ব্রাজিলের ফুটবল অতীতের তুলনায় আগের মতো প্রভাবশালী অবস্থানে নেই—এমন মূল্যায়ন দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচিত। পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী এই দলটি ২০০২ সালের পর আর কোনো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। একই সময়ে দেশটি থেকে একাধিক বিশ্বমানের তারকা ফুটবলারের ধারাবাহিক উত্থানও কমে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম প্রধান সদস্য রোমারিও ব্রাজিলীয় ফুটবলের এই পরিবর্তনের পেছনে দুটি নির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেছেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোমারিও বলেন, বর্তমান সময়ে ব্রাজিল আগের মতো ব্যালন ডি’অর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করতে পারছে না। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে কাকা ব্যালন ডি’অর জয়ের পর আর কোনো ব্রাজিলীয় খেলোয়াড় এই পুরস্কার অর্জন করতে পারেননি। যদিও নেইমার একাধিকবার শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিলেন এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও একবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন, তবে কেউই স্পষ্ট ব্যবধানে সেরা হওয়ার অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি।
রোমারিওর মতে, ব্রাজিলীয় ফুটবলের অবনতির প্রথম কারণ হলো ‘স্ট্রিট সকার’ বা গলির ফুটবলের বিলুপ্তি। অতীতে ব্রাজিলের বহু প্রতিভাবান ফুটবলার বস্তি ও রাস্তায় খেলে নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা গড়ে তুলতেন। রোমারিও নিজেও রিও ডি জেনিরোর ফাভেলা এলাকায় খেলে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক ফুটবলের ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক সৃজনশীলতা এবং সহজাত দক্ষতার বিকাশকে সীমিত করছে।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আধুনিক ফুটবলে শারীরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ। রোমারিওর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ফুটবলে শৈল্পিক দক্ষতা বা ‘ফ্লেয়ার’-এর তুলনায় অ্যাথলেটিক সক্ষমতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ফুটবলধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নিচের সারণিতে রোমারিও উল্লেখিত দুটি প্রধান কারণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| কারণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| স্ট্রিট সকারের বিলুপ্তি | প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলার সুযোগ কমে যাওয়ায় সৃজনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে |
| শারীরিক সক্ষমতার প্রাধান্য | শৈল্পিক দক্ষতার চেয়ে শক্তি ও গতির ওপর জোর দেওয়ায় খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে |
এদিকে, সামনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নিতে ব্রাজিল আবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। তবে এই আসরে নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রোমারিও মনে করেন, দলের সাফল্যের জন্য একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মতে, বর্তমান দলে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি জোয়াও পেদ্রো ও এস্তেভাওয়ের মতো তরুণ প্রতিভারাও রয়েছে, যাদের সম্মিলিত অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিকভাবে, রোমারিওর বিশ্লেষণে ব্রাজিলীয় ফুটবলের পরিবর্তিত ধারা এবং তার প্রভাব সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ ফুটবল কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করে।
