আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত নতুন টিকিটমূল্য কাঠামো বিশ্বজুড়ে সমর্থক ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন এই মূল্যনীতিতে বিভিন্ন শ্রেণির আসনের জন্য আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট আসনের মূল্য অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মাঠের একেবারে সামনের সারির আসনগুলো এখন সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ মানের সামনের সারির আসনের দাম সর্বোচ্চ চার হাজার একশ পাঁচ মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। এর আগে একই ম্যাচের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল দুই হাজার সাতশ পঁয়ত্রিশ ডলার। কিন্তু নতুন করে একটি অতিউচ্চমূল্যের শ্রেণি যুক্ত হওয়ায় মোট মূল্য আরও বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকিট বিক্রির অনলাইন ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বাইরে কয়েকটি নতুন স্তর যুক্ত করা হয়েছে। এতে একই ভেন্যুর ভেতর আসনভেদে বড় ধরনের মূল্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে “সামনের সারি” হিসেবে চিহ্নিত আসনগুলো এখন আলাদা উচ্চমূল্যের ক্যাটাগরিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
নিচে বিভিন্ন ম্যাচ ও আসনভিত্তিক টিকিটমূল্যের তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—
| ম্যাচের ধরন | আসনের শ্রেণি | সর্বনিম্ন মূল্য (ডলার) | সর্বোচ্চ মূল্য (ডলার) |
|---|---|---|---|
| উদ্বোধনী ম্যাচ | সামনের সারি | ১৯৪০ | ৪১০৫ |
| উদ্বোধনী ম্যাচ | উচ্চমান সাধারণ আসন | ২৭৩৫ | ২৭৩৫ |
| কানাডায় উদ্বোধনী ম্যাচ | সামনের সারি | — | ৩৩৬০ |
| শেষ ষোলোর ম্যাচ | সাধারণ আসন | — | ৯০৫ |
| ফাইনাল ম্যাচ | সর্বোচ্চ শ্রেণি | — | ১০৯৯০ |
| ফাইনাল ম্যাচ | মধ্যম শ্রেণি | — | ৭৩৮০ |
| ফাইনাল ম্যাচ | সাধারণ শ্রেণি | — | ৫৭৮৫ |
বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটমূল্য এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বোচ্চ শ্রেণির টিকিটের দাম প্রায় এগারো হাজার ডলার, যা আগের আসরের তুলনায় কয়েক হাজার ডলার বেশি। মধ্যম ও সাধারণ শ্রেণির টিকিটও যথাক্রমে সাত হাজার ও পাঁচ হাজার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
আয়োজক সংস্থার দাবি, টিকিটের বিপুল চাহিদা এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই নতুন মূল্যনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, এতে আসন বণ্টন আরও কার্যকর হবে এবং স্টেডিয়ামে দর্শক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পরিবর্তনশীল মূল্যনীতি সাধারণ দর্শকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং ফুটবলকে ধীরে ধীরে উচ্চবিত্তদের বিনোদনে পরিণত করছে।
আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার মোট ষোলটি শহরে। মোট একশ চারটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এবার প্রথমবারের মতো আটচল্লিশটি দল অংশ নেবে। ফলে প্রতিযোগিতা যেমন বিস্তৃত হচ্ছে, তেমনি দর্শক চাহিদাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন মূল্যনীতি সাধারণ মানুষের জন্য স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা উপভোগ করা প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। অন্যদিকে আয়োজকরা আশাবাদী যে, উচ্চমূল্য সত্ত্বেও বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ও দর্শক উপস্থিতি কোনোভাবেই কমবে না এবং সব ম্যাচই পূর্ণ দর্শকে ভরবে।
