পেনাল্টি স্ট্রোক । হকি খেলার ষোল নম্বর আইন
Table of Contents
পেনাল্টি স্ট্রোক । হকি খেলার ষোল নম্বর আইন
১. বিপক্ষ দলকে একটি পেনাল্টি স্ট্রোক তখন দেয়া হবে, যদি বলটি তাদের দখলে থাকে অথবা বলটি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে, তখন আম্পায়ারের মতেঃ
(ক) রক্ষণকারী দলের খেলোয়াড় দ্বারা বৃত্তের ভিতরে ইচ্ছাকৃতভাবে ধারা ১২ ১৪ অথবা ১৭২ (ক) ভংগ করা হলে।
অথবা
(খ) বৃত্তের ভিতরে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় কর্তৃক অনিচ্ছাকৃত কোন ফাউলের দ্বারা ১২ নং আইন ভংগ করা হয় এবং তাতে একটি সম্ভাব্য গোল না হয়।
অথবা
রক্ষণকারী দল কর্তৃক পুনঃ পুনঃ ধারা ১৫.৩ (১) এবং/অথবা ১৫.৪ এবং/অথবা গোলকীপার দ্বারা ১৫.৫ (১) ভংগ হলে।
(ক) যখন আইন ভংগ হয়েছে তখন পেনাল্টি স্ট্রোকটি গোল লাইনের সামনের ৭ গজ দূর থেকে ফ্রিক, স্কুপ বা পুশের মাধ্যমে আক্রমণকারী দলের খেলোয়াড় দ্বারা মারতে হবে এবং তা রক্ষা করবে রক্ষণকারী দলের গোলকীপার। রক্ষণকারী গোলকীপার যদি খেলতে অপরাগ হয় তখনই তাকে অপর একজন গোলকীপার দ্বারা বদলি করতে হবে। রক্ষণকারী দলের গোলকীপার যদি বহিষ্কৃত হয় তার দলের অধিনায়ক অপর একজন গোলকীপার মনোনিত করবেন। বদলি গোল-কীপারকে সময় নষ্ট না করে আত্মরক্ষামূলক পোশাকাদি পরতে হবে। (আইন ৯.২ দেখুন)
এই আইনে স্ট্রোক নেয়ার আগে গোলকীপার তার রক্ষণমূলক হেলমেট এবং/অথবা হাতের দাস্তানা খুলে ফেলতে পারবে (আইন ৯.২ দেখুন)।
(খ) যে কোন স্ট্রোকের দ্বারা বল যে কোন উচ্চতায় মারা যাবে ।
(গ) পেনাল্টি স্ট্রোক নেয়ার সময় উভয় দলের অন্যান্য সকল খেলোয়াড় কাছের ২৫ গজ দাগের বাইরে থাকবে এবং তারা পেনাল্টি-স্ট্রোক মারার সময় কাউকে কোনভাবে প্রভাবিত করতে বা করার চেষ্টা করতে পারবে না।
৩. (ক) যতক্ষণ পর্যন্ত আম্পায়ার উভয় রক্ষণকারী ও আক্রমণকারীকে স্ট্রোকের জন্য তৈরি দেখে আক্রমণকারীকে সংকেত না দেবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আক্রমণকারী পেনাল্টি স্ট্রোক মারতে পারবে না।
(খ) আক্রমণকারী বলটির কাছে এবং পিছনে দাঁড়াবেন এবং সামনের দিকে এক কলমের সাহায্যে স্ট্রোক নেবেন। পিছনের পা টেনে নিয়ে যাওয়া বা শূন্যে তোলা এই আইন ভংগ করে না, যদি না বলটি স্থানচ্যুত হবার আগে যিনি স্ট্রোকটি নিচ্ছেন তার পেছনের পা সামনের পা কে অতিক্রম করে।
(গ) যিনি স্ট্রোকটি নিচ্ছেন তিনি কেবল একবারই বলে আঘাত করতে পারবেন এবং মারার পর বল বা গোল কী পারের দিকে যেতে পারবেন না।
(8) (ক) গোল কীপার গোল লাইনের উপর দাঁড়াবেন। আক্রমণকারী দলের খেলোয়াড় যিনি স্ট্রোক নেবেন তিনি এবং গোল-কীপার তৎক্ষণাৎ সরতে বা পা নাড়তে পারবেন না যতক্ষণ না বলটি খেলা হচ্ছে।
(খ) গোলকীপার তার সাধারণ সুযোগ সুবিধা পাবেন। কিন্তু তার পোশাকাদি পরিবনের জন্য অহেতুক পেনাল্টি স্ট্রোক নিতে দেরি করাতে পারবেন না। গোল-কীপার বলটি ধরে ফেললে পেলান্টি কর্ণার শেষ হবে (ধারা ১৬.৫ ২ দেখুন)। গোলে মারা বলটি গোলকীপার থামালে আম্পায়ারের মতে বলটি যদি তার শরীরে, স্টিকে বা হাতে লেগে ফিরে আসে তবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
(গ) স্ট্রোক নেয়ার পূর্বে যদি আক্রমণকারীর কোন রকম ইচ্ছাকৃত আচরণ গোল- কীপারকে তার পা নাড়াতে প্ররোচিত করে অথবা আক্রমণকারী স্ট্রোক মারার সময় স্টিক বা শরীরের দ্বারা গোলকীপারকে ধোঁকা দেয় তবে আক্রমণকারীকে শাস্তি দিতে হবে।
৫. পেনাল্টি স্ট্রোকের ফলে, যদিঃ
(ক) বল যদি দুই গোলপোস্টের ভেতর এবং ক্রসবারের নিচ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে গোল লাইন অতিক্রম করে তাহলে একটি গোল হবে।
