বার্সেলোনা: ইউরোপের গোল উৎসবের শীর্ষে

হান্সি ফ্লিকের নেতৃত্বে বার্সেলোনা এই মুহূর্তে ইউরোপের ফুটবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেখানে অনেক দল গোলের জন্য নির্ভর করে এক বা দুই খেলোয়াড়ের ওপর, ফ্লিকের বার্সেলোনার ক্ষেত্রে গোল আসছে দলবদ্ধভাবে। কোচের কৌশল বদলানোর ঝুঁকি কমেছে, কারণ যে কাউকে নামালেই ফলাফলের প্রভাব পড়ে। গোলদাতার কোনো অভাব নেই এ দলেই।

শনিবার রাতে স্প্যানিশ প্রিমিয়ার লিগের ২২তম রাউন্ডে বার্সেলোনা এলচের মাঠে ৩–১ গোলে জয় অর্জন করে। এই জয়ের ফলে রিয়ালের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখে বার্সা। ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব আসে লামিনে ইয়ামাল, ফেরমিন লোপেজ এবং মার্কাস রাশফোর্ডের কাছে।

লোপেজ ও রাশফোর্ড এই ম্যাচে নিজেদের চলতি মৌসুমের দশম গোল করেন। ফলে বার্সেলোনার হয়ে ১০ বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা এখন ছয়জন। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন ফেরান তোরেস, রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল ও রবার্ট লেভানডফস্কি।

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ লিগের মোট ৯৬টি ক্লাবের মধ্যে শুধুমাত্র বার্সেলোনা এমন নজির তৈরি করেছে, যেখানে ছয়জন খেলোয়াড়ই চলতি মৌসুমে অন্তত ১০টি গোল করেছেন। অন্য কোনো ক্লাব এই ধরনের সমন্বয় তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বায়ার্ন মিউনিখের ক্ষেত্রে তিনজনের এই রেকর্ড আছে, যেখানে হ্যারি কেইন একাই ৩৬ গোল করেছেন, আর লুইস দিয়াজ (১৫) ও মাইকেল ওলিসের (১৩) গোল মিলিয়ে কেইনের যোগফলের সমান হয় না।

বার্সেলোনার গোলদাতাদের অবস্থা নিম্নরূপ:

খেলোয়াড়গোল (চলতি মৌসুম)
ফেরান তোরেস১৬
রাফিনিয়া১৩
লামিনে ইয়ামাল১৩
রবার্ট লেভানডফস্কি১২
ফেরমিন লোপেজ১০
মার্কাস রাশফোর্ড১০

এ টেবিলই প্রমাণ করে, বার্সেলোনার গোল আসছে একাধিক উৎস থেকে। দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারদের সাথে নবীন খেলোয়াড়রা সমানভাবে গোলের দায়িত্ব ভাগাভাগি করছে। একে বলা যায় ‘দলগত গোল উৎসব’।

ফ্লিকের কৌশল, খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং দলগত সমন্বয় মিলিয়ে বার্সেলোনা এখন শুধুমাত্র স্প্যানিশ লিগে নয়, ইউরোপের অন্যান্য প্রধান লিগেও উদাহরণ স্থাপন করেছে। গোলদাতার এমন সমৃদ্ধ তালিকা অন্যান্য ক্লাবকে ঈর্ষান্বিত করার জন্য যথেষ্ট। এর ফলে শীর্ষ স্থান ধরে রাখা এবং চলতি মৌসুমে একাধিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment