নেইমার রেফারিকে ‘অহংকারী ও খারাপ’ বলে আক্রমণ করলেন

চোট কাটিয়ে সদ্য ফেরা নেইমার গত রাতে ব্রাজিলিয়ান লিগে ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রায় দুই মাস পর সান্তোসের শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন। তবে ম্যাচে তার পারফরম্যান্স তেমন কোনো আলোচনার সৃষ্টি না করলেও, তিনি একাধিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

মারাকানা স্টেডিয়ামে সান্তোস ৩-২ ব্যবধানে ফ্লামেঙ্গোর কাছে হারল। নেইমার না গোল করতে পেরেছেন, না কোনো অ্যাসিস্ট দিতে। এই পরাজয়ে সান্তোসের অবনমনের শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ফ্লামেঙ্গো লিগ শিরোপা জয়ের জন্য সমান ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে পালমেইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে।

এ ম্যাচে খুব ভালো না খেললেও নেইমারকে বারবার ফাউল করা হয়েছে ফ্লামেঙ্গো খেলোয়াড়দের দ্বারা, আর গ্যালারি থেকে ফ্লামেঙ্গো সমর্থকরা তাকে ‘নেইমার, তুমি গোল্লায় যাও!’ বলে দুয়ো দিতে থাকে। এ বিষয়ে রেফারি সাভিও সাম্পাইয়োর কাছে অভিযোগ জানাতে চাইলেও কোনো সাড়া পাননি নেইমার। উল্টো, রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান এবং হুমকি দেন।

পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়ায়, সান্তোস কোচ হুয়ান পাবলো ভইভোদা ৮৫ মিনিটে নেইমারকে তুলে নিয়ে বেঞ্জামিন রোলহেইসারকে নামান। এতে রেগে গিয়ে বেঞ্চে রাখা পানির বোতলে লাথি মারেন নেইমার, যা গিয়ে পড়ে তার কিছু সতীর্থ খেলোয়াড়দের গায়ে। এরপর মন খারাপ করে সোজা মারাকানার ড্রেসিংরুমে চলে যান নেইমার। তাকে তুলে নেওয়ার পর সান্তোস দুটি গোল শোধ করতে পারলেও, পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি।

ম্যাচ শেষে নেইমার রেফারি সাভিও সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, “সম্মান রেখে বলছি, তিনি (রেফারি) খুব খারাপ ও অহংকারী। রেফারিরা সব সময় বলেন, শুধু দলের অধিনায়ক তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। অন্য কেউ যদি কথা বলতে যায়, তবে তারা পেছনে ঘুরে গিয়ে হুমকি দেন।”

রেফারির কাছে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখানোর বিষয়টি নিয়ে নেইমার বলেন, “আজ (কাল) আমাকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছে কারণ আমি রেফারির কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘যদি তুমি আমার কাছে আসো, তাহলে আমি তোমাকে হলুদ কার্ড দেখাব।’ আমি জানতে চেয়েছিলাম কেন? কারণ, আমি মনে করেছিলাম ফ্লামেঙ্গো গোল করার সময় সান্তোসের গোলকিপার ব্রাজাওকে ফাউল করা হয়েছিল। এই ধরনের ভুল ব্রাজিলের রেফারিংয়ে বারবার ঘটে। আবারও বলছি, এই ম্যাচে রেফারির আচরণ ছিল সত্যিই ভয়ানক।”

Leave a Comment