ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান–পতন, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে হান্নান সরকারের যাত্রা ছিল একেবারেই গল্পের মতো। জাতীয় দলে ওপেনার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে খুব বেশি সময় ধরে জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। কিন্তু ক্রিকেট ছাড়েননি কখনোই—বরং অন্য মঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সেই পথেই তিনি এখন পৌঁছে গেলেন সবচেয়ে বড় দায়িত্বে—বিপিএলের দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ।
দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হলে ক্রিকেটমহলে স্বস্তির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়—দেশি কোচদের নতুন উত্থান কি শুরু হলো?
হান্নানের সঙ্গে কাজ করবেন তাঁরই সমসাময়িক আরেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ। দুজনই শান্ত মেজাজের, পরিশ্রমী এবং ক্রিকেটকে বিজ্ঞান হিসেবে বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসেন। এতে রাজশাহীর ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেই ধারণা করছেন অনেকে।
হান্নানের কোচিং যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে, যখন তিনি বিসিবির লেভেল–ওয়ান সার্টিফিকেট অর্জন করেন। এরপর লেভেল–টু সম্পন্ন করে দ্রুতই পরিচিতি পান একজন দায়িত্বশীল কোচ হিসেবে। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে দুরন্ত রাজশাহীর সহকারী কোচ হিসেবে তিনি দারুণ কাজ করেন। সেই অভিজ্ঞতাই এবার তাঁকে প্রধান কোচের চেয়ারে বসিয়েছে।
রাজিন সালেহ বর্তমানে বিসিবির এইচপি ইউনিটের ব্যাটিং কোচ। তরুণ ব্যাটারদের উন্নতিতে তাঁর অবদান ব্যাপক। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছেন অনেক প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়। গত কয়েক মৌসুমে বিপিএলের বিভিন্ন দলে তাঁর কোচিং অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পরিণত করেছে।
এবার রাজশাহীর দলে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নিজের শহরের জন্য খেলার আবেগ তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল। শান্ত জানান, “রাজশাহী আমার ঘর, এই দলের জার্সি পরা অন্য অনুভূতি।”
এতসব ঘটনার ফলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স যেন এক নতুন অধ্যায় শুরু করল। বিদেশি কোচের ট্রেন্ড ভেঙে দলটি দেখাতে চায়—দেশি কোচরাও সমান দক্ষ।
দলের এক কর্মকর্তা বলেন, “হান্নান ভাই ও রাজিন ভাই আমাদের খেলোয়াড়দের গল্প, তাদের সংগ্রাম, তাদের মানসিকতা জানেন। বিদেশি কোচদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।”
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দল নয়, পুরো বিপিএলকেই বদলে দিতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কোচরা এমন সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
রাজশাহীর দর্শকদের মধ্যেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, স্থানীয় খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে এবং দেশি কোচের নেতৃত্বে দলটি এবার সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দল গঠন, পরিকল্পনা এবং ভোট অফ কনফিডেন্স—সবই বলে দিচ্ছে, বিপিএলে এবার নতুন গল্পের জন্ম হতে যাচ্ছে।
