মেক্সিকোর মাদক চক্রের সহিংসতা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ–এ সহ–আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে: আন্তর্জাতিক দর্শক এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই দায়িত্ব পূরণের জন্য মেক্সিকো ঘোষণা করেছে প্রায় ১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা, যার নাম রাখা হয়েছে ‘প্ল্যান কুকুলকান’, যা মায়া সভ্যতার সর্পদেবতা কুকুলকান থেকে প্রেরণা পেয়েছে।
বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর তিনটি শহরে। মেক্সিকোর মধ্যে আয়োজক শহরগুলো হল:
| শহর | রাজ্য/অঞ্চল | নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ |
|---|---|---|
| গুয়াদালাহারা | জালিস্কো | গত মাসে সহিংসতা, ১২ হাজারের বেশি নিখোঁজ |
| মন্তেরে | নুয়েভো লিওন | তুলনামূলক স্থিতিশীল |
| মেক্সিকো সিটি | ফেডারাল জেলা | স্থিতিশীল, তবে পর্যটন ও শহর কেন্দ্র নিরাপত্তা জোরদার |
মেক্সিকোর জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (CJNG) দেশের অন্যতম সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধী সংগঠন। তাদের নেতা ‘এল মেনচো’ (নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস) সেনা অভিযানে নিহত হওয়ার পর থেকে সংগঠনটি মেক্সিকান সেনার সঙ্গে গুলিবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েছে। এল মেনচোকে ধরার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। সাম্প্রতিকভাবে জাপোপান শহরের একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে তাঁকে দাফন করা হয়।
মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম শুক্রবার নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং নিশ্চিত করেন, ‘সফল ও নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব’। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও মন্তব্য করেছেন, তিনি মেক্সিকোর সক্ষমতায় “খুবই আশ্বস্ত”।
প্ল্যান কুকুলকান: নিরাপত্তার প্রস্তুতি
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ সমন্বয়কেন্দ্রের প্রধান রোমান ভিল্লালভাজো জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার আওতায় থাকবে:
| বিভাগ | সংখ্যা/প্রস্তুতি |
|---|---|
| সামরিক সদস্য | ২০,০০০ |
| পুলিশ সদস্য | ৫৫,০০০ |
| বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী | ২৪,০০০ (প্রায়) |
| সামরিক ও বেসামরিক যান | ২,৫০০ |
| বিমান ও ড্রোন | ২৪ |
| বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর | বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক বস্তু শনাক্তের জন্য প্রস্তুত |
মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করবে যে আয়োজক শহর এবং পর্যটন এলাকা–এ দর্শক, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরা নিরাপদ থাকবেন।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকো সিটিতে, যেখানে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং কার্যক্রমের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা মেক্সিকোকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে গেছে।
মোট কথা, ‘প্ল্যান কুকুলকান’ শুধুমাত্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা নয়, এটি মেক্সিকোর বিশ্বকাপের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক সম্মান নিশ্চিত করার বড় হাতিয়ার।
