প্রিমিয়ার লিগে কোচভিত্তিক ব্যয়ের চিত্র

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জানুয়ারির দলবদলের জানালা মানেই নতুন উত্তেজনা, নতুন হিসাব–নিকাশ। মৌসুমের মাঝপথে এই সময়টিকে অনেক ক্লাবই ব্যবহার করে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে কিংবা শিরোপা ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার দৌড়ে বাড়তি শক্তি যোগ করতে। আবার অবনমন অঞ্চলে থাকা দলগুলোর জন্য শীতকালীন দলবদল অনেক সময় হয়ে ওঠে ‘বাঁচা–মরার লড়াই’। আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুলের মতো শীর্ষ ক্লাব থেকে শুরু করে উলভস, ওয়েস্ট হাম বা এভারটনের মতো দল—সবার চোখই থাকে বাজারে।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কোন কোচের অধীনে কোন ক্লাব খেলোয়াড় কেনায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এখানে ‘নেট খরচ’ বলতে বোঝানো হয়েছে—খেলোয়াড় কেনার মোট ব্যয় থেকে খেলোয়াড় বিক্রি করে পাওয়া অর্থ বাদ দেওয়া পরিমাণ। চলতি মৌসুমে দায়িত্বে থাকা কোচদের পাশাপাশি সদ্য ছাঁটাই হওয়া চেলসির এনজো মারেসকা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রুবেন আমোরিমকেও এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি নেট খরচের শীর্ষে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির সফল কোচ পেপ গার্দিওলা। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি খেলোয়াড় কেনায় নেট ব্যয় করেছেন প্রায় ১,০৩০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল বিনিয়োগের বিনিময়ে সিটি একাধিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও ইউরোপীয় সাফল্য পেয়েছে, যা গার্দিওলার ব্যয়ের যৌক্তিকতাই তুলে ধরে।

দ্বিতীয় স্থানে আর্সেনালের মিকেল আরতেতা। ২০১৯ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি উত্তর লন্ডনের ক্লাবটিতে প্রায় ৮৯৯ মিলিয়ন ইউরো নেট খরচ করেছেন। সময়ের ব্যবধানে তুলনামূলক কম হলেও তাঁর গড়া তরুণ দল এখন শিরোপা লড়াইয়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বী।

তৃতীয় স্থানে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এডি হাউ। ২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর অধীনে ক্লাবটির নেট খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৩ মিলিয়ন ইউরো। সৌদি মালিকানার পর বড় বিনিয়োগ হলেও সমালোচকদের মতে, প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা এখনও পুরোপুরি আসেনি।

চতুর্থ স্থানে লিভারপুলের আর্নে স্লট। তুলনামূলক কম সময় দায়িত্বে থেকেও তাঁর অধীনে নেট খরচ প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ইউরো। তাঁর ঠিক পরেই আছেন সদ্য বিদায়ী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ রুবেন আমোরিম, যার নেট খরচ ছিল প্রায় ২০৮ মিলিয়ন ইউরো।

তালিকায় চমকও কম নয়। টটেনহামের কোচ টমাস ফ্রাঙ্ক ষষ্ঠ স্থানে, আর জানুয়ারি ২০২৫-এ দায়িত্ব নেওয়া এভারটনের ডেভিড ময়েস আছেন দশম স্থানে। অন্যদিকে, বড় বাজেটের ক্লাব চেলসির সাবেক কোচ এনজো মারেসকার নেট খরচ তুলনামূলক কম, কারণ তাঁর সময়ে বড় অঙ্কের খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছে। আরও বিস্ময়কর হলো, অ্যাস্টন ভিলার উনাই এমেরির অবস্থান ১৩তম, যেখানে তাঁর অধীনে নেট খরচ মাত্র ৪৭ মিলিয়ন ইউরো।

নিচের টেবিলে উল্লেখযোগ্য কোচদের নেট খরচের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

অবস্থানকোচক্লাবদায়িত্বকালনেট খরচ (ইউরো)
পেপ গার্দিওলাম্যানচেস্টার সিটি২০১৬–বর্তমান১,০৩০ মিলিয়ন
মিকেল আরতেতাআর্সেনাল২০১৯–বর্তমান৮৯৯ মিলিয়ন
এডি হাউনিউক্যাসল২০২১–বর্তমান৪৬৩ মিলিয়ন
আর্নে স্লটলিভারপুল২০২৩–বর্তমান২৫৮ মিলিয়ন
রুবেন আমোরিমম্যানচেস্টার ইউনাইটেড২০২৪২০৮ মিলিয়ন
টমাস ফ্রাঙ্কটটেনহাম২০২৪–বর্তমান১৬৮ মিলিয়ন
১০ডেভিড ময়েসএভারটন২০২৫–বর্তমান১১৭ মিলিয়ন
১৩উনাই এমেরিঅ্যাস্টন ভিলা২০২২–বর্তমান৪৭ মিলিয়ন

সব মিলিয়ে দেখা যায়, প্রিমিয়ার লিগে সাফল্য ও ব্যয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকলেও সব সময় বেশি খরচই যে সেরা ফল দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কোচের কৌশল, খেলোয়াড় বাছাইয়ের দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।

Leave a Comment