লিসবনের ঐতিহাসিক দা লুজ স্টেডিয়ামে তিন সপ্তাহ আগের তিক্ত স্মৃতি মুছে ফেলল Real Madrid। ২৮ জানুয়ারি লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে এখানেই ৪-২ গোলে হেরে প্লে-অফে নেমে যেতে হয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টদের। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সেই একই মাঠে ফিরে শেষ ষোলোর প্লে-অফের প্রথম লেগে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে কার্যত প্রতিশোধই নিল কার্লো আনচেলত্তির দল।
শুরু থেকেই বল দখল ও ছন্দে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ১৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাঁ পায়ের জোরালো শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। ৪০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পেও নিশ্চিত গোল মিস করেন—গোলমুখের খুব কাছে গিয়েও বলে সঠিক সংযোগ ঘটাতে পারেননি।
অন্যদিকে ২৪তম মিনিটে স্বাগতিক Benfica গোলের দারুণ সুযোগ পায়। ফ্রেডরিক অউরসনেসের শট দিক বদলে জালে জড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকান রিয়ালের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। প্রথমার্ধে গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়।
৫০তম মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে নিখুঁত শটে জাল কাঁপান ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর ৩১তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কাকাকে (৩০) ছাড়িয়ে যান। তালিকার শীর্ষে আছেন নেইমার (৪৩)।
চ্যাম্পিয়নস লিগে শীর্ষ ব্রাজিলিয়ান গোলদাতা
| খেলোয়াড় | গোল সংখ্যা |
|---|---|
| নেইমার | ৪৩ |
| ভিনিসিয়ুস জুনিয়র | ৩১ |
| কাকা | ৩০ |
গোলের পর ভিনিসিয়ুসের উদ্যাপন ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করলে রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে; ধারাভাষ্যে সম্ভাব্য বর্ণবাদী আচরণের ইঙ্গিতও উঠে আসে। রিয়ালের কোচিং স্টাফ ক্ষুব্ধ ভিনিসিয়ুসকে শান্ত করেন।
ম্যাচের শেষভাগে আরও নাটকীয়তা। ৮৫তম মিনিটে রিয়ালের বক্সে একটি ফাউল নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বেনফিকার কোচ José Mourinho। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান, পরে দ্বিতীয় হলুদ দিয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়তে বলেন। শেষ মুহূর্তে বেনফিকা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও সমতা ফেরাতে পারেনি।
আগামী সপ্তাহে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল।
পিএসজির জয়, জুভেন্টাসের বিপর্যয়
