বর্ণবাদী আচরণের শিকার সেন্ট-ম্যাক্সিমিন, পাশে দাঁড়িয়েছে লেন্স

ফুটবল অঙ্গনে বর্ণবাদের কালো ছায়া যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার এই ঘৃণ্য মানসিকতার শিকার হয়েছেন ফরাসি উইঙ্গার অ্যালান সেন্ট-ম্যাক্সিমিন। মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকার পাঠ চুকিয়ে ফ্রান্সে ফেরার পরও তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসিত বর্ণবাদী আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর বর্তমান ক্লাব আরসি লেন্স।

মেক্সিকো ত্যাগের নেপথ্য কারণ

২৮ বছর বয়সী এই ফরাসি তারকা গত আগস্টে মেক্সিকান ক্লাব আমেরিকায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তির এক বছর না পেরোতেই তিনি ক্লাবটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রধান কারণ ছিল তাঁর সন্তানদের ওপর চালানো ধারাবাহিক বর্ণবাদী আক্রমণ। সেন্ট-ম্যাক্সিমিন জানান, পেশাদার ফুটবলার হিসেবে তিনি নিজের ওপর আসা সমালোচনা সইতে পারেন, কিন্তু তাঁর সন্তানদের নিশানা করা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। নিজের জীবনের অগ্রাধিকার হিসেবে সন্তানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তিনি মেক্সিকো থেকে ফ্রান্সে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

লেন্সের কড়া পদক্ষেপ ও প্রতিবাদ

শীতকালীন দলবদল উইন্ডোতে ছয় মাসের চুক্তিতে লেন্সে যোগ দেওয়ার পর লেন্সের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোতেও তাঁকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য আসতে শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ক্লাবটি তাদের কিছু পোস্টের কমেন্ট সেকশন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। লেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই ধরনের ঘৃণ্য আচরণের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ক্লাবটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা সম্মান ও সহনশীলতার আদর্শে বিশ্বাসী এবং যেকোনো মূল্যে তাদের খেলোয়াড় ও তাঁর পরিবারের পাশে থাকবে।

সেন্ট-ম্যাক্সিমিনের ফুটবল ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক গতিপথ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

সময়কালক্লাবের নামদেশচুক্তির ধরণ/অবস্থা
২০১৯–২০২৩নিউক্যাসেল ইউনাইটেডইংল্যান্ডদীর্ঘমেয়াদী নিয়মিত পারফরম্যান্স
২০২৩–২০২৪আল-আহলি/ফেনারবাচসৌদি আরব/তুরস্কআল-আহলি থেকে ফেনারবাচে ধারে খেলা
২০২৪ (আগস্ট)ক্লাব আমেরিকামেক্সিকোবর্ণবাদের কারণে মাঝপথে চুক্তি বাতিল
২০২৬ (জানুয়ারি)আরসি লেন্সফ্রান্স৬ মাসের স্বল্পমেয়াদী চুক্তি

খেলোয়াড়ের আবেগঘন বার্তা

সেন্ট-ম্যাক্সিমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সমস্যাটি গায়ের রঙে নয়, সমস্যাটি মানুষের চিন্তার রঙে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় হওয়ার পথে তিনি অনেক লড়াই দেখেছেন, কিন্তু সন্তানদের ওপর আক্রমণ তাঁর কাছে অসহনীয়। তাঁর তিন সন্তান—লিয়ানা, নিনহিয়া এবং দেদে-র নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

ফুটবল বিশ্বে বর্ণবাদ নিরসনে ফিফা এবং উয়েফা বিভিন্ন কঠোর আইন প্রণয়ন করলেও মাঠের বাইরে এবং বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের অপরাধ বেড়েই চলেছে। লেন্সের এই সাহসী অবস্থান এবং সেন্ট-ম্যাক্সিমিনের প্রতিবাদ বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ বিরোধী সচেতনতাকে আবারও চাঙ্গা করে তুলেছে।

Leave a Comment