সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী রিও ফার্ডিনান্ড গত আগস্ট মাসে এক বুক আশা নিয়ে সপরিবারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল দুবাইয়ের শান্ত ও বিলাসবহুল পরিবেশে সন্তানদের এক সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়া। ৪৭ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা তাঁর স্ত্রী কেট ফার্ডিনান্ড এবং সন্তান শায়ে, ক্রি ও টিয়াকে নিয়ে নতুন জীবন শুরুও করেছিলেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান বনাম ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ সংঘাতের ছায়া ফার্ডিনান্ড পরিবারের সেই স্বপ্নিল জীবনে এক বিষাদময় অনিশ্চয়তা নিয়ে এসেছে।
Table of Contents
যুদ্ধকবলিত দুবাই ও ফার্ডিনান্ড পরিবারের বর্তমান অবস্থা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা হামলার আশঙ্কায় বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুবাইয়ের জাঁকজমকপূর্ণ অট্টালিকাগুলো এখন আর কেবল বিলাসিতার প্রতীক নয়, বরং তা জীবন রক্ষার অস্থায়ী দুর্গে পরিণত হয়েছে। নিজের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘রিও ফার্ডিনান্ড প্রেজেন্টস’-এ রিও জানান, আকাশ চিরে ধেয়ে আসা মিসাইল আর যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ তাঁদের প্রাত্যহিক জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ কেড়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই নাজুক যে, প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এই তারকাকে অনেকটা ‘কোভিড’ কালীন লকডাউনের মতো গৃহবন্দী সময় কাটাতে হচ্ছে।
নিচে ফার্ডিনান্ড পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ও দুবাইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
| বর্তমান অবস্থান | দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত। |
| পরিবার সদস্য | স্ত্রী কেট এবং তিন সন্তান (শায়ে, ক্রি ও টিয়া)। |
| নিরাপদ আশ্রয় | বাড়ির বেজমেন্ট বা আংশিক ভূগর্ভস্থ কক্ষ। |
| বাংকার হিসেবে ব্যবহার | নিজস্ব রেকর্ডিং স্টুডিওকে বাংকারে রূপান্তর। |
| মানসিক অবস্থা | যুদ্ধের শব্দে আতঙ্কিত, তবে পরিবারের সুরক্ষায় সচেষ্ট। |
| প্রটোকল | সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনায় বাড়ির নিচে রাত কাটানো। |
স্টুডিও যখন জীবন রক্ষার ‘বাংকার’
নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ফার্ডিনান্ড পরিবারকে বাড়ির বেজমেন্টে আশ্রয় নিতে হয়। রিও ফার্ডিনান্ড অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বর্ণনা করেন যে, কীভাবে তাঁর চিরচেনা পডকাস্ট স্টুডিওটি এখন একটি নিরাপদ বাংকারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতিটা ছিল কিছুটা গা ছমছমে এবং ভয়ংকর। আমাদের বেজমেন্টে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেখানেই লেপ-কম্বল নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে রাত কাটিয়েছি।” অদ্ভুত শোনালেও, সেই বদ্ধ ঘরেই তিনি নিজেকে ও পরিবারকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেছেন।
বাবার দায়িত্ব ও মানসিক দৃঢ়তা
একজন সফল ফুটবলারের খোলস ছেড়ে রিও এখন এক দায়িত্বশীল বাবার ভূমিকায় অবতীর্ণ। যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মনে যেন দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তিনি প্রতিনিয়ত সন্তানদের সাহস জোগাচ্ছেন। ফার্ডিনান্ড বলেন, “মিসাইল আর বোমার শব্দ যখন কানে আসে, তখন একজন বাবা হিসেবে নিজেকে শান্ত রাখা এবং সন্তানদের পরিস্থিতির গভীরতা বুঝিয়ে বলাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এখন ঘরের ভেতর সবাই মিলে শরীরচর্চা করছি এবং ছোট ছোট কাজ একসাথে করার চেষ্টা করছি যা আমরা সাধারণত করি না।”
স্ত্রী কেট ফার্ডিনান্ডের বার্তা
ফার্ডিনান্ডের স্ত্রী, জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব কেট ফার্ডিনান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটি আশ্বস্তকারী বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, হামলার তীব্রতা ও আকস্মিকতায় তিনি শুরুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তবে দুবাই সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে তিনি লিখেছেন, “আমরা বর্তমানে নিরাপদ আছি। দুবাই সরকার আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অসাধারণ কাজ করছে। যদিও স্নায়বিক চাপ অনুভব করছি, তবুও মনে হচ্ছে আমরা সুরক্ষিত হাতৌ আছি।”
রিও ফার্ডিনান্ড ছাড়াও দুবাইকে স্থায়ী আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন বক্সার আমির খান এবং হলিউড তারকা লিন্ডসে লোহানের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিরা। কিন্তু বর্তমানের এই যুদ্ধাবস্থা প্রমাণ করে দিল যে, ভাগ্যের পরিহাসে বিলাসিতার নগরীও যেকোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
