সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দশ মিনিট—কারণ, পৃষ্ঠপোষকের লোগোসহ ক্যাপটি সঙ্গে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি, যা ছাড়া গণমাধ্যমে কথা বলা অনুমোদিত নয়।
অপেক্ষা যেন মাহমুদুলের জীবনেরই অংশ। তিন বছর পর আবারও টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে দেশের ঐতিহাসিক জয়ের অংশ ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছিলেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
কিন্তু এরপর ভাগ্য আর সঙ্গ দেয়নি। কয়েকবার দলে সুযোগ পেলেও জায়গা হারিয়েছেন দ্রুত। অবশেষে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ফিরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন। শ্রীলঙ্কা সিরিজে বাদ পড়ার পর এই সিরিজেই তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করলেন।
ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন এনেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়,
“টেকনিক্যালি কিছু পরিবর্তন করেছি। আগে শাফলটা একটু বেশি করতাম, এখন সেটা কমিয়ে এনেছি। তেমন বড় কিছু নয়, তবে এটা সাহায্য করছে।”
তিন বছরের ব্যর্থতার অধ্যায় ভুলে এখন তিনি ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চান—
“যেটা চলে গেছে, সেটা নিয়ে ভাবছি না। সামনে কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটাই এখন লক্ষ্য।”
তবে ডাবল সেঞ্চুরি মিসের আফসোস তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট। চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ২০০ রানের সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। আগের দিন ১৬৯ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিনে কেবল দুই রান যোগ করেই উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি।
“অবশ্যই একটু হতাশ। কারণ, এটা হলে আমার জীবনের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হতো,” বলেন মাহমুদুল।
তবু নিজের ফিরে আসার ইনিংসকে তিনি তৃপ্তির চোখে দেখছেন—
“সব মিলিয়ে খুশি। অনেক দিন পর বড় ইনিংস খেলতে পেরেছি জাতীয় দলের হয়ে।”
মাহমুদুল হাসান জয়ের টেস্ট ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| পরিসংখ্যান | সংখ্যা/তথ্য |
|---|---|
| টেস্ট ম্যাচ | ৮ |
| মোট রান | ৫৪৩ |
| গড় | ৩৬.২ |
| সেঞ্চুরি | ২ |
| হাফ সেঞ্চুরি | ২ |
| সর্বোচ্চ ইনিংস | ১৭১ |
| অভিষেক বছর | ২০২১ |
| উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স | নিউজিল্যান্ডে ৭৮, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ |
চেষ্টা, আক্ষেপ আর আত্মবিশ্বাসের মিশেলে সিলেট টেস্ট যেন হয়ে উঠেছে মাহমুদুল হাসান জয়ের নতুন সূচনার মঞ্চ।
