২৬ মে ২০০৫ থেকে ১৯ নভেম্বর ২০২৫—সময় হিসেবে হিসাব করলে প্রায় ২০ বছর ৫ মাস এবং ১২৪ দিন, মোট ৭,৪৮২ দিন। এই দীর্ঘ যাত্রার পর, মুশফিকুর রহিম প্রস্তুত হচ্ছেন তার ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট খেলার জন্য। ক্রিকেটের ইতিহাসে শততম টেস্ট খেলা কোনো সাধারণ মাইলফলক নয়। এটি শুধুই ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ঘটনা।
টেস্ট ক্রিকেটের দুই শতাব্দীকালীন ইতিহাসে ৮৩ জন ক্রিকেটার শততম টেস্ট খেলেছেন। তবে মুশফিক সেই তালিকায় ৮৪তম হিসেবে নাম লিখাবেন। যেটি বিশেষ করে বিস্ময়কর, তা হলো এই দীর্ঘ সময় ধরে শততম টেস্টে পৌঁছানোর রেকর্ড তার দখলে যাবে। আগের রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রাহাম গুচের, যিনি ১৭ বছর ২০৩ দিনে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। কিন্তু মুশফিক ২০ বছর ৫ মাস ২৪ দিনে পৌঁছাচ্ছেন।
এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে খেলাধুলায় থাকা মানেই ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রম। মুশফিকের এই অর্জন শুধুই বাংলাদেশের ক্রিকেটে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি উদাহরণ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, তুলনামূলকভাবে দ্রুততম শততম টেস্টের রেকর্ডও দেখানো হয়েছে। ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক মাত্র ৭ বছর ২৮৭ দিনে শততম টেস্ট খেলেছিলেন। এর সঙ্গে জো রুট, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, কেভিন পিটারসেন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের নামও যুক্ত।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এটি একটি বড় উৎসাহের খবর। মুশফিকের শততম টেস্ট শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি তার ধৈর্য, প্রতিশ্রুতি এবং ক্রিকেট প্রেমের প্রতীক। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। এবার প্রশ্ন হলো, শততম টেস্টে মুশফিক কি সাফল্যের হাসি ফুটাতে পারবেন?
