ট্রাম্পের পদক্ষেপে বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তায় ব্রিটিশ দল

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা শুরু হতে এখনও প্রায় পাঁচ মাস বাকি থাকলেও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। মূল কারণ ক্রীড়া নয়; বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিশেষত তাঁর গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের উচ্চাভিলাষ ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর আগ্রাসী মন্তব্য ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে বিশ্বকাপ বয়কটের ডাককে জোরালো করেছে।

ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলে এখন এমন প্রস্তাব উঠেছে যে, দেশের জাতীয় দলগুলো কি এমন একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নেওয়া উচিত যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা খেলার আনন্দকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। যদিও ফুটবল ফেডারেশন ও ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, রাজনৈতিক নেতারা বয়কটের পক্ষপাতী মত প্রকাশ করেছেন।

ত্রিপক্ষীয় আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের প্রতিযোগিতার সূচি নিম্নরূপ:

দলগ্রুপপ্রতিপক্ষ দলের তালিকাম্যাচ সংখ্যা
ইংল্যান্ডগ্রুপ ডিক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা3
স্কটল্যান্ডগ্রুপ সিব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি3

রাজনৈতিক চাপের কারণে কিছু সংসদ সদস্য মনে করছেন যে, জাতীয় দলগুলোকে কেবল ক্রীড়া নয়, জাতীয় নীতি ও অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিরোধী রাজনীতিবিদদের বক্তব্য, এমন পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত নয় যেখানে আন্তর্জাতিক দর্শক ও খেলোয়াড় রাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হবেন।

ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এই ধরনের বয়কটের প্রতি সমর্থন এখনও অজানা। তবে স্কটল্যান্ডের একটি দল ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা মূলত ইভেন্টকে সমর্থন করছে, এবং কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অংশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তার পর থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

ফুটবল এবং রাজনীতির সংযোগ নতুন নয়। তবে, এই বার বিশ্বকাপের প্রাক্কালে রাজনৈতিক চাপের কারণে বয়কটের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বকাপের আনন্দ এবং খেলাধুলার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য ক্রীড়া ও রাজনীতি আলাদা রাখার প্রয়াস জরুরি।

Leave a Comment