হকির গোল কীপার কি করতে পারবে । হকি খেলার বারো নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

আজকে আমরা আলোচনা করব হকির গোল কীপার কি করতে পারবে সে সম্পর্কে।

 

হকির গোল কীপার কি করতে পারবে । হকি খেলার বারো নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

হকির গোল কীপার কি করতে পারবে । হকি খেলার বারো নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

গোল-কীপার যদি বলকে তার শরীর বা শরীরের কোন অংশ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে বা গোলপোস্টের যে কোন দিকে সরিয়ে দেয় তবে ১২.১ (৩) আইনের ভংগ হয় না। এই বিধানে ধাক্কা দেয়া কেবল হিট, পুশ, স্তুপ, ক্লিক করে গোলে মারা বলের প্রতিক্রিয়া হলে স্থির বলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া যাবে না এবং এটা করা হলে আইন ১২ অনুযায়ী শান্তি দিতে হবে। বৃত্তের ভিতরে গোল কীপার তার কাঁধের উপরের বল স্টিক দিয়ে থামাতে পারবেন যদি না তা বিপজ্জনক হয় বা বিপজ্জনক হতে পারে এমন মনে না হয়।

গোল কীপারের বিপজ্জনক খেলা

মাটিতে পড়া গোল-কীপার

পেনাল্টি কর্ণারের সময় গোলে প্রথম শট নেয়ার আগে গোল বরাবর গোলকীপার ইচ্ছে করে শুয়ে পড়তে পারবে না।

এই ব্যাখ্যা কেবল প্রথম শর্ট নেয়ার আগে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলকীপার গোল মুখে শুয়ে পড়ার অভ্যাসের ব্যাপার জড়িত। এটা গোল-কীপারকে গড়িয়ে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে বা ড্রাইভ দিয়ে গোল থামাতে নিষেধ করেনি।

গোলকীপার যদি প্রথম শর্টের সাথে সাথে শুয়ে পড়ে গোল মুখ বন্ধ করে গোল রক্ষা করে তবে এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী শাস্তি দেয়া যাবে না।

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি লক্ষ্য করতে হবেঃ

ক) গোলকীপার খেলতে পারে এই রকম দূরত্বে থাকলেই সে গড়িয়ে যেতে বা ড্রাইভ দিতে পারে।

খ) বলটি যদি রক্ষণ দলের খেলোয়াড়ের বা তার স্টিকে স্পর্শ লাগে বা বৃত্তের ৫ গজের বাইরে চলে যায় ফলে পেনাল্টি কর্ণার এর আইন আর তখন বলবৎ থাকে না তখন গোল-কীপার শুয়ে পড়তে পারে।

গ) ধোঁকা দেয়ার জন্য শর্ট নিচ্ছে দেখালে তাতে যদি গোলকীপার শুয়ে পড়ে এবং বুঝতে পেরে যদি উঠতে যায় তবে আইন ভংগ হয় না ।

ঘ) প্রথম সর্টে আগে সর্ট না নিয়ে সর্ট নিচ্ছে এমন দেখালে গোলকীপার যদি শুয়ে পড়ে এবং ইচ্ছে করে শুয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেয়া যেতে পারে।

ঙ) প্রথম সর্ট এর পর গোল কীপার তার ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনভাবে গোল রক্ষা করতে পারে।

সাধারণত সবাই স্বীকার করেন যে গোলকীপার প্রথম সর্টের আগে বা পরে শুয়েছে তা নির্ণয় করা খুবই কঠিন। কেবল তখনই গোল-কীপার শাস্তি পাবে যখন আম্পায়ার আইন ভংগের ব্যাপারে নিশ্চিত।

আম্পায়ারকে খেলার স্বার্থে নিশ্চিত হতে হবে, প্রথম সর্টের আগে গোল-কীপার কি অবস্থায় আছে তা দেখার চেয়ে আক্রমণ দলে প্রথম সর্ট নেয়ার আগে বলটি ঠিকমত থামিয়েছে কিনা বা বলটি রক্ষণ দলের খেলোয়াড়ের স্পর্শ হয়েছে কি না।

 

গোল-কী পারের গোলপোস্টের সামনে শুয়ে পড়াটাকে বিপজ্জনক খেলা বলে গণ্য করতে হবে, যদি সেটা ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে। গোল-কীপার যদি শুয়ে পড়ে তার উপযুক্ত শাস্তি হল :

