বিশ্বকাপে মানবাধিকার উদ্বেগের সতর্কতা

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে যাওয়া দর্শক ও সমর্থকরা ‘উদ্বেগজনক মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ শিকার হতে পারেন।

অ্যামনেস্টির মতে, ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলো বিশ্বকাপকে “নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও হৃদয়গ্রাহী” করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখন সংকট দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সীমিত করার কারণে সমর্থক ও সাধারণ মানুষের জন্য টুর্নামেন্টের পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আয়োজক দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে ১১টি যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাকি কানাডা ও মেক্সিকোতে। সংস্থাটি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দেশমূল উদ্বেগবিশেষ পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্রবৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতিআইসিই ও সিবিপি এজেন্টদের মাধ্যমে গণগ্রেপ্তার, কঠোর ভিসা শর্ত
মেক্সিকোক্রমবর্ধমান সহিংসতা১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, সেনাবাহিনী সহ
কানাডাগৃহহীনদের অধিকারটরন্টোর শীতকালীন উষ্ণতা কেন্দ্র বন্ধ, ফিফার ব্যবহারের জন্য ভেন্যু সংরক্ষিত

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ চলাকালীন সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। কানাডার টরন্টোতে গৃহহীনদের জন্য উষ্ণতা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি ও ভিসা বাধা

যুক্তরাষ্ট্রে ১০৪টি ম্যাচের ৭৮টি অনুষ্ঠিত হবে। অ্যামনেস্টি অভিযোগ করেছে, দেশটির অভিবাসন ও শুল্কারোপ (আইসিই) এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (সিবিপি) এজেন্টরা মাস্ক পরিহিত সশস্ত্র অবস্থায় গণগ্রেপ্তার ও অবৈধ দেশান্তরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

বিশ্বকাপ সমর্থকদের জন্য ভিসা শর্তও কঠোর করা হয়েছে। কিছু দেশে পর্যটককে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত ‘বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। এই ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ বিশ্বের ৫০টি দেশকে প্রভাবিত করেছে, যার মধ্যে পাঁচটি দেশ এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে।

দেশপ্রভাবিত সমর্থককার্যকর তারিখ
আলজেরিয়াফাইনাল দর্শক২১ জানুয়ারি ২০২৬
কেপ ভার্দেপ্রথমবারের বিশ্বকাপ যোগ্যতা২১ জানুয়ারি ২০২৬
সেনেগালফাইনাল দর্শক২১ জানুয়ারি ২০২৬
আইভরি কোস্টফাইনাল দর্শক২১ জানুয়ারি ২০২৬
তিউনিসিয়াফাইনাল দর্শক২ এপ্রিল ২০২৬

অ্যামনেস্টির স্টিভ ককবার্ন জানিয়েছেন, “আইনি সুরক্ষার দুর্বলতার কারণে অবৈধ গ্রেপ্তার ও দেশান্তরের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। লাখ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা সমর্থকদের ওপরও প্রভাব ফেলবে।”

আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিশ্বকাপ যেন নিরাপদ ও সফল হয়, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তবে ফিফা এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি।

অ্যামনেস্টি আবারও সতর্ক করেছে যে, আয়োজক দেশগুলো মানুষের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দিলে টুর্নামেন্টে সমর্থক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলের মজা ও আনন্দ শুধুমাত্র আয়ের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

মোটকথা, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু খেলার মেলা নয়, এটি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারেরও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে চলেছে।

Leave a Comment