নিজের ‘GOAT’ তালিকায় রোনালদোকে বাদ দিয়ে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত জবাব

লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, শুধু মাঠেই নয়, কথার খেলাতেও তিনি অনন্য। নিজের পর বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকা করতে গিয়ে যখন সবাই আশা করছিলেন, সেখানে থাকবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—তখন মেসির এক বুদ্ধিদীপ্ত জবাবে অবাক হলেন সবাই।

৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়—
“মেসিকে বাদ দিলে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে?”

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আপনি নিজেকে বেছে নিতে পারবেন না, তাহলে বলুন, সেরা কে?”

মেসি প্রথমে কিছুটা ভেবে নিয়ে নাম বলেন কয়েকজন ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়ের—যাদের অনেকেই তার সাবেক সতীর্থ।

“অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, তাই বেছে নেওয়া কঠিন,” বলেন মেসি। “তবে আমার মতে, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপে, এডেন হ্যাজার্ড, লুইস সুয়ারেস ও সার্জিও আগুয়েরো—এদের মধ্যে যেকোনো একজন বিশ্বের সেরা হতে পারে।”

এখানেই থেমে যাননি কৌতূহলী দর্শক ও সাক্ষাৎকারগ্রহীতা। রোনালদোর নাম না শুনে তারা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন,
“আপনি অনেক ভালো খেলোয়াড়ের নাম বললেন, কিন্তু একজনকে ভুলে গেলেন না তো? সাত নম্বর জার্সি পরেন, নামটা মনে পড়ছে?”

হাস্যরসের সুরে মেসির জবাব ছিল নিখুঁত এক ‘সাইডস্টেপ’, ঠিক যেমনটি তিনি মাঠে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দেন।

“ক্রিস্টিয়ানো?”—বললেন মেসি। “ওকে আমি তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি, কারণ সে আমার সঙ্গেই একই পর্যায়ের।”

এই ছোট্ট বাক্যেই বোঝা গেল দুই কিংবদন্তির মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার গভীরতা।

২০০৯ সালে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে “এল ক্লাসিকো”-তে মুখোমুখি হয়ে তারা রচনা করেছেন অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রেকর্ড, গোল, ব্যালন ডি’অর—সব কিছুতেই একে অন্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তারা।

পরে দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়—রোনালদো এখন সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলছেন, আর মেসি যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে।

তবুও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ‘কে সেরা’ সেই বিতর্ক আজও অব্যাহত। আর মেসির এই সাম্প্রতিক মন্তব্যে নতুন করে উসকে উঠেছে সেই চিরচেনা রোনালদো-মেসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে এবার এক অনন্য শ্রদ্ধার আবরণে মোড়ানো অবস্থায়।

Leave a Comment