গোলের বন্যা, উত্তেজনার পারদ চড়া, খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও লাল কার্ড—সব মিলিয়ে বাফুফে নারী লিগে রোববার রাতে (৪ জানুয়ারি) দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ও ঘটনাবহুল ম্যাচ। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফরাশগঞ্জ ক্লাব ২৩-০ গোলে কাচারীপাড়া ক্লাবকে একপ্রকার বিধ্বস্ত করে দেয়। স্কোরলাইনের বিশালতা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি ম্যাচের ভেতরের বিশৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতাহীন চিত্র নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নারী লিগের মান ও প্রস্তুতি নিয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাশগঞ্জের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। খেলা শুরুর মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের মাথায় প্রথম গোল করে তারা। তবে ২১ মিনিটে গিয়ে ম্যাচের চিত্র বদলে যায় নাটকীয়ভাবে। একটি সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দলের একাধিক খেলোয়াড় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে দীর্ঘক্ষণ। ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমা ও কাচারীপাড়ার সামিয়া আক্তারকে লাল কার্ড দেখানো হয়। প্রায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর আবার খেলা শুরু হয়।
খেলা পুনরায় শুরু হতেই যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফরাশগঞ্জ। এক মিনিটের মধ্যেই আসে আরেকটি গোল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৮-০। এই অর্ধে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ও অনামিকা ত্রিপুরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা আরও একতরফা হয়ে ওঠে। বিরতির পর ফরাশগঞ্জ যোগ করে আরও ১৫টি গোল। পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণের তাণ্ডব চালান ফরাশগঞ্জের ফরোয়ার্ডরা। শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা দুজনই করেন জোড়া হ্যাটট্রিক। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা খাতুনও। অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার সিনিয়র করেন দুটি গোল।
গোলদাতাদের তালিকা :
| খেলোয়াড়ের নাম | গোল সংখ্যা |
| শামসুন্নাহার জুনিয়র | ৬ |
| মারিয়া মান্দা | ৬ |
| তহুরা খাতুন | ৩ |
| শামসুন্নাহার সিনিয়র | ২ |
| মনিকা চাকমা | ১ |
| সামিক্ষা ঘিমিরে | ১ |
| অনামিকা ত্রিপুরা | ১ |
| মানুচিং মারমা | ১ |
| প্রীতি | ১ |
| তৃষা | ১ |
| মোট গোল | ২৩ |
রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষ হয় রাত ১০টার পর। তবে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হয় প্রায় পৌনে ১২টার দিকে। নারী লিগের প্রচারের জন্য মিডিয়াকে আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ আগের মতোই রয়ে গেছে।
সবশেষে বলা যায়, এই ম্যাচ শুধু গোলের ব্যবধানের জন্য নয়—বরং এর ভেতরের উত্তেজনা, শৃঙ্খলার অভাব ও প্রতিযোগিতার প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবতার কারণে নারী ফুটবলের জন্য এক সতর্কবার্তা হয়ে থাকল। বিশেষ করে এশিয়া কাপের আগে এমন ম্যাচ জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।
