হকি খেলার পেনাল্টি কর্ণার । হকি খেলার পনেরো নম্বর আইন
হকি খেলার পেনাল্টি কর্ণার । হকি খেলার পনেরো নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
১. বিপক্ষ দলকে তখন একটি পেনাল্টি কর্ণার দেয়া হবে, আম্পায়ারের মতেঃ
(ক) রক্ষণদলের কোন খেলোয়াড় সার্কেলের বাইরে ২৫ গজের ভিতরে ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ১২. ১৪ ১৭ ভংগ করে।
অথবা
(খ) রক্ষণদলের কোন খেলোয়াড় বৃত্তের ভিতরে অনিচ্ছাকৃতভাবে আইন ১২,১৪. ১৭, ২ (খ) ভংগ করবে।
অথবা
(গ) রক্ষণদলের কোন খেলোয়াড় যখন বৃত্তের মধ্যে আইন ১০২ বা ১০:২ (গ) ধারা পুনঃ পুনঃ ভংগ করবে।
২. আক্রমণকারী দলের খেলোয়াড় পুশ বা হিট দ্বারা ব্যাক লাইনের উপর এবং গোলপোস্টের কমপক্ষে ১০ গজ দূরে থেকে পেনাল্টি-কর্ণার মারবে। আকক্রমণকারী দল তাদের পছন্দমত গোলপোস্টের যে কোন দিক থেকে পেনাল্টি কর্ণার মরতে পারবে। যে খেলোয়াড় পেনাল্টি-কর্ণার মারবে তার অন্তত একটি পা মাঠের বাইরে থাকবে। বলটি ইচ্ছাকৃতভাবে উঁচু দিয়ে মার যাবে না। কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বলটি উঠে যায় এবং বিপজ্জনক না হয় বা হতে পারে বলে মনে না হয় তবে এই উঁচুতে উঠে যাওয়াতে কিছুতেই শাস্তি দেয়া যাবে না।
৩. (ক) যে মুহূর্তে বলটি পুশ বা হিট করা হচ্ছে সে সময় অন্য কোন খেলোয়াড় বলটির ৫ গজের মধ্যে থাকতে পারবে না।
আক্রমণকারী দলের অপর খেলোয়াড়েরাও তাদের পা ও স্টিকসহ বৃত্তের বাইরে থাকবে।
রক্ষণকারী দলের সর্বাধিক ৫ জন খেলোয়াড় তাদের পা ও স্টিক গোল রেখা বা প্রান্ত রেখার বাইরে নিয়ে থাকতে পারবে। রক্ষণকারী দলের অপর খেলোয়াড়েরা মধ্য রেখার পিছনে দাঁড়াবেন।
(খ) রক্ষণদলের গোল-কীপার খেলতে অপরাগ হলে তখনি তার পরিবর্তে অন্য একজন গোল-কীপার নামাতে হবে। যদি রক্ষণদলের গোল-কীপার বহিষ্কৃত হন, তবে অধিনায়ক অপর একজনকে গোল কীপার মনোনিত করবেন। পরিবর্তিত গোলকীপার সময় নষ্ট না করে রক্ষনাত্মক সরঞ্জামাদি পরিধান করতে পারবেন (আইন ৯.২ দেখুন)।
৪. যতক্ষণ পর্যন্ত বলটি হিট বা পুশ না করা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আক্রমণভাগের কোন খেলোয়াড় বৃত্তের মধ্যে ঢুকতে পারবে না। অথবা রক্ষণভাগের কোন খেলোয়াড় ব্যাক লাইন বা সেন্টার লাইন অতিক্রম করতে পারবে না।
৫. (ক) যতক্ষণ না বলটি মাঠে থামানো হচ্ছে বা নিজেই থেমে যাচ্ছে অথবা রক্ষণদলের কোন খেলোয়াড়ের স্টিকে বা গায়ে লাগছে ততক্ষণ পর্যন্ত পেনাল্টি কর্ণার থেকে কোন বল গোলের দিকে মারা যাবে না। যতক্ষণ না গোলের দিকে বল মারা হচ্ছে ততক্ষণ রক্ষণকারী দলের গোলরক্ষক পায়ের পাতার উপর থাকবেন।
(খ) গোলের দিকে নেয়া প্রথম শর্টটি যদি হিট হয় তবে বলটি ব্যাকবোর্ডে বা সাইড বোর্ডে (১৮ ইঞ্চি)-এর উঁচু দিয়ে গোল লাইন অতিক্রম করতে পারবে না। যদি না বলটি রক্ষণ দলের কোন খেলোয়াড়ের স্টিকে বা শরীরে স্পর্শ লেগে থাকে।