প্রথমবারের জন্য —- পেনাল্টি স্ট্রোক

দ্বিতীয়বারের জন্য —- পেনাল্টি স্ট্রোক + সবুজ কার্ড

তৃতীয়বারের জন্য —— পেনাল্টি স্ট্রোক + হলুদ কার্ড তার পরে লাল কার্ড ।

একজন খেলোয়াড়ের কার্যকলাপের জন্যই বিপজ্জনক খেলা হয়ে থাকে, সেটা অপরের জন্যও হতে পারে বা নিজের জন্যও হতে পারে ।

গোলকীপারকে জোর সুপারিশ করা হচ্ছে তার রক্ষণাত্মক পোশাক পরার জন্য । কারণ তাকে যেভাবে খেলতে হয় সেই খেলা তার জন্য বল ও স্টিক উভয়ের দ্বারাই বিপজ্জনক হতে পারে।

এই ধরণের রক্ষণাত্মক পোশাক-পরিচ্ছদ পরে অন্য খেলোয়াড় এর প্রতি অন্যায় আচরণ করা অনুমোদিত নয়, যেমন বিপক্ষের উপর মাথা সামনে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া বা উগ্রভাবে বলে অথবা বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়টিকে লাথি মারার জন্য শাস্তি দিতে হবে ।

 

গোল কীপার বহিষ্কৃত হলে

আইন ১.৯ অনুযায়ী প্রত্যেক দলের একজন গোল-কীপার থাকতে হবে অথবা একজন খেলোয়াড়কে মনোনীত করবে যে গোলকীপারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। কাজেই গোল কীপার বহিষ্কৃত হলে অধিনায়ককে দুটির মধ্যে একটিকে পছন্দ করতে হবেঃ

ক) গোল-কীপার বহিষ্কৃত হলে গোলকীপার হিসেবে একজন গোল-কীপারকে খেলাবেন ।

অথবা

খ) মাঠে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড়কে গোল কীপার হিসেবে মনোনীত করলে তার হেলমেট এবং আত্মরক্ষামূলক পোশাকাদি পরা প্রয়োজন এবং তার জন্য সময় দিতে হবে।

যদি (ক) ধারা পছন্দ হয় তবে বদলি গোল-কীপার মাঠের অন্য বদলি খেলোয়াড়ের বদলি হিসেবে প্রবেশ করতে পারবে । এক্ষেত্রে ঐ দলের ১০ জন খেলোয়াড় মাঠে খেলবে এটা নিশ্চিত হবে।

যদি (খ) ধারা অনুযায়ী হয় তবে দলের ১০ জনের বেশি খেলোয়াড় মাঠে থাকবে না । যা হোক হকির আইনে গোল কী পারের বদলে যে খেলোয়াড় খেলবে সে গোল- কীপারের মত সমস্ত আচরণ করবে তাই তার সব সময় হেলমেট পরে থাকা প্রয়োজ তাই যখন বৃত্তের বাইরের বল স্টিক দিয়ে খেলবে তখন তার আচরণ সমস্ত আত্মরক্ষামূলক পোশাক পরিহিত যে গোলকীপারের পরিবর্তে সে খেলছে তার আচরণ থেকে ভিন্নতর হবে না।

 

সাময়িক বহিষ্কৃতির পর গোল-কীপার যখন আবার খেলার অনুমতি পাবে তখন অধিনায়ক নিম্নের যে কোন একটি পছন্দ করতে পারবেন :

ক) বহিষ্কৃত গোল কীপার যখন পুনরায় অনুমতি পেয়ে খেলতে আসে তখন যে খেলোয়াড় গোলকীপার হিসেবে খেলছিল সে তার আত্মরক্ষমূলক পোশাক খুলে সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে খেলবে।

উপরের (ক) ধারার পরিস্থিতিতে যে গোলকীপারের বদলে খেলছিল তাকে যদি আর সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রয়োজন না হয় তবে তাকে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বদলি করা যাবে। যদি বহিষ্কৃত গোলকীপারকে মাঠে আর প্রয়োজন না হয় এবং তাকে যদি একজন খেলোয়াড় দ্বারা বদলি করা হয় তবে সেই সাধারণ নিয়মে হবে ।

খ) উপরের (খ) ধারা অনুযায়ী বহিষ্কৃত গোল কীপার যখন মাঠে প্রবেশ করবে তখন যে খেলোয়াড় গোলকীপার হিসেবে খেলছিল সে পুনারায় সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে পারবে। যাহোক বহিষ্কৃত গোলকীপার নিয়ম মত অন্য একজন গোলকীপার দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Comment