লিওনেল মেসি, যার বয়স এখন ৩৯, এখনও ফুটবলের মহাকাব্যে নিজের অনন্য ছাপ রেখেছেন। সাধারণ কোনো খেলোয়াড় হয়তো এত বয়সে বুট তুলে ড্রয়িংরুমে বসে খেলা দেখতেন, কিন্তু এলএম-টেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। তার বাম পায়ের জাদু এখনও বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখছে।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়েই তিনি মাঠে নামবেন। এই বয়সে শরীরের সহনশীলতা কি আগের মতো থাকবে? অনেকেই মেসির অতিরিক্ত বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইন্টার মায়ামির কোচ Javier Mascherano মনে করছেন, মেসি যত বেশি মাঠে খেলবেন, ততই তার শরীর ও মন সক্রিয় থাকবে।
মেসির আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে। তার সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২৬ মার্চ | মৌরিতানিয়া | প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ |
| ৩১ মার্চ | জাম্বিয়া | প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ |
মেসি এখনও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে তিনি ধাপে ধাপে এগোতে চান এবং প্রতিটি মুহূর্তে শরীরের সাড়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। বড় কোনো চোট না হলে বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় দলে যোগদানের আগে রোববার ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমে মেসি একটি গোল করেন নিউইয়র্ক সিটির বিপক্ষে। এটি তার ক্যারিয়ারের ৯০১তম গোল হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিশ্রামের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। লাল কার্ডের কারণে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অনলাইনে বক্তব্য দেন মাচেরানো।
তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি ওর যত্ন নিতে। তবে মেসির মতো একজন খেলোয়াড় মাঠে থাকলেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। খেলতে থাকলে তার শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সে অপরিহার্য। সত্যি বলতে, মেসি ছাড়া আমাদের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়।”
ক্লাব ও কোচের পরিকল্পনা
ইন্টার মায়ামির জন্য এখন শুধুই মেজর লিগ সকারের ব্যস্ততা। সপ্তাহে বড়জোর একটি ম্যাচ হয়, মাঝসপ্তাহে চাপ কম থাকে। মাচেরানো ও মেসির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের—বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা এবং মায়ামি—সব জায়গায় তাদের বোঝাপড়া গভীর। তাই বিশ্বকাপের আগে মেসিকে নিয়ে ক্লাবের কোনো তাড়াহুড়া নেই, আছে কেবল নিখুঁত পরিকল্পনা ও মনোযোগ।
মাচেরানো আরও বলেন, “আমার মনে হয় আগামী দুই মাসে খুব বেশি মাঝসপ্তাহে ম্যাচ নির্ধারিত নয়। প্রতি সপ্তাহে একটি করে ম্যাচ খেললে তার জন্য সেটি প্রেরণার উৎস হবে।”
মোট কথা, বিশ্বকাপের আগে মেসিকে বাড়তি বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা নেই, বরং মাঠের লড়াই তাকে আরও সতেজ ও প্রেরণাদায়ক রাখবে।