(গ) বলটি যদি বৃত্ত রেখার ৫ গজের বেশি দূরে চলে যায় তবে পেনাল্টি কর্ণার শেষ হয়েছে বলে ধরা হবে এবং পেনাল্টি কর্ণারের বিশেষ ধারা (ক) ও (খ) বলবৎ থাকবে না।
৬. পেনাল্টি কর্ণার নেয়ার সময় যে খেলোয়াড় হিট বা পুশ করবেন তিনি হিট বা পুশ করার পর বলটি পুনরায় খেলতে পারবে না বা খেলার চেষ্টা করতে পারবে না অথবা বলটি খেলা যায় এমন দূরত্বে অবস্থান করতে পারবে না যতক্ষণ না অন্য কোন খেলোয়াড় বলটি খেলে বা স্পর্শ করে।
যিনি হিট বা পুশ করে পেনাল্টি কর্ণার করেছেন তিনি যদি বলটি প্রথমবার মারতে ব্যর্থ হন তবে পেনাল্টি কর্ণারটি পুনরায় মারতে হবে। ব্যাক লাইন থেকে নেয়া পেনাল্টি কর্ণারের হিট বা পুশ থেকে সরাসরি কোন গোল হবে না, এমনকি বলটি যদি রক্ষণ দলের কোন খেলোয়াড় গোলের ভেতর খেলে তবু গোল হবে না ।
শাস্তি
(১) ধারা ১৫৩ (ক) বা ১৫.৪ ভংগের জন্য, যথাঃ আক্রমণকারী দলের কোন খেলোয়াড় যদি খুব তাড়াতাড়ি বৃত্তে প্রবেশ করে অথবা রক্ষণদলের এক বা একাধিক খেলোয়াড় যদি খুব তাড়াতাटিগোলরেখা, প্রান্তরেখা, বা মধ্য রেখা অতিক্রম করে অথবা খুব তাড়াতাড়ি বলের ৫ গজের ভেতর চলে আসে তবে আম্পায়ার নিজস্ব ক্ষমতা বলে পেনাল্টি কর্ণারটি পুনরায় মারার নির্দেশ দিতে পারেন।।
(২) যদি আক্রমণকারী দল কর্তৃক উপর্যুপরি ১৫.৩ বা ১৫.৪ ভংগ করা হয় তবে আম্পায়ার ফ্রি-হিটের নির্দেশ দিতে পারেন।
(৩) যদি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় কর্তৃক উপর্যুপরি ১৫৩ (ক) অথবা ১৫.৪ ধারা ভংগ করা হয় তবে আম্পায়ার একটি পেনাল্টি স্ট্রোকের নির্দেশ দিতে পারেন।
(৪) অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কোন গোল-কীপার দ্বারা ধারা ১৫.৫ (ক) ভংগ হয় তবে আম্পায়ার তার ক্ষমতা বলে পেনাল্টি কর্ণারটি পুনরায় মারার নির্দেশ দিতে পারেন।
(৫) গোল-কীপার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পুনঃ পুনঃ আইন ১৫.৫ (ক) ভংগ করেন তবে আম্পায়ার অবশ্যই পেনাল্টি স্ট্রোকের নির্দেশ দেবেন।
(৬) অন্য কোনভাবে আইন ১৫ ভংগ করার জন্য রক্ষণ দলকে একটি ফ্রি-হিট দেয়া হবে।
খেলোয়াড় ও আম্পায়ারের জন্য নির্দেশনা
(ক) উভয় দলই সঠিকভাবে অবস্থান নেবে। এই আইনে এমন কিছু নেই যা আক্রমণকারী বা রক্ষনকারীকে বা তাদের স্টিককে শূন্যে বৃত্তের ভিতর ঝুঁকে থাকতে বাধা দেয়, যদি না স্টিক বা শরীরের কোন অংশ বৃত্তের ভেতরের মাঠকে স্পর্শ না করে থাকে।
(খ) অপরাগ বা সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত গোল-কীপার ফিরে আসার পর তার তাড়াতাড়ি আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জামাদি পরে নেয়ার অনুমতি রয়েছে।
৪. বলটি খেলার আগে যদি রক্ষণকারী দলের খেলোয়াড়রা গোলরেখা, প্রান্তরেখা, বা মধ্যরেখা অতিক্রম করে তবে আম্পায়ারের পেনাল্টি কর্ণারটি পুনরায় মারতে দেবার অধিকার আছে। যদিও এই ক্ষমতা বিচক্ষণতার সাথে আরোপ করতে হবে । এই সময় খেলা থামালে এটা প্রায়ই আক্রমণকারী দলের বিপক্ষে যায়। কারণ আক্রমণকারীরা হয়ত তখন ভাল হিট বা পুশ করে থামিয়ে গোলে মারার মত ভাল সুযোগ পেয়েছিল।
