ডানা মেলছে বাংলাদেশের নারী হকি: স্টিক-ঠুকঠাকের মধ্যে ফুটছে নতুন উদ্যম

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম গত কয়েক দিন ধরে শিহরিত ছিল নারীদের হকিতে। স্টিক হাতে বলের পেছনে ছুটে চলা কিশোরী ও কিশোরীরা যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। ক্রিকেট ও ফুটবলের পর এবার ডানা মেলছে মেয়েদের হকিও। ঘরোয়া পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকার পরে এখন নারীদের হকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের ১৮টি জেলা ৪টি অঞ্চলে ভাগ হয়ে অংশ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক আয়োজিত ‘অপরাজেয় আলো’ নারী হকি টুর্নামেন্টে। আজ ফাইনালে ময়মনসিংহকে ৮–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় জোন-৫, দেশের একমাত্র হকি ‘কারখানা’ বিকেএসপি। চার আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে যোগ দেয় বিকেএসপি। ফাইনালে বিকেএসপির কণা আক্তার একাই করেছেন ৪টি গোল।

টুর্নামেন্টের মূল পরিসংখ্যান:

বিষয়তথ্য
অংশগ্রহণকারী জেলা১৮টি
অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়৩৫২ জন
চ্যাম্পিয়নবিকেএসপি (জোন-৫)
ফাইনাল স্কোরবিকেএসপি ৮–০ জোন-৪ (ময়মনসিংহ)
সর্বোচ্চ গোলদাতাঅর্পিতা পাল (২২ গোল, বিকেএসপি)
সেরা খেলোয়াড়আইরিন আক্তার (বিকেএসপি)
সেরা গোলকিপারমহুয়া (রাজশাহী)
উদীয়মান তারকাঅপূর্ব আক্তার জান্নাতুল

বিকেএসপির দাপট ছিল একতরফা। ৫ ম্যাচে তারা ৬৫টি গোল করেছে, গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৩টি গোল। বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি। অনুশীলন সুবিধা, নিয়মিত টার্ফে খেলার অভ্যাস এবং পর্যাপ্ত কোচিং তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

বিকেএসপির অধিনায়ক ও জাতীয় অনূর্ধ্ব-২১ দলের খেলোয়াড় অর্পিতা পাল বলেছেন, “নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম আমাদের এই ফল দিয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে পারলে আরও বড় পরীক্ষা হবে।” ফাইনালে দু’টি ম্যাচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২২ গোল করে তিনি সেরা গোলদাতার পুরস্কারও জিতেছেন।

চ্যাম্পিয়ন আইরিন আক্তার বলেন, “ফুটবল খেলার পর হকিতে ট্রায়াল দিয়ে বিকেএসপিতে আসি। এখন খেলাটি ভালোবেসে ফেলেছি। আমরা নারী হকির ভবিষ্যৎ।”

নারী হকির চর্চা বেড়ে যাওয়ায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এটি আশার খবর। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের সিইও রেফাত উল্লাহ খান আশ্বাস দিয়েছেন, “ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্ট আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আয়োজন জাতীয় দলের ভবিষ্যত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদিও এখনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল নেই, আগামী মার্চে এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপের জন্য দল গঠিত হতে পারে। মেয়েদের খেলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তাদের প্রতিভাকে আরও উজ্জ্বল করবে।

Leave a Comment