চার বছর আগে, বার্সেলোনা সমর্থকরা ভুলতে পারেননি সেই আবেগঘন মুহূর্ত। চোখে জল, কণ্ঠে কান্না—ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ক্লাব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক সেই মেসিই আবার ফিরে এসেছেন, কিন্তু এবারে এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। রবিবার রাতে মেসি গোপনে আবারও চলে এসেছিলেন নিজের প্রিয় ক্যাম্প ন্যু-তে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, বার্সেলোনা জানতই না যে মেসি আসছেন!
ইন্টার মায়ামির হয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর দুই গোল করে মাঠ ছাড়েন মেসি। এরপর তিনি সরাসরি উড়াল দেন স্পেনে। আনুষ্ঠানিকভাবে তার গন্তব্য ছিল আলিকান্তে, যেখানে আর্জেন্টিনা দল প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে তার আগেই, মেসি চুপিচুপি ঢুকে পড়েন বার্সেলোনায়—যে শহরে ১৩ বছর বয়সে এসে ফুটবলের ইতিহাস গড়েছিলেন।
বার্সেলোনার প্রশাসন, কর্মকর্তারা, এমনকি লকাররুমের কেউই জানতেন না মেসির এই সফরের কথা। পরে জানা যায়, তুর্কি নির্মাণকর্মী প্রতিষ্ঠান লিমাক, যাদের ক্যাম্প ন্যুতে কাজ চলছিল, নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে ক্লাবকে জানায়, তারপর মেসির জন্য অনুমতি দেয়া হয়।
সূত্র জানিয়েছে, মেসির সফর ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত—অথবা বলা যেতে পারে, এক প্রকার বজ্রপাতের মতো। শুধুমাত্র পুরানো বাড়ি দেখার জন্য এবং তার সাম্রাজ্যের মাঠের নতুন রূপ অনুভব করার উদ্দেশ্য ছিল এটি। কিন্তু আবেগের ঢেউ উঠেছিল মেসির ইনস্টাগ্রাম পোস্টেই:
“গত রাতে, আমি ফিরে গিয়েছিলাম সেই জায়গায়, যেটি আমি মন থেকে মিস করি। সেই জায়গায়, যেখানে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ছিলাম বারবার। আশা করি একদিন ফিরব, শুধু বিদায় জানাতে নয়…”
এই কথাগুলো এখন কাতালুনিয়ার বাতাসে এক প্রশ্ন উত্থাপন করছে—তাহলে কি মেসি ফিরতে চান?
মেসির বিদায় ও ভবিষ্যৎ
২০২১ সালের সেই আবেগঘন বিদায় এখনো বার্সেলোনা সমর্থকদের মনে তাজা। তখন ক্লাবটি আর্থিক সংকটে ছিল, আর তারা তাদের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়কে রাখতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে সম্পর্কও হয়েছিল ঠান্ডা। যদিও মেসি বারবার শহরে ফিরেছেন, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তবে ক্যাম্প ন্যু-তে প্রবেশ করেননি—এবার তিনি করলেন, নিঃশব্দে, যেন বার্তা দিলেন।
মেসির নতুন চুক্তি ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ পর্যন্ত। এর মাঝেই তিনি ব্যবসা, রাজনীতি, এমনকি ফুটবল-পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন। গত সপ্তাহে আমেরিকায় একটি বিজনেস ফোরামে বক্তৃতা দেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অতিথি হিসেবে ছিলেন। সব মিলিয়ে মেসির ভবিষ্যৎ এখন নানা সম্ভাবনায় ভরপুর। তবে তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের একটি লাইন আবার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে কাতালুনিয়ার আকাশে:
“আশা করি, একদিন ফিরব… শুধু বিদায় জানাতে নয়।”
নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত
বার্সেলোনার আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, চলমান পুনর্গঠন কাজ, আর মেসির রহস্যময় সফর—এই সব কিছুই যেন নতুন কিছু ঘটতে পারে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যাম্প ন্যু-তে এখনো ঝুলছে ক্রেন, অসমাপ্ত গ্যালারি, ধুলোমাখা সিঁড়ি—কিন্তু সেই মাঠে পা রেখেই মেসি হয়তো আবার অনুভব করেছেন নিজের রাজত্বের স্মৃতি।
এটা কি হতে পারে, যে একদিন, আবারো—ক্যাম্প ন্যু-তে ফিরে আসবেন রাজা মেসি?
মেসির ক্যাম্প ন্যু সফর – একটি সময়রেখা:
| তারিখ | ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| রবিবার রাত | মেসির আগমন | ন্যাশভিলের বিপক্ষে দুই গোলের পর মেসি গোপনে ক্যাম্প ন্যু-তে ফিরে আসেন। |
| ইনস্টাগ্রাম পোস্ট | আবেগঘন বার্তা | “আশা করি, একদিন ফিরব… শুধু বিদায় জানাতে নয়।” |
| ২০২১ | মেসির বিদায় | মেসি আর্থিক সংকটের কারণে বার্সেলোনা ছাড়েন। |
| ভবিষ্যত | ফিরে আসার সম্ভাবনা | মেসির এই সফর ও কাতালুনিয়ার পরিস্থিতি নতুন কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। |