৫. বাধ্যতামূলক পরীক্ষা হিসেবে বলটি অবশ্যই বৃত্তের বাইরে থামাতে হবে। বলটি আক্রমণকারী খেলোয়াড় দ্বারা দিক পরিবর্তিত হতে পারে বা তারা নিজেদের মধ্যে একাধিক বার বল দেয়া নেয়া করতে পারে। কিন্তু গোলে শর্ট নেয়ার আগে অবশ্যই বৃত্তের বাইরে ৫ গজের মধ্যে হলে বলটিকে সম্পূর্ণ থামাতে হবে বা বলটি নিজে নিজে থেমে গেলেও হবে।
বলটি বৃত্তের সীমানা থেকে ৫ গজ দূরে চলে গেলে আর থামানোর প্রয়োজন পড়বে না। বলটি বৃত্তের বাইরে থামানো না হয়ে থাকলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। যদি বৃত্ত হতে ৫ গজ দূরে দাঁড়ানো কোন খেলায়াড়ের কাছে বলটি চলে যায় তবে সে ক্ষেত্রে পেনাল্টি কর্ণার শেষ হয়ে যাবে।
খাদিও গোলে মারা প্রথম হিটের বল কিছুতেই ১৮ ইঞ্চির উপর দিয়ে গোল লাইন অতিক্রম করতে পারবে না। বিপজ্জনক নয় এমন পুশ, ফ্লিক, স্কুপ, বা পরবর্তি কোন মারের জন্য উচ্চতার কোন সীমা নেই। লাইন অতিক্রম করার আগে বিপজ্জনক না হলে হিট করা বলেরও উচ্চতার সীমা নেই।
যে মুহূর্তে প্রান্তরেখা হতে পেনাল্টি কর্ণারের হিট বা পুশ নেয়া হচ্ছে তখন গোল- কীপার গোল লাইনে থাকতে পারেন বা অন্য কোথাও যেতে পারেন। কিন্তু গোলে প্রথম শর্ট নেয়ার আগে সে শুয়ে পড়তে পারবে না। যখনই প্রথম শর্ট নেয়া হয়ে থাকবে (এটা হিট, পুশ, ক্লিক, বা স্কুপ হতে পারে) তখন গোলকীপার ঝাঁপিয়ে পড়া, হাঁটুর উপর বসা, গড়িয়ে না যাওয়া ইত্যাদি প্রচলিতভাবে করতে পারবে।
প্রথম শর্ট-এর আগে গোল-কীপারকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে পড়ে যেতে ধারা ১৫.৫ (ক) এ নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং গোলকীপার অনিচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে পড়ে গেলে অথবা বিপক্ষের আচরণের জন্য এমন ঘটলে গোল কীপারকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
এই ব্যাপারে আম্পায়ার পেনাল্টি কর্ণারটি পুনরায় মারতে দেবেন। তবে গোল-কীপার গোলে প্রথম শর্টের আগেই সে খেলতে পারে এমন দূরত্বে বলটি পায়তবে সে ঝাঁপিয়ে পড়া, গড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি করতে পারবে।
যদি রক্ষণকারী দল কর্তৃক বলটি পূর্বেই খেলা বা স্পর্শ অথবা মাটিতে থামানো না হয়ে থাকে তাহলে আক্রমণকারীদের একাধিক পাস ও বলের দিক পরিবর্তনের পরও বলটি উঁচু করে মারা এই আইনের লঙ্ঘন হিসেবে শাস্তিযোগ্য ।
“সরাসরি অর্থ হল যতক্ষণ না অন্য একজন আক্রমণকারী বলটি খেলছে। অন্য কোন আক্রমণকারী বলটি খেলার প্রয়োজন পড়বে না যদি একজন রক্ষণকারী দলের খেলোয়াড় বলটি খেলে, রক্ষণকারী দলের খেলোয়াড় বলটি খেললেই বলটি সাধারণ খেলার পর্যায়ে চলে আসবে।
