ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী ফেব্রুয়ারির টি-২০ বিশ্বকাপের মাধ্যমে আফগানিস্তান জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব শেষ করবেন জোনাথন ট্রট। সোমবার আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) এই ঘোষণা দেয়। বিশ্বকাপের পরবর্তী লম্বা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রটের সঙ্গে সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটানোর কথা জানানো হয়েছে এসিবি থেকে।
সাবেক ইংল্যান্ড ব্যাটার ট্রটের অধীনে আফগানিস্তান সাদা বলের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ছয়ে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে এসে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ডাবল সেঞ্চুরির কারণে তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়।
পরবর্তী বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছায় আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টে তারা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশকে পরাজিত করে। তবে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারিয়ে তারা বিদায় নেয়। এছাড়া ট্রটের অধীনে আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে।
ট্রট তার দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বলেন, “আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করা ছিল একটি সম্মানজনক অভিজ্ঞতা। তাদের মধ্যে সেরাটা পাওয়ার জন্য যে ক্ষুধা, আবেগ এবং চেষ্টা রয়েছে, তা দেখার অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত। আমরা যে কিছু অর্জন করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। আমি সবসময় আফগান ক্রিকেটের একজন ভক্ত হিসেবে থাকব এবং দল ও দেশের ভবিষ্যত সাফল্য কামনা করছি।”
এসিবির সিইও নাসিব খান বলেন, “আমাদের ক্রিকেট যাত্রায় ট্রট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ক্রিকেটারদের বেড়ে উঠতে সহায়তা করেছেন এবং বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সাহস যুগিয়েছেন। আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছি, এবং এই পরিবর্তন সেই পরিকল্পনার অংশ।”
এসিবির চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফ বলেন, “জাতীয় দলকে ট্রট যে পেশাদারিত্ব শিখিয়েছেন এবং কাজের প্রতি তার ত্যাগের জন্য আমরা এসিবির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার সহায়তায় আফগান ক্রিকেট একটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার ভবিষ্যত সাফল্য কামনা করি।”
কিছুদিন আগে ট্রট ও এসিবির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কিছু ঝামেলার খবর শোনা গিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে। ট্রট মন্তব্য করেছিলেন, দল নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয় না। তবে পরে এসিবির সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, এটি ছিল একটি ভুলবোঝাবুঝি। এর পরই আসে তার চাকরি ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