(খ) বল বৃত্তের ভেতরে এসে স্থির বা রক্ষিত হয়ে থাকলে বা গোল-কীপারের প্যাডের মধ্যে আটকা পড়লে অথবা ধরে ফেললে বা বল বৃত্তের বাইরে চলে গেলে পেনাল্টি-স্ট্রোক শেষ হবে। যদি গোল না হয়ে থাকে তবে বলটিকে একটি ফ্রি-হিটের মাধ্যমে রক্ষণদল কর্তৃক গোল লাইনের মধ্যস্থান থেকে ভিতরের দিকের লাইনের ধার হতে ১৬ গজ দূরে বল বসিয়ে হিট করে খেলা পুনরাস্ত করতে হবে।
৬. পেনাল্টি স্ট্রোকের ঘোষণার সময় হতে খেলা পুনরাম্ভের সময় পর্যন্ত যে সময় নষ্ট হবে তা খেলার সময় হিসেবে ধরা হবে না যেহেতু পেনাল্টি-স্ট্রোক দেয়ার সাথে সাথে খেলার সময় বা ঘড়ি বন্ধ রাখা হয়
শাস্তি
(১) গোলকীপার কর্তৃক যে কোন আইন ভংগের জন্য যদি কোন পক্ষে একটি সম্ভাব্য গোল রক্ষা হয়ে থাকে তবে দলের গোল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে। (শাস্তি ৩ ধারা দ্রষ্টব্য)।
(২) আক্রমণকারীর যে কোন আইন ভংগ অপরাধের জন্য আম্পায়ার রক্ষণ দলকে একটি ফ্রি-হিট দিয়ে খেলা পুনরায় আরম্ভ করতে পারেন। আরম্ভ শটটি গোল। লাইনের মধ্যবর্তী স্থানে গোল লাইনের কিনার হতে ১৬ গজ দূরে বসিয়ে করতে হবে।
(৩) ১৫ ২ (গ) অথবা ১৫৪ (ক) আইন ভংগ হলে আম্পায়ার পেনাল্টি স্ট্রোকটি পুনরায় নেবার আদেশ দিতে পারেন।
খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের জন্য নির্দেশনা
এটি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে, পেনাল্টি-স্ট্রোক এমন ধরনের আইন ভংগের কারণে প্রয়োগ করতে হবে যার ফলে প্রকৃতপক্ষে খেলাটি বিঘ্নিত হয়ে পড়তে পারে, আম্পায়ার তখনি এই আইন প্রয়োগ করবেন যখন পেনাল্টি কর্ণার থেকে অধিক শাস্তি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করবেন ।
১. পেনান্টি স্ট্রোকটি কোন কোন ক্ষেত্রে দেয়া যেতে পারে সেই সমস্ত বিষয়গুলির প্রতি নজর রাখতে হবে এবং সেগুলি দিতে হবে যদি আম্পায়ারের মতে বৃত্তের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ১২, ১৪, ১৭.২ (ঙ) ভংগ করা হয়ে থাকলে, এমনকি গোল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও উক্ত আইনগুলি ভংগ করা হলে স্ট্রোকটি দিতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভংগটি এমন একজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে হতে হবে যার দখলে বলটি ছিল বা বলটি ধরার সুযোগ ছিল।
২. (ক) স্ট্রোক নেয়ার সময় গোল কীপারকে হেলমেট পরে নেয়ার জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছে। গোল কীপার যদি হেলমেট ব্যবহার করে থাকেন তবে তার হেলমেট খুলে ফেলতে পারবেন না। যদি আক্রমণকারী দলের গোল- কীপার স্ট্রোক নেন তবে তিনি হেলমেট অথবা দস্তানা খুলে ফেলতে পারবেন। একইভাবে কোন বদলি গোলকীপারের ক্ষেত্রেও পরতে দেরি না করে হেলমেট ও হাতে দস্তানা ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে।
(খ) আক্রমণকারী কর্তৃক আইন ১৬.২ (গ) ভংগ হওয়ায় কোন গোল হয়ে থাকলে বা রক্ষণকারী দ্বারা কোন গোল না হয়ে থাকলে স্ট্রোকটি পুনরায় নিতে হবে।
(গ) আক্রমণকারী কর্তৃক আইন ভংগ হলে তাতে কোন গোল হয়ে থাকলে বা রক্ষণকারী দ্বারা আইন ভংগ হলে এবং তাতে কোন গোল না হয়ে থাকলে স্ট্রোকটি পুনরায় নিতে হবে।
(ক) আক্রমণকারী যদি আম্পায়ারের বাঁশির সংকেত দেবার আগেই স্ট্রোকটি করে ফেলেন তবে রক্ষণদল কর্তৃক ফ্রি হিটের মাধ্যমে খেলা পুনরায় শুরু হবে।
যদি অহেতুক বিলম্ব বা অসদারচণের দ্বারা রক্ষণকারী দল বা আক্রমণকারী এই আইনের কোন বিধান ভংগ করেন তবে ১২.৪ ধারা অনুসারে আম্পায়ার এই অসদাচরণের জন্য শাস্তি দেবেন।
আইনের ১৬.৩ (ক) ১৬.৪ (গ) ধারা লংঘিত হলে আম্পায়ার বৃত্তের ১৬ গজ দূর থেকে একটি ফ্রি-হিট দেবেন।
