চেলসির সাতটি হতাশাজনক মুহূর্ত, আর্সেনালের আটটি উল্লসিত দিন

বারও চেলসির নতুন কোচ লিয়াম রোজনিয়রের স্টামফোর্ড ব্রিজে ঘরের মাঠে যাত্রা হতাশাজনকভাবে শুরু হয়েছে। লিগ কাপ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আর্সেনালের সঙ্গে কড়া প্রতিযোগিতায় চেলসি ৩-২ গোলে হেরে যায়, যা ফিরতি লেগে দলটিকে জয়ের জন্য অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই ফলাফলের কারণে চেলসিকে ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য এখন অবশ্যই আর্সেনালের মাঠে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

রোজনিয়র টানা সপ্তম চেলসি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সত্ত্বেও প্রথম ম্যাচে জয়ের মুখ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আগের ছয়জন কোচের মধ্যে পাঁচজন ড্র এবং দুজন হারে শুরু করেছিলেন। সর্বশেষ ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন মরিজিও সারি, ২০১৮ সালের আগস্টে।

অন্যদিকে, আর্সেনালের কোচ মিকেল আরতেতা নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তিনি স্টামফোর্ড ব্রিজে টানা আট ম্যাচে অপরাজিত থাকলেন, যা আর্সেনালের ইতিহাসে ওয়েঙ্গারের পর নতুন কীর্তি। এই আট ম্যাচে দল চার জয় ও চার ড্র অর্জন করেছে। ওয়েঙ্গারের সময় ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত স্টামফোর্ড ব্রিজে টানা নয় ম্যাচে হারা হয়নি।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও গোলের সারসংক্ষেপ:

মিনিটঘটনাস্কোর
7বেন হোয়াইট আর্সেনালকে এগিয়ে দেনচেলসি 0-1 আর্সেনাল
49ভিক্টর ইয়োকেরেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেনচেলসি 0-2 আর্সেনাল
57আলেহান্দ্রো গারনাচো শোধ করেনচেলসি 1-2 আর্সেনাল
71মার্তিন জুবিমেন্দি আর্সেনালের জন্য গোল করেনচেলসি 1-3 আর্সেনাল
83গারনাচো চেলসির দ্বিতীয় গোল করেনচেলসি 2-3 আর্সেনাল

গারনাচো এই মৌসুমে লিগ কাপে কোয়ার্টারফাইনাল ও সেমিফাইনালে জোড়া গোল করার ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রিমিয়ার লিগে এই কীর্তি গড়েছেন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে; এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির এডেন জেকো এমন কীর্তি করেছিলেন।

ম্যাচের পর রোজনিয়র বলেন,
“প্রথম গোলটি হতাশাজনক। এটি দলের সমন্বয়ের ফল; দায় শুধুমাত্র রবের (সানচেজ) নয়। আমি তাকে এমন কিছু করতে বলেছি যা আগে কখনো করেনি। ভুল হলে দায় আমার।”

আরতেতা মন্তব্য করেন,
“প্রথমেই খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে চাই। আমরা দারুণ এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছি। ছেলেদের পারফরম্যান্স চমৎকার ছিল।”

ফলে চেলসিকে ফিরতি লেগে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। রোজনিয়রের জন্য এটি কঠিন পরীক্ষা—ঘরের মাঠে প্রথম জয় আনার চাপ এখন তার কোচিং জীবনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Comment