না ফেরার পথে চলে গেলেন কাবাডির মনির

বাংলাদেশ ক্রীড়া অঙ্গনে এক প্রখ্যাত ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক মনির হোসেন আর নেই। কাবাডি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মনির হোসেনের উপস্থিতি যে কোনো ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে আলোকিত করত। সম্প্রতি তিনি অ্যাডহক কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং কাবাডি অঙ্গনে তাঁর অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হতো।

সোমবার মধ্যরাতে হৃদযন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ কেবল কাবাডি নয়, বরং পুরো ক্রীড়া অঙ্গনকে শোকের ছায়ায় মুড়ে দিয়েছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ ও সংগঠকরা তাঁকে একজন নিষ্ঠাবান, সদা উদ্যমী ও সমবেদনায় পরিপূর্ণ নেতা হিসেবে স্মরণ করছেন।

মনির হোসেন কেবল কাবাডি সংগঠকই ছিলেন না; ফুটবল অঙ্গনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের গভীর সম্পৃক্ততাও ছিল। প্রাথমিকভাবে তিনি একজন রেফারির দায়িত্ব পালন করতেন এবং পরবর্তীতে ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

কাবাডি ও ফুটবল অঙ্গনে মনির হোসেনের অবদান সংক্ষেপে নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

খাতদায়িত্ব ও অবদান
কাবাডিকোষাধ্যক্ষ, অ্যাডহক কমিটি সদস্য, জাতীয় ও আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট আয়োজন ও তদারকি
ফুটবলরেফারি, ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি সদস্য, ক্রীড়া নীতি ও মান বজায় রাখা
সাধারণ অবদানক্রীড়া সংস্কৃতি উন্নয়নে সহায়তা, নতুন প্রতিভা উদ্দীপনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সহযোগিতা

কাবাডি ফেডারেশন মনির হোসেনের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সকালে কাবাডি স্টেডিয়ামে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ক্রীড়া অঙ্গনের নেতারা, সহকর্মীরা ও প্রাক্তন খেলোয়াড়রা জানাজায় উপস্থিত থেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

মনির হোসেনের মৃত্যু কেবল একজন সংগঠককে হারানোর সমান নয়; এটি ক্রীড়া সংস্কৃতি ও মান উন্নয়নের একজন অগ্রদূতকে হারানোর শোক। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা কাবাডি ও ফুটবল অঙ্গনের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অসামান্য অবদান নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের অনুপ্রাণিত করবে বহু বছর ধরে।

Leave a Comment