নিজ শহরের ঐতিহাসিক গির্জায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিয়ে

ফুটবল বিশ্বের সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজ আগামী বছরের বিশ্বকাপের পর আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করবেন। রোনালদো ইতিমধ্যে বিয়ে ও বিয়ে পরবর্তী অভ্যর্থনার ভেন্যু চূড়ান্ত করেছেন।

পর্তুগিজ দৈনিক জর্নাল দা মাদেইরা জানায়, বিয়ের অনুষ্ঠান পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে, বিশেষত ফুঞ্চালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত হবে। ১৫১৪ সালে নির্মিত এই গির্জা মাদেইরার সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও প্রতীকী ধর্মীয় স্থাপনা। স্থানীয় সিডার কাঠে নির্মিত গির্জাটি দ্বীপের আধ্যাত্মিক হৃদয় হিসেবে পরিচিত। উল্লেখযোগ্য, রোনালদো নিজেও গির্জার মাত্র দুই মাইল দূরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

রোনালদোর মাদেইরার সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই বিশেষ। দ্বীপের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তার নামে নামকরণ করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে তার জাদুঘরও। শৈশবে যে ক্লাব থেকে তিনি ফুটবল জীবন শুরু করেছিলেন—নাসিওনাল দা মাদেইরা—ওটি গির্জার কাছাকাছি।

বিয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ হলে অতিথিদের জন্য বিয়ের পরবর্তী অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হবে দ্বীপের একটি বিলাসবহুল হোটেলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পর্তুগাল, স্পেন, ইতালি, সৌদি আরবসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের তারকারা।

রোনালদোর ভাষায়, সন্তানরাই তাঁকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। এই জুটির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে: আলানা ও বেলা, সঙ্গে রোনালদোর আরও তিন সন্তান—ক্রিস্তিয়ানো জুনিয়র, মাতেও ও ইভা মারিয়া।

২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে পরিচয় হয় রোনালদো ও জর্জিনার। এরপর সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হয়ে সৌদি প্রো লিগের আল নাসর পর্যন্ত। জর্জিনা বর্তমানে মডেল, উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল আইকন হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বিবরণতথ্য
বিয়ে স্থানফুঞ্চালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, মাদেইরা
জন্মস্থানহাসপাতাল, ফুঞ্চাল থেকে ২ মাইল দূরে
সন্তানআলানা, বেলা, ক্রিস্তিয়ানো জুনিয়র, মাতেও, ইভা মারিয়া
ভেন্যুবিলাসবহুল হোটেল (বিয়ের পরবর্তী অভ্যর্থনা)

রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে শুধুমাত্র ফুটবল প্রেমীদের নয়, মাদেইরা দ্বীপের জন্যও এক আবেগঘন মুহূর্ত। ইতিহাস, প্রতীক ও ভালোবাসার এক মেলবন্ধন তৈরি করবে এই অনুষ্ঠান।

Leave a Comment