক্রম করেন। যদি বলটি আঘাত করা হয় তাহলে পেনাল্টি রানটি স্ট্রাইকারের রানের সঙ্গে যোগ হবে । অন্যথায় বাই, লেগ বাই, নো বল অথবা ওয়াইড বলের স্কোরের সঙ্গে ক্ষেত্র বিশেষে যোগ হবে।

২। অন-সাইডে ফিল্ডসম্যানদের সীমাবদ্ধতা

বোলারের বল ডেলিভারির মুহূর্তে পপিং ক্রীজের পেছনে অন-সাইডে দুইজনের বেশি ফিল্ডার থাকবে না। যদি ফিল্ডিং দল এই নিয়ম লঙ্ঘন করে তাহলে স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ার বোলারের বল ডেলিভারি মুহূর্তেই অথবা তার পরবর্তী যত শীঘ্র সম্ভব নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন।

৩। ফিল্ডসম্যানদের অবস্থান

যখন বলটির খেলার মেয়াদ আছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বলটি ব্যাটের সঙ্গে অথবা ট্রাইকারের দেহের সঙ্গে স্পর্শ করে বা তাঁর ব্যাটকে অতিক্রম করে, বোলার ব্যতিত অন্য কোন ফিল্ডসম্যানই পীচের উপর (যার মাপ হবে দৈর্ঘ্যে ২২ গজ/২০.১২ মিঃ x ১০ ফুট/৩.০৫ মিঃ) দাঁড়াতে বা তাঁর দেহের কোন অংশকেই পীচের উপর প্রসারিত করতে পারবেন না। যদি কখনও কোন ফিল্ডসম্যান এই নিয়মকে লঙ্ঘণ করেন তবে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার বলটি ছাড়ার মুহূর্তে বা পরে যত শীঘ্রই সম্ভব নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন। আইন ৪০.১ (উইকেটরক্ষকের অবস্থান) দেখুন ।

 

টীকা

ব্যাটসম্যানদ্বয়ের প্রান্ত বদল

উপরোক্ত ১ নং উপধারায় যে ৫ রানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো একটি পেনাল্টি এবং ব্যাটসম্যানদ্বয় শুধুমাত্র এই পেনাল্টির কারণে প্রান্ত বদল করবেন না ।

জ্ঞাতব্য বিষয়

একজন ফিন্ডসম্যান একটি বল ফিল্ডিং করার সময় তার ক্যাপ, সোয়েটার, টুপি প্রভৃতি অবশ্যই ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি তিনি তা করেন তাহলে কৃত রানের সঙ্গে পাঁচটি পেনাল্টি রান যুক্ত হবে। এই রান পেনাল্টি হিসাবে প্রযোজ্য। এর ফলে ব্যাটসম্যানেরা প্রান্ত বদল করবেন না। এক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান যদি ব্যাট দিয়ে বলটি খেলেন তাহলে পেনাল্টি রান তার স্বপক্ষে যাবে। অন্যথায় এই রান বাই রান, লেগ বাই, নো বল বা ওয়াইড বল এর সঙ্গে যুক্ত হবে।

এই আইন লঙ্ঘনের মুহূর্তে যদি কোন রান নেয়া হয় এবং সেই রান নেবার সময় যদি ব্যাটসম্যানদ্বয় পরস্পর পরস্পরকে অতিক্রম করেন তাহলে সেই রানটি গ্রাহ্য হবে এবং ব্যাটসম্যানেরা রান নেবার সময় যে যে প্রান্ত লক্ষ্য করে দৌড়াছিলেন সে সেই প্রান্তে আসীন থাকবেন। ফিল্ডসম্যানেরা তাদের ক্যাপ, টুপি, সোয়েটার, রুমাল প্রভৃতি মাঠের কোথায় রাখছে সেদিকে আম্পায়ার লক্ষ্য রাখবেন, যাতে খেলা চলাকালীন কোন অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে ও তাঁর ফলে পাঁচটি পেনাল্টি রানের প্রয়োগ না হয় ।

 

এই আইনের ২নং উপধারায় অন সাইডে ফিল্ডসম্যানের সংখ্যা সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে বলা হয়েছে যে বোলার বল করার সময় পপিং ক্রীজের পিছনে দুজনের বেশি ফিল্ডসম্যান রাখা চলবে না। অবশ্য, এক্ষেত্রে উইকেটরক্ষককে ঐ দুজনের মধ্যে ধরা হবে না। পপিং ক্রীজ দৈর্ঘ্যে স্টাম্পের উভয়দিকে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট (অন্ততঃ) হয়।

স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারকে অবশ্যই যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকে পপিং ক্রীজ পর্যন্ত একটি কাল্পনিক রেখা অনুসরণ করতে হবে। পপিং ক্রীজের পিছনে দু’জনের বেশি ফিল্ডার থাকে তাহলে আম্পায়ার বল করার মুহূর্তে বা তার পরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন । এই আইনের প্রয়োগার্থে স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারকে অবশ্যই ফিল্ডসম্যানদের

চলাফেরা বা নড়া-চড়ার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বোলার প্রান্তের আম্পায়ারও যাতে ফিল্ডসম্যানেরা পীচের (৬৬ ফুট ১০ফুট) অঞ্চলটিতে (কাট পোরশন) অনুপ্রবেশ না করেন। এমনকি তাঁর দেহের প্রসারিত অংশও না থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বল স্ট্রাইকারের ব্যাটে বা দেহে আঘাত করছে অথবা তার ব্যাট অতিক্রম করছে ততক্ষণ বোলার প্রান্তের আম্পায়ার নো বল ডাকবেন না। তবে তা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আম্পায়ার নো বল ডাকবেন ও সংকেত দেবেন।

Leave a Comment