নোভাক জোকোভিচ দীর্ঘ বিরতির পর গ্রিসে অনুষ্ঠিত প্রথম শীর্ষস্থানীয় টেনিস প্রতিযোগিতা হেলেনিক চ্যাম্পিয়নশিপে চিলির আলেহান্দ্রো তাবিলোকে পরাজিত করে সফল প্রত্যাবর্তন করেছেন। ৩৮ বছর বয়সি সার্বিয়ান তারকার জয় এসেছে ৭-৬ (৩), ৬-১ সেটে, যেখানে প্রথম সেটে তাকে বেশ কঠিন লড়াই পোহাতে হয়েছে।
প্রথম সেটে দুজনই নিজেদের সার্ভ ধরে রাখেন। তবে টাইব্রেকারে অভিজ্ঞতার জোরে জোকোভিচ এগিয়ে যান। দ্বিতীয় সেটে গতি পুরোপুরি নিজের পক্ষে নিয়ে নেন তিনি, দুইবার তাবিলোর সার্ভ ব্রেক করে মাত্র ৯০ মিনিটের কিছু বেশি সময়ে ম্যাচটি শেষ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে জোকোভিচ কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন এ টি পি ২৫০ স্তরের এই প্রতিযোগিতায়। এটি ছিল ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রিসে অনুষ্ঠিত কোনো এলিট টেনিস ইভেন্ট। এথেন্সের টেলিকম সেন্টারে জোকোভিচের জন্য দর্শকদের সমর্থন ছিল তুমুল, বিশেষ করে যেহেতু চলতি বছরই তিনি তার পরিবারসহ এথেন্সে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
ম্যাচ শেষে কোর্টে দাঁড়িয়ে জোকোভিচ বলেন, “এথেন্সে খেলাটা আমার জন্য সত্যিই ঘরের মতো অনুভূতি। আমার টেনিস কৃতিত্বের স্বীকৃতির চেয়ে মানুষ এখানে আমাকে যে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে, সেটাই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”
এর আগে জোকোভিচ তাবিলোর বিপক্ষে গত দুই ম্যাচে হেরেছিলেন। তিনি বলেন, “আজকের জয়টা আমার জন্য বিশেষ। আমি কখনও তাবিলোর বিপক্ষে জিতিনি, তাই ম্যাচের আগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ ছিল।”
ম্যাচের পর এক আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন তিনি প্রয়াত ক্রোয়েশীয় টেনিস কিংবদন্তি নিকোলা পিলিচের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একটি ভিডিও দেখেন। পিলিচের একাডেমিতেই কৈশোরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন জোকোভিচ। ভিডিওটি দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন।
তিনি বলেন, “তিনি শুধু একজন প্রশিক্ষক ছিলেন না, বরং আমার পরিবারেরই অংশ ছিলেন। আমি ও আমার ভাইয়েরা তাঁর কাছে অনেক ঋণী। তাঁর দিকনির্দেশনা না পেলে আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।”
| টুর্নামেন্ট | স্থান | ম্যাচ ফলাফল | সময়কাল |
|---|---|---|---|
| হেলেনিক চ্যাম্পিয়নশিপ (ATP 250) | এথেন্স, গ্রিস | জোকোভিচ ৭-৬ (৩), ৬-১ তাবিলো | ৯০ মিনিটের কিছু বেশি |
গ্রিসের টেনিসপ্রেমীদের জন্য এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং তিন দশক পর আন্তর্জাতিক টেনিসের মহা প্রত্যাবর্তনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
