‘সবকিছু বদলে যায়’—এ কথাটি বলেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটি-র বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর তার কথায় ফুটে উঠেছে এক গভীর ব্যথা ও প্রতিশোধের ছাপ। পারফরম্যান্সের আলোচনার বাইরেও এই উদ্যাপন প্রতীকী অর্থে ভিনির দীর্ঘদিনের ক্ষতচিহ্নের প্রকাশ।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে খেলার ২২ মিনিটে প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে আসে। গোলের পর ভিনি ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকার ইঙ্গিত দেন। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে দুই হাত চোখের কাছে নিয়ে কান্নার ভঙ্গি দেখান, যা সিটি সমর্থকদের ওপর সরাসরি ব্যঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এই উদ্যাপন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিনি ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, “গতবার আমরা এখানে এসেছিলাম, তখন সিটি সমর্থকেরা একটি ব্যানার দেখিয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘স্টপ ক্রাইং’। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জেতার সময় রদ্রি আমাকে হারিয়েছিল। ওরা আমাকে নিয়ে মজা করেছিল। আমি কাউকে অবমাননা করতে চাইনি, এটি ছিল নিজের প্রমাণের উপায়।”
সত্যিই, ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ে ভিনিসিয়ুসকে প্রধান প্রার্থী হিসেবে দেখা হয়েছিল, কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার আগে ফাঁস হয়ে যায় যে জিতবেন রদ্রি। রিয়াল মাদ্রিদ তখন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পুরস্কার অনুষ্ঠান বয়কট করে। ক্লাবের পক্ষ থেকে এএফপিকে জানানো হয়, “যদি আমাদের খেলোয়াড়কে বিজয়ী না করা হয়, তাহলে ন্যায্য মানদণ্ডে অন্য কাউকেও বিজয়ী ঘোষণা করা উচিত। যেখানে সম্মান নেই, রিয়াল মাদ্রিদ সেখানে যায় না।”
গত মৌসুমে সিটির বিপক্ষে ম্যাচের সময় গ্যালারিতে ভিনিকে উদ্দেশ্য করে সমর্থকরা ব্যানার নিয়ে এসেছিল—‘কান্না কোরো না’। এবারের উদ্যাপনের রহস্যও এখানেই নিহিত।
নিচের টেবিলে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | দল | ফলাফল | গোলদাতা | স্টেডিয়াম | লক্ষ্যণীয় ঘটনা |
|---|---|---|---|---|---|
| ২০২৬-০৩-১৭ | রিয়াল মাদ্রিদ vs ম্যানচেস্টার সিটি | ২–০ | ভিনিসিয়ুস (২) | ইতিহাদ স্টেডিয়াম | প্রথম গোল পেনাল্টি, কান্নার ভঙ্গি উদ্যাপন |
| ২০২৬-০৩-১০ | রিয়াল মাদ্রিদ vs ম্যানচেস্টার সিটি | ৩–০ | বিভিন্ন | সান্তিয়াগো বার্নাব্যু | প্রথম লেগে জয়, প্রাথমিক প্রিভিউ |
ভিনিসিয়ুসের উদ্যাপন শুধুমাত্র একটি গোল উদ্যাপন নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও নিজের প্রমাণের বহিঃপ্রকাশ। ফুটবলের মাঠে আবেগ ও প্রতিশোধের এই মিলন অবশ্য সমর্থক ও সমালোচকের নজর কাড়তে বাধ্য।
