ইংলিশ এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ স্যালফোর্ড সিটির বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সিটির হয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন জানুয়ারির দলবদলে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে আসা রক্ষণভাগের তারকা মার্ক গেহি। ২-০ ব্যবধানের এই জয়ের ফলে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা টুর্নামেন্টের পঞ্চম রাউন্ড বা শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে দিনের অন্য ম্যাচে বড় অঘটনের সাক্ষী হয়েছে ফুটবল বিশ্ব, যেখানে তৃতীয় স্তরের দল ম্যানসফিল্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলি।
ইতিহাদে মার্ক গেহির স্মরণীয় রাত
ম্যানচেস্টার সিটির আকাশী-নীল জার্সিতে অভিষেকের পর থেকেই আস্থার প্রতিদান দিচ্ছিলেন মার্ক গেহি। তবে স্যালফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তার জন্য ছিল বিশেষ কিছু। ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত সিটি কেবল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং যেকোনো সময় গোল হজম করার শঙ্কা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই রায়ান শেরকির চমৎকার এক পাস থেকে বল পেয়ে ট্যাপ-ইনের মাধ্যমে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন গেহি। সিটির হয়ে এটিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল, যা দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমর্থকদের মাঝেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
স্যালফোর্ড সিটির লড়াই ও সিটির ঘামঝরানো জয়
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল ও ডেভিড বেকহামের মালিকানাধীন ক্লাব স্যালফোর্ড সিটি এবারের এফএ কাপে দুর্দান্ত সাহসিকতা দেখিয়েছে। গত মৌসুমে একই মাঠে তারা সিটির কাছে ০-৮ গোলে বিধ্বস্ত হলেও, এবার তারা ছিল যথেষ্ট গোছানো। ম্যাচের ৬ মিনিটে আলফি ডরিংটনের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও তারা মনোবল হারায়নি। সিটির আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়ার পাশাপাশি স্যালফোর্ডের বেন উডবার্ন ও কেলি এন’মাই বেশ কয়েকবার সিটির রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সিটির গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডের দক্ষতায় গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | ম্যানচেস্টার সিটি | স্যালফোর্ড সিটি |
| ফলাফল | ২ | ০ |
| গোলদাতা | ডরিংটন (আত্মঘাতী), গেহি | – |
| বল দখল | ৭০% | ৩০% |
| টার্গেটে শট | ৫ | ৩ |
| কর্ণার | ৮ | ২ |
| ফাউল | ৯ | ১২ |
বার্নলির বিদায় ও ম্যানসফিল্ডের ইতিহাস
দিনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল টার্ফ মুরে বার্নলির পরাজয়। প্রিমিয়ার লিগের দল হওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় স্তরের দল ম্যানসফিল্ডের কাছে ১-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা। বার্নলি কোচ স্কট পার্কার একাদশে ৯টি পরিবর্তন এনে যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে উঠে ইতিহাস গড়ল ম্যানসফিল্ড। তাদের হয়ে জয়সূচক গোলগুলো বার্নলি সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয়, যা এফএ কাপের সৌন্দর্য ও নাটকীয়তাকে আবারও প্রমাণ করল।
পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি এখন পঞ্চম রাউন্ডের ড্রয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। আগামী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্ক গেহির এই ফর্ম অব্যাহত থাকলে সিটির রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
