তাইজুল–মুরাদের ঘূর্ণিতে আয়ারল্যান্ড মাটিতে

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে আয়ারল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ইনিংস ও ৪৭ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের টার্নিং বল ব্যারি ম্যাকার্থির ব্যাটে লেগে লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়তেই বাংলাদেশ জানত—এবার শেষের খুব কাছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সময়সীমার শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন, আর বড় পর্দায় লাল অক্ষরে ভেসে ওঠে ‘আউট’। উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো দল।

মাত্র ৩০১ রানের লিড নিয়েই বাংলাদেশ প্রায় নিশ্চিত ছিল জয়ের পথে। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে আয়ারল্যান্ড ৫ উইকেট হারানোয় কাজটা আরও সহজ হয়ে গিয়েছিল। তবু আজ জয় পেতে লেগেছে প্রায় দেড় সেশন—রিভিউ নাটক, ক্যাচ মিস, আর ম্যাকব্রাইনের প্রতিরোধে অপেক্ষাটা বড় হয়েই উঠেছিল।

দিনের তৃতীয় বলেই তাইজুলের বলে আম্পায়ারের আঙুল উঠলেও রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ মিস করে আহত হন অধিনায়ক নাজমুল—জয়ের পথ আরও দীর্ঘ হয়। ম্যাকব্রাইন–হ্যামফ্রিস জুটি ৩১ রান তোলে, পরে ম্যাকার্থি–নেইলের ৫৪ রানের জুটিও ম্যাচ দীর্ঘায়িত করে।

ম্যাকব্রাইনের ৫২ রানের লড়াই দেখে মনে হচ্ছিল আয়ারল্যান্ড কি ইনিংস হার এড়াতে পারবে? শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার বলে হাসান মুরাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলে ভেঙে যায় তাদের আশা।

বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ও মুরাদ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট ভাগ করে নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে দমিয়ে দেন। পুরো টেস্টে আয়ারল্যান্ড কোনো সময়ই বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেনি। ব্যাট–বলে দাপট দেখিয়েই সিলেটে সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও এসেছে উজ্জ্বল প্রাপ্তি—মাহমুদুল হাসানের ১৭১ রানের দুর্দান্ত কামব্যাক, অধিনায়ক নাজমুলের আরেকটি সেঞ্চুরি, আর প্রথম চার ব্যাটসম্যানের সবার ৮০–এর বেশি রান। অভিষেকে আলো ছড়িয়েছেন বোলার হাসান মুরাদও।

এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৯ নভেম্বর, মিরপুরে।

Leave a Comment